home top banner

খবর

মরেও হারেনি মেয়েটি
৩০ ডিসেম্বর, ১২
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   40

ধর্ষণের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভরত নারীরা

ধর্ষণের প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভরত নারীরা

মেয়েটি বলেছিল, ‘লড়াই না করে কোনোমতেই হারবে না।’
কথাটা রেখেছে সে। শরীর-মনে ভয়ংকর আঘাত নিয়েও টানা ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে গেছে। চেয়ে গেছে ধর্ষকদের বিচার। দিয়ে গেছে তাদের বিবরণ। তবে শেষ পর্যন্ত জীবন নয়, মৃত্যুই তাকে আপন করে নিল। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গণধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার ২৩ বছরের মেয়েটি গতকাল শনিবার ভোররাতে মারা গেছে।
সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শান্তিতেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে সে। মৃত্যুর সময় আপনজন, ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা তার পাশেই ছিলেন। মেয়েটি চলে গেল। কিন্তু পুরো মানবসভ্যতার ওপর যেন লেপে দিয়ে গেল লজ্জা, অপমান আর পরাজয়ের গ্লানি।
১৬ ডিসেম্বর রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ছাত্রী ওই মেয়েটি তার প্রকৌশলী বন্ধুর সঙ্গে সিনেমা দেখে বাসে চড়ে বাড়ি ফিরছিল। চলন্ত বাসেই মাতাল চালক ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তাকে ধর্ষণ করে। এতেও শেষ হয়নি। লালসা চরিতার্থের পর মেয়েটির যৌনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে তাকে ও নরপশুদের হামলায় আহত তার বন্ধুকে চলন্ত বাস থেকে ছুড়ে ফেলে দেয় তারা।
পত্রপত্রিকায় খবরটি পড়ার পর থেকে এসব দেখতে দেখতে গা সয়ে যাওয়া মনোভাব নিয়ে ভেবেছিলাম, ওহ্! আরেকটা মেয়ে? যাক গে, কী আর হবে? কিন্তু তারপর দেখলাম, ফুঁসে উঠছে ভারত। দেখতে দেখতে মেয়েটির ওপর নির্মমতার প্রতিবাদে, ভারতীয় পুলিশের দায়িত্বহীনতার প্রতিবাদে, প্রচলিত সমাজে বিরাজমান নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলের দাবিতে, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে থাকে ভারতের দিল্লি থেকে লক্ষেৗ। দিনে দিনে তীব্র হয় প্রতিবাদের ভাষা। বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত এক পুলিশ কর্মকর্তা মারা যান। জনগণকে শান্ত হতে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে আবেগঘন ভাষণ দেন। এমনকি ধর্ষিতার বাবাকে দিয়েও ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু কাজ হয়নি।
দিল্লিসহ ভারতের রাজপথগুলোয় নারী ও স্কুলগামী শিশুসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকে। গ্রেপ্তার হয় ছয় ধর্ষক। যে কারাগারে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানেও গণপিটুনির শিকার হয় তারা। বিক্ষোভের মুখে ভারতীয় সরকার দেশটির নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ছেলে অভিজিৎ মুখার্জি মন্তব্য করেন, ‘লিপস্টিক লাগানো আন্দোলনকারীদের নাকি তার আন্দোলনকারী বলেই মনে হয় না’! এই যখন হয় দেশের কর্ণধারের পুত্রের ভাষা, তখন লড়াকু মেয়েটির মুত্যু মানবতার লজ্জা ছাড়া আর কীই-বা হতে পারে।
অভিধান ঘেঁটে দেখা গেল ‘ধর্ষণ’ কথাটার অর্থ: পেশিশক্তির ব্যবহার করে কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে যৌনকর্মে বাধ্য করাকে ‘ধর্ষণ’ বলে। মূলত পুরুষই ধর্ষণ করে থাকে। মার্কিন ব্যুরো অব জাস্টিস স্ট্যাটিসটিকস (১৯৯৯) থেকে জানা গেছে, দেশটির ৯৯ শতাংশ ধর্ষকই পুরুষ। আর ধর্ষণের শিকার মানুষের মধ্যে ৯১ শতাংশ হলো নারী এবং ৯ শতাংশ হলো পুরুষ।
নানাভাবে ও নানা প্রক্রিয়ায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটে চলেছে বিশ্বে। যেমন: গ্যাং রেপ, ওয়ার রেপ, ডেট রেপ ইত্যাদি। যা-ই হোক, মানুষের সম্পত্তি বোধের জন্মলগ্ন থেকেই এই ধর্ষণের মতো অপরাধেরও জন্ম। একসময় এটা অপরাধ বলেও গণ্য হতো না। যুদ্ধে বিজয়ী পক্ষ পরাজিত পক্ষের নারীদের নিজেদের সম্পত্তি জ্ঞান করে তাদের বলাৎকার করত। রাজা-বাদশাদের থাকত শত শত উপপত্নী। রাজারা কখনোই এসব নারীর মতামতের তোয়াক্কা না করেই তাঁদের সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত হতেন। এগুলো অপরাধ বলে ভাবার সাহসই কারও ছিল না। প্রথম রোমে ধর্ষণকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। তখন ধর্ষণের শিকার নারী বা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান ছিল প্রথম ধর্ষণের বিরুদ্ধে করা আইনে। সেই প্রথম ধর্ষণকে একজন মানুষের ক্ষতি হিসেবে দেখার চোখ তৈরি হলো সভ্যতার।
কিন্তু এরপর হাজার বছর পার হলেও, বিজ্ঞান, সভ্যতা অনেক সমৃদ্ধ হলেও ধর্ষণের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির খুব একটা বদল হয়নি। এখনো যে ধর্ষিত হয়, সে খুব কমই বিচার পায়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষটিই সমাজের চোখে হেয় হয়ে সামাজিক সংকটে পড়ে। বিচারের দ্বারস্থ হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকেই প্রমাণ করতে হয় তার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ।
দিল্লির সাম্প্রতিক ঘটনাটি এখন শুধু ভারতের জন্য নয়, সারা পৃথিবীর মানবজাতির জন্য একটি ধাক্কা। সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে যে মেয়েটি বিচারের দাবি করে গেল, সে শুধু নিজের বিচার দাবি করেনি। সভ্যতাকে বুঝতে হবে, সে পুরো মানবজাতির অর্ধেক নারীর ওপর চলমান পুরুষের যাবতীয় নৃশংসতার বিচার চেয়ে গেল। মেয়েটির ওপর ঘটা নৃশংসতার প্রতিবাদে যে নারী, শিশু বা পুরুষ রাস্তায় নেমে এল, তারা দাবি জানাল সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলের।

content aggregation:healthPrior21

source:prothom-alo

http://www.24livenewspaper.com/site/index.php?url=www.prothom-alo.com

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসায় অনীহা দেখানো হয়
Previous Health News: US Senate approves $60.4 bln Sandy aid bill

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')