মায়ের দুধের বিকল্প শিশুখাদ্যবিষয়ক আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সেমিনার, শিক্ষা সফর, অনুষ্ঠান আয়োজন বা আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দেওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তি বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে নগদ অর্থ বা কোনো ধরনের সুবিধা দিতে পারবে না। দিলে দুই বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, জরুরি ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় কৌটা বা প্যাকেটজাত খাবার বা গুঁড়া দুধ সরবরাহ করা যাবে না। একই সঙ্গে বিকল্প শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য প্রতিযোগিতা বা অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারবে না এবং আয়োজনের জন্য আর্থিক সহায়তা দিতে পারবে না।
এসব বিধান রেখে মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য (বাজারজাতকরণ নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২-এর খসড়া নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে সরকার। ১৩ মে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ আইনের ওপর মতামত চেয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশুখাদ্য বাজারজাত নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ বিলুপ্ত করে নতুন এ আইন করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়্যারম্যান ও বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ এস কে রায় প্রথম আলোকে বলেন, খসড়া আইনে বিকল্প শিশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। খসড়াটি আন্তর্জাতিক মানের আইন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যসচিব হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, আইনে শিশুখাদ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শিশুখাদ্য বাজারজাত পর্যবেক্ষণে উপদেষ্টা কমিটি নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে আইনে। তিনি বলেন, সবার সুবিধার জন্য এবারের আইনটি বাংলায় করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা: খসড়ায় বিকল্প শিশুখাদ্য ব্যবহারের সরঞ্জামাদির জন্য বিজ্ঞাপন তৈরি, প্রদর্শনী, বিতরণ, প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে না। নিবন্ধন ছাড়া শিশুখাদ্য আমদানি, বিতরণ, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিক্রয় করা যাবে না।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তি-মালিকানাধীন এবং সাধারণের স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে বিলবোর্ড, টিভি ফুটেজ, প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে বিকল্প শিশুখাদ্যের প্রচার করা যাবে না। উপহার, ডিসকাউন্ট কুপন অথবা বিনা মূল্যে কোনো সামগ্রী দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে জড়িত কোনো ব্যক্তি, ছাত্রছাত্রী, মা এবং পরিবারের কোনো সদস্যকে কোনো প্রস্তাব দিতে পারবে না প্রতিষ্ঠানগুলো।
সচেতনতা: আইনে বলা হয়েছে, ‘মায়ের দুধের বিকল্প কিছুই নেই।’ এই কথা পাত্রের মাঝামাঝি স্থানে পণ্যের নামের সমান করে বাংলায় লিখতে হবে। অপরিষ্কার পানি দিয়ে দুধ তৈরি করলে বা খাওয়ার সরঞ্জাম পরিষ্কার করলে ‘শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর’ তথ্যটি অবশ্যই সতর্কতা হিসেবে লেখা থাকতে হবে। কৌটার গায়ে বা ভেতরে ছবি বা আঁকা ছবি ব্যবহার করা যাবে না।
শাস্তি: আইনের বিধান অমান্য করলে বা অযোগ্যতা গোপন করে লাইসেন্স পেলে সরকার প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে। এ ছাড়া অপরাধ সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে এ অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য বাজেয়াপ্ত অথবা বিনষ্টের জন্য আদালত নির্দেশ দিতে পারবেন।
Source: The Daily Prothom Alo

