সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উচ্চবিত্ত ও শহরের ভাসমান জনগোষ্ঠীকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সম্পৃক্ত করা যাচ্ছে না। এতে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়ছে। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ও বেসরকারি সহযোগী উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। আজ শনিবার বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। দিবস উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবার দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘যত দিন বাঁচব যক্ষ্মাকে রুখব।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শিশুদের যক্ষ্মা শনাক্ত করা কঠিন বলে এ ক্ষেত্রে কাজে ঘাটতিও থেকে যাচ্ছে। তবে জাতীয় কর্মসূচির মাধ্যমে শনাক্ত করা ৯২ শতাংশ রোগীই সুস্থ হচ্ছে। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি সন্তোষজনক।
সরকারের জাতীয় কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর মো. আশেক হোসেন বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার ওপর একটি জরিপ শেষ হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, দেশে নতুন রোগীদের মধ্যে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার হার ২ শতাংশের কম। তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ আরও বাড়াতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের দ্বিতীয় আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ার প্রকল্পের পরামর্শক এম লুৎফর রহমান শহর এলাকার যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের সমস্যা তুলে ধরে বলেন, শহরের ভাসমান মানুষের যক্ষ্মা শনাক্ত করা সম্ভব হলেও ছয় মাস নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। একইভাবে শহরের উচ্চবিত্ত রোগীদের পরিসংখ্যানই জানা সম্ভব হচ্ছে না। কেননা, জানাজানির ভয়ে তাঁরা এ কর্মসূচির সেবা নিচ্ছেন না। তাঁরা চলে যাচ্ছেন প্রাইভেট চিকিৎসকদের কাছে। সে ক্ষেত্রে নজরদারির কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মো. নুরুজ্জামান হক জানান, যক্ষ্মা শনাক্ত করতে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচির সহকারী পরিচালক মো. আকরামুল ইসলাম বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে বর্তমান চিকিৎসাপদ্ধতিতে (ডটস) রোগীর বাড়িতে সেবা পৌঁছাচ্ছে। তাই নতুন রোগীদের মধ্যে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার সংক্রমণ নেই বললেই চলে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমও আগের চেয়ে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ায় সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশের চারটি বক্ষব্যাধি হাসপাতালে এক হাজার ৫০০ জন ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তবে সংবাদ সম্মেলনে সংখ্যা অনেক কম হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

