রাজধানীতে এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, ২০১৫ সালের পর বিশ্বব্যাপী মেধাস্বত্ব আইন (ট্রেড রিলেটেড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস—ট্রিপস) কার্যকর হলে বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে। অভ্যন্তরীণ বাজারে ওষুধের দাম বাড়বে। এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা।
‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মেধাস্বত্ব আইনের আলোকে দেশের ওষুধশিল্প: প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ আশঙ্কা জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট হলে গতকাল বোরবার এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটি। সেমিনারে বক্তারা ট্রিপসের বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
সেমিনারে মূল উপস্থাপনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি অনুষদের ডিন আ ব ম ফারুক বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৮৭টি দেশে ৮৯৯ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি করে। ১৯৮১-৮২ সালে দেশে নিম্নমানের ওষুধ ছিল ৩৬ শতাংশ। বর্তমানে বাজারের সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ ওষুধ নিম্নমানের। তিনি বলেন, দেশে ওষুধের কাঁচামাল তৈরির অবকাঠামো ২০১৫ সালের মধ্যে সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
আ ব ম ফারুক বলেন, ট্রিপস কার্যকর হলে এ দেশের ওষুধের বাজার বিদেশি কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত হবে। দেশি ওষুধ কোম্পানিগুলো প্রতিযেগিতায় পিছিয়ে পড়বে। ছোট ও মাঝারি ওষুধ কোম্পানি বন্ধ হবে, ওষুধের দাম বাড়বে। সরকারের পক্ষে বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে গর্ভবতী মা ও শিশুরা। তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাছে ট্রিপস কার্যকরের সময়সীমা ২০৩০ সাল করার প্রস্তাব করতে হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী জি এম কাদের বলেন, মেধাস্বত্ব আইন কার্যকর হলে স্বল্পোন্নত দেশ সব সময় ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এটা ঠিক না। তিনি আরও বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মোর্চায় এ বিষয়ে বাংলাদেশ সোচ্চার। তবে সেখানেও বিভিন্ন দেশের নানা স্বার্থ কাজ করে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক এম এম আকাশ বলেন, বিশ্বায়ন চলছে অসমভাবে। পুঁজি ও পণ্যের অবাধ প্রবাহ হচ্ছে। জ্ঞান ও শ্রমের ক্ষেত্রে তা হচ্ছে না। জ্ঞান ও শ্রমের অবাধ প্রবাহের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ওষুধশিল্পে বাংলাদেশের সাফল্য ধরে রাখতে হবে। জনস্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সরকারের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া দরকার।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া সোশ্যাল ফোরামের বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক হিলাল ফয়েজী, বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম আজাদ চীেধুরী বক্তব্য দেন।

