পাসের হার ও সংখ্যার বিবেচনায় শিক্ষার ক্ষেত্রে সাফল্যের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। সংখ্যাকে বড় করে দেখতে গিয়ে শিক্ষার মান বলে যে একটা ব্যাপার আছে, সেটা সম্ভবত নীতিনির্ধারকেরা ভুলেই গেছেন। সাধারণ শিক্ষার এই দুর্দশা নিয়ে যখন নানা মহল থেকে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিচ্ছে, তখন বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তিসংক্রান্ত যে তথ্য জানা গেল, তা এক কথায় ভয়াবহ। কারা এবং কোন যোগ্যতার শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন, তার ওপর যেন কোনো নিয়ন্ত্রণই নেই!
শিক্ষার মান বিষয়টি সব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও মেডিকেল শিক্ষার বিষয়টিকে একটু আলাদাভাবেই দেখতে হবে। মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে শিক্ষার্থীরা চিকিৎসক হয়ে কার্যত মানুষের জীবন-মরণের ভার হাতে তুলে নেন। যথাযথ চিকিৎসা যেমন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে, তেমনি এ ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি ঘটলে জীবনই শঙ্কার মুখে পড়তে পারে। চিকিৎসাশাস্ত্র আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে মেধার বিষয়টি তাই খুবই জরুরি। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে যেখানে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৮১২ জন, সেখানে বেসরকারি কলেজগুলোতে ভর্তি হয়েছেন চার হাজার ৮০০ জন। অর্থাৎ চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি কলেজগুলোর ওপরই আমাদের নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু কারা ভর্তি হচ্ছেন বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে? কারা পাস করে বের হচ্ছেন সেখান থেকে আর কাদের হাতে আমরা তুলে দিচ্ছি আমাদের চিকিৎসার দায়িত্ব?
দেশে এখন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৫৪। এর মধ্যে মাত্র ১৬টি প্রতিষ্ঠানে কোন মানের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়েছেন, তার ওপর একটি অনুসন্ধান করেছে প্রথম আলো। মেডিকেল কলেজের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের কম পেয়েও এই ১৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন এবং তাঁদের সংখ্যা ২৩ শতাংশ! তথ্যটি ভয় ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এমনকি ১০০ নম্বরের মধ্যে সাড়ে ১০ পেয়েও মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন, এমন নজিরও মিলেছে!
বোঝা যাচ্ছে, বেসরকারি এই মেডিকেল কলেজগুলোর ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি নেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের। যদি ন্যূনতমও নিয়ন্ত্রণ থাকত, তাহলে এমন যাচ্ছেতাই হওয়ার সুযোগ ছিল না। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী উদ্যোগ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র - প্রথম আলো

