অন্ত্র বা কোলন ক্যানসার আমাদের দেশে বাড়ছে। মূলত ধনী দেশের অনুকরণে বিলাসী ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস এর প্রধান কারণ। কোলন ও রেক্টামের ক্যানসারকে একত্রে কলোরেক্টাল ক্যানসার বলে। উন্নত বিশ্বে এটি তৃতীয় প্রধান রোগ এবং ক্যানসারজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। বাংলাদেশে কলোরেক্টাল ক্যানসারের হার পুরুষদের ৩ দশমিক ৬ ও নারীদের ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
ঝুঁকিপূর্ণ কারা
l বয়স ৫০ বছর বা এর বেশি।
l ধূমপানে অভ্যস্ত।
l মুটিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে ওপরের পেটে চর্বি জমে যাওয়া।
l অলস জীবনযাপনে অভ্যস্ত।
l অধিক মাত্রায় অ্যালকোহল পান।
l অতিরিক্ত প্রাণিজ চর্বি ও লাল মাংস যেমন: গরু, খাসি, ভেড়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন: ফাস্ট ফুড, হট ডগ ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস।
l রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ের কলোরেক্টাল ক্যানসার কিংবা অন্যান্য ক্যানসার যেমন: ডিম্বাশয়, জরায়ু, স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস।
l কোলন বা রেক্টামে পলিপ (যা ক্যানসার নয়)।
l পরিপাক নালির প্রদাহজনিত বিভিন্ন রোগ যেমন: আলসারেটিভ কোলাইটিস, ক্রনস ডিজিজ।
উপসর্গ
প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো উপসর্গ বা সংকেত থাকে না। পরে যা হতে পারে:
l পায়ুপথে রক্তক্ষরণ অথবা মলে রক্ত।
l মলত্যাগের অভ্যাসে অস্বাভাবিকতা। যেমন কিছুদিন কোষ্ঠকাঠিন্য আবার কিছুদিন পাতলা পায়খানা।
l মল গাঢ় লাল বা কালো রঙের হওয়া।
l প্রয়োজন ছাড়াই মলত্যাগের তীব্র বেগজনিত অস্বস্তিকর অনুভূতি।
l তলপেট কামড়ানো বা ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া, ক্লান্তি ও বমি।
প্রতিরোধ
l কায়িক পরিশ্রম করুন, কমপক্ষে প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যায়াম করুন।
l ওজন স্বাভাবিক রাখুন।
l ধূমপান থেকে বিরত থাকুন, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
l অধিক পরিমাণ আঁশজাতীয় খাবার যেমন: টাটকা শাকসবজি, ফলমূল, আস্ত শস্যদানা দিয়ে তৈরি খাবার যেমন: লাল আটার রুটি, লাল চাল ইত্যাদি খান।
l ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ খাবার: দই, মাছ, ডিম খান।
l প্রাণিজ চর্বি, লাল মাংস ও ফাস্ট ফুড যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন।
l কোলন ও রেক্টামে কোনো পলিপ থাকলে তা দ্রুত অপারেশন করুন।
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করুন
ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা উন্নত বিশ্বে ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ে অংশ নিয়ে থাকেন। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে আপনিও নিজেকে পরীক্ষা করতে পারেন।
l বছরে একবার মলে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। এর নাম অকাল্ট ব্লাড টেস্ট।
l পাঁচ বছরে একবার সিগমোয়ডস্কোপি পরীক্ষা করা।
l ১০ বছরে একবার কোলনোস্কোপি পরীক্ষা করা।
লেখক: মেডিকেল অনকোলজি, ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট।
সূত্র : প্রথম আলো
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-03-22/news/338624

