কুমিল্লায় সাড়ে তিন হাজার মানুষ আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত
২৮ এপ্রিল, ১৩
Posted By: Healthprior21
Viewed#: 129
কুমিল্লার ১৬ উপজেলার মধ্যে ১২টিতে তিন হাজার ৬৭৩ জন আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৭৫৫ ও নারী এক হাজার ৯১৮ জন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে ফোঁটা ফোঁটা চিহ্ন দেখা গেছে। কারও কারও হাতে-পায়ে গ্যাংগ্রিন হয়ে গেছে। এ ছাড়া আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় দুজন মারা গেছেন।
জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মুরাদনগরে দুই হাজার ৩৪১ জন, মনোহরগঞ্জে ৪৮০, চান্দিনায় ২৩৩, দেবীদ্বারে ২৩১, দাউদকান্দিতে ২১৮, লাকসামে ৬০, নাঙ্গলকোটে ৩০, ব্রাহ্মণপাড়ায় ৩০, বরুড়ায় ২৯, হোমনায় ১১, চৌদ্দগ্রামে ৯ ও সদর দক্ষিণে একজন আর্সেনিকে আক্রান্ত ব্যক্তি রয়েছেন। তবে জেলার আদর্শ সদর, বুড়িচং, মেঘনা ও তিতাস উপজেলায় আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত কোনো লোক নেই। এ ছাড়া জেলায় আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত সম্ভাব্য ব্যক্তি রয়েছেন এক হাজার ১৩৫ জন।
বেসরকারি সংস্থা এনজিও ফোরাম কুমিল্লা শাখা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৭ জানুয়ারি লাকসামের ফতেহপুর গ্রামের কুদরত উল্লার ছেলে কালা মিয়া ও ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর মনোহরগঞ্জের বাংলাইশ গ্রামের আবুল কাশেম আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এলাকাবাসী জানান, লাকসামের কান্দিরপাড় গ্রামের হামিদা বানু, উত্তরদা গ্রামের কল্পনা রানী ও শান্তি বালা; মনোহরগঞ্জের বাংলাইশ গ্রামের কবির হোসেন ও বাদুয়ারা গ্রামের বিউটি বেগম আর্সেনিকোসিসে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশে পচন ধরেছে। তাঁদের সারা শরীর জ্বালা-পোড়া করে, হাত ও পা চুলকায়।
বাংলাইশ গ্রামের ব্যবসায়ী এমরান হোসেন (৩১) বলেন, ‘১৩ বছর ধরে আমার পুরো শরীরে আর্সেনিক বাসা বেঁধেছে। এখন আমার শরীরের কোনো জায়গায় খালি নেই।’
বাংলাইশ এলাকার পল্লি চিকিৎসক স্বপন দেবনাথ বলেন, এই এলাকায় বহু লোক আর্সেনিকোসিসে ভুগছে। চিকিৎসা হিসেবে শুধু তাঁদের রেক্স ট্যাবলেট দেওয়া হয়।
এনজিও ফোরাম কুমিল্লার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শিশির কুমার রায় বলেন, ‘২০০৬ সাল থেকে মনোহরগঞ্জে আমরা গবেষণা করে ১৪ গ্রামের ৭৭৭টি নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের প্রমাণ পেয়েছি। এ পর্যন্ত আমরা অর্ধশতাধিক নলকূপ গ্রামবাসীর জন্য স্থাপন করে দিয়েছি। এ ছাড়া গ্রামগুলোতে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও শোভাযাত্রা করেছি। ছয় মাস পর পর সেখানকার মানুষের আর্সেনিকোসিস পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া ২০০৬ সালের ডিসেম্বর থেকে চিকিৎসাসেবার আওতায় বিভিন্নজনকে আনা হয়েছে।’
জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন আবুল কালাম সিদ্দিক বলেন, ‘পানির উৎস থেকে মানুষ আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত হয়। লাকসাম ও মনোহরগঞ্জে আর্সেনিকে আক্রান্ত গুরুতর রোগীর সংখ্যা বেশি। তাঁদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটাই প্রধান কাজ। এ জন্য প্রচুর শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে।’
আর্সেনিকোসিসে আক্রান্তদের লক্ষণ: হাত ও পায়ের তালুতে কালো কালো শক্ত দাগ দেখা যায়। একপর্যায়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। শরীরে অস্থির ভাব ও পাতলা পায়খানা হয়। সব সময় কাশি থাকে। একই সঙ্গে চোখ রক্তবর্ণ হয়। এ ছাড়া ব্রংকাইটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফুসফুস, কিডনি, যকৃৎ সমস্যা ও পায়ের গোড়ালি ফুলে যায়। এমনকি শেষ পর্যায়ে ক্যানসারের সৃষ্টি হয়।
source:http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-04-28/news/348311