শিক্ষকদের ওপর পুলিশের গরম পানি ও গ্যাস স্প্রে
এমপিওভূক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে শিক্ষকদের কর্মসূচিতে গতকাল পুলিশ বাধা দেয়
এমপিওভুক্তির দাবিতে রাজধানীতে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি পালনকারী শিক্ষকদের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের পরিবর্তে অত্যন্ত কাছ থেকে বোতলে ভর্তি গ্যাস স্প্রে ব্যবহার করেছে। কাছ থেকে চোখে ও মুখে গ্যাস স্প্রে ব্যবহার করায় অর্ধশতাধিক নিরীহ শিক্ষক আহত হয়েছেন। অন্তত ৩০ জন শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে শিক্ষক নেতারা দাবি করেছেন। পুলিশের বাধার মুখে শিক্ষা ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পণ্ড হয়ে যায়। বর্তমান সরকারের আমলে আমদানি করা এ গ্যাস মূলত রাজনৈতিক বিক্ষোভের সময় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি কাঁদানে গ্যাসের চেয়ে ঝাঁঝালো এবং চোখ ও মুখমণ্ডলের চামড়ার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে এ গ্যাস ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক নেতারা।
এ দিকে, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে দুই দিন ধরে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবির ব্যাপারে সরকারের বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকেরা। এর প্রতিবাদে নন শিক-কর্মচারীরা আজ বুধবার শিা ও অর্থ মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবেন। একই সাথে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে তাদের লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন নন-এমপিও শিক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতা অধ্যক্ষ এশারত আলী।
আন্দোলনরত শিক্ষক নেতারা জানান, আজ সকালে তৃতীয় দিনের মতো জাতীয় প্রেস কাবের সামনে জমায়েত হয়ে বেলা ১১টায় মিছিল সহকারে গিয়ে শিা ও অর্থ মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবেন। এ ছাড়া বিকেল ৪টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
গতকাল দ্বিতীয় দিনের অবস্থান ধর্মঘট শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শিক্ষক নেতারা একই সাথে অর্থ ও শিামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং শিা ভবন ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে শিক-কর্মচারীদের ওপর গ্যাস স্প্রে নিপেকারী পুলিশ সদস্যদের অপসারণও দাবি করেছেন।
গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস কাবের সামনে সমবেত হয়ে শিক্ষকেরা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টায় সহস্রাধিক শিক্ষক অবস্থান ধর্মঘট স্থল থেকে মিছিল করে শিক্ষা ভবনের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। গতকাল সকাল থেকেই পুলিশ শিক্ষা ভবনের দু’টি মূল ফটকে অবস্থান নেয়। শিক্ষা ভবনের ভেতরে প্রবেশকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ঢুকতে দেয়া হয়। পুলিশ গতকাল সকাল থেকেই তোপখানা রোডের মোড়ে পুলিশ বক্সের সামনে, সচিবালয়ের পশ্চিম পাশের সড়কে এবং হাইকোর্টের সামনে কদম ফোয়ারার পূর্ব পার্শ্বে কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে রাখে। বিক্ষোভরত শিক্ষকেরা এর বাইরে যেতে পারেননি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকেরা অবস্থান ধর্মঘটস্থল থেকে মিছিল করে এমপিও দাবিতে শিক্ষা ভবন ঘেরাও করতে যেতে চাইলে পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে যেতে পারেননি। কদম ফোয়ারার কাছে শিক্ষকেরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর গরম পানি ও গ্যাস স্প্রে ব্যবহার করে। অত্যন্ত কাছ থেকে গ্যাস স্প্রে করায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিক্ষকেরা। তারা আবারো প্রেস কাবের সামনে জড়ো হন। শিক্ষকদের একটি অংশ পল্টন মোড়ের দিকে মিছিল করে এমপিও’র দাবিতে সেøাগান দিতে থাকেন। এখানে পুলিশি ব্যারিকেডের মধ্যেই সারা দেশ থেকে আগত শিক্ষকেরা বক্তৃতা করেন। শিক্ষক নেতারা বলেন, শিক্ষকদের চার দিক থেকে বন্দী করে রাখা যাবে না। শিক্ষকেরা এবার দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরে যাবেন।
content aggregation:healthPrior21
source:dailynayadiganta
http://www.24livenewspaper.com/site/index.php?url=www.dailynayadiganta.com

