home top banner

খবর

শিশাবারের নামে যা চলছে
২৫ অগাস্ট, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   29

ঘড়িতে সময় রাত সাড়ে নয়টা। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের শেষ মাথার একটি দোতলা রেস্টুরেন্ট। দুটো তলাতেই খাবারের ব্যবস্থা আছে। তবু একটু আলাদা। নিচতলাটা উজ্জ্বল আলোয় ঝলমল করছে, ওপরেরটা আলো-আঁধারি। দরজা ঠেলে দোতলায় ঢুকতেই দেখা গেল গোটা কক্ষ ধোঁয়ায় অন্ধকার, প্রচণ্ড শব্দে হাল আমলের গান বাজছে, আর ১৬-১৭ বছর বয়স থেকে ত্রিশোর্ধ্ব বয়সের নারী-পুরুষ শিশা পান করছে।

‘শিশা’ একটি ফারসি শব্দ। এর বাংলা অর্থ হলো হুক্কা বা হুক্কার মাধ্যমে সেবনযোগ্য তামাক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শিশাকে মাদকদ্রব্য হিসেবে ঘোষণার সুপারিশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এ শিশাকে মাদক বলে উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু শিশাবারগুলোর কোনো কোনোটিতে শিশার আড়ালে মাদক সেবন করা হয়। শিশাবার চালাতে সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগে না। প্রতিবছর শিশাবারগুলো গড়ে ২৪ লাখ টাকা থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত মুনাফা করলেও তাদের কোনো মূল্য সংযোজন কর (মূসক) দিতে হয় না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, গুলশানের বেশ কয়েকটি শিশাবারে অভিযান চালিয়ে তাঁরা আটটি নমুনা সংগ্রহ করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পাঁচটিতে গাঁজা পাওয়া যায়।

পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অভিযানে অংশ নেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজধানীর গুলশান, বনানী, বেইলি রোড ও ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় শিশাবার এখন অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়েদের সময় কাটানোর প্রিয় জায়গা।

একটা সময় নিয়মিত শিশাবারে যাওয়া-আসা ছিল, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন এক ব্যক্তি প্রথম আলো ডটকমকে বলেছেন, ‘এটা আসলে একটা ফ্যাশনের মতো। শিশা তো প্রধানত তামাক। সামান্য মাথা ঝিমঝিম করা ছাড়া তেমন কিছু হয় না।’

শিশাবারে অভিযান চালিয়েছেন, এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শিশাবারে অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়েরা যাচ্ছে। বারের পরিবেশ বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতির অনুকূল নয়। শিশা সেবনে ছেলেমেয়েদের শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। সামাজিক ক্ষতির দিকটিও কম নয়। শিশাবারে যায়, এমন ছেলেমেয়ের মা-বাবার সঙ্গে কথা বলি আমরা। তাঁদের অনেকেই জানতেন না ছেলেমেয়েরা এখানে সময় কাটায়। অনেকে বলেছেন, “আমার বাচ্চা শিশাবারে গেলে আপনার কী?”’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শিশাবার সম্পর্কে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর হাইকোর্ট এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি আন্তসংস্থা তদন্ত বোর্ড গঠন করে। ওই বোর্ডের সভাপতি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার, সদস্যসচিব ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আবু তালেব। তদন্ত বোর্ড ঢাকা শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্টুরেন্টে শিশা ব্যবহারের বিষয়ে তদন্ত করে এর ক্ষতিকর দিক ও প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে মতামত দেয়।

গত ১৪ মার্চ তদন্ত বোর্ড সরেজমিনে গুলশানের বেশ কিছু শিশাবার পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে পাওয়া নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, আটটির মধ্যে পাঁচটিতে গাঁজা আছে। তদন্ত বোর্ড বলছে, শিশা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর তফসিলভুক্ত কোনো মাদকদ্রব্য নয়। তাই এর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু শিশার সঙ্গে গাঁজা পরিবেশিত হলে সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে এই আইনের অধীনে মামলা করা যায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশা সেবনের একটি আসরে যে পরিমাণ ধোঁয়া এক-একজন গলাধঃকরণ করছে, তা ২০০টি সিগারেটের সমান।

অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তার প্রতিবেদনে শিশাবারের সামাজিক ক্ষতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘শিশা সেবনকালে সেবনকারীদের আরাম-আয়েশের জন্য নরম গদি ও তাকিয়া, মখমলের গালিচা ইত্যাদি বিছানো আছে। শিশা সেবনের মুহূর্তগুলো রোমান্টিক করার জন্য এখানে হালকা ও রঙিন আলোর ব্যবস্থা থাকে। স্নায়ু উত্তেজক সংগীত পরিবেশনের ব্যবস্থাও করা হয়ে থাকে। শিশার শারীরিক বা চিকিত্সাশাস্ত্রীয় ক্ষতি যতখানি, তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক।’  

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই প্রতিবেদনে অবিলম্বে শিশাকে মাদক হিসেবে ঘোষণা করা, লাইসেন্স প্রথা প্রবর্তনের মাধ্যমে শিশাবারের প্রসার নিয়ন্ত্রণ করা, ২৫ বছরের নিচে শিশাবারে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা ও ঘন ঘন মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে শিশাবারে মাদকের অপব্যবহার বন্ধ করা ও অপব্যবহারকারীকে শাস্তির আওতায় আনার সুপারিশ করেছে।

তবে শিশাকে মাদকের অন্তর্ভুক্ত করা এবং এর প্রসারে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, এ বিষয়ে জানেন না ব্যবসায়ীরা। গুলশানের যে বারগুলোয় অভিযান পরিচালনা করা হয়, তার একটির ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে একটি শিশা লাউঞ্জের মালিক বলেন, সবকিছুই নীতিমালার আওতায় আনা উচিত। তবে শিশাবারে এমন কিছু হয় না যা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁর ছেলেমেয়েরা শিশাবারে গেলে তিনি কিছু মনে করবেন না। কিন্তু তাঁরা বিদেশে পড়াশোনা করছে।

 

 

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ফেসবুক আসক্তি থেকে মুক্তি কিবোর্ডেই!
Previous Health News: সর্বকনিষ্ঠ এভারেস্ট জয়ী

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')