বাংলাদেশ পুলিশের পরিদর্শক এস এম ফারুক হোসেন ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে এ বছরের ২ মে পর্যন্ত লাইবেরিয়ায় জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কর্মরত ছিলেন। গত ৪ জানুয়ারি দেশটির মেরিল্যান্ড কাউন্টির প্লেবোতে কর্মরত থাকাকালে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে জাদুবিদ্যায় পারদর্শী স্থানীয় একজন মহিলাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।
প্লেবোর স্থানীয় অধিবাসীর মধ্যে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে যে ওই মহিলা জাদুবিদ্যার মাধ্যমে একজনকে হত্যা করেছেন। এরপর হাজার হাজার সন্দিগ্ধ জনগণ হত্যার উদ্দেশ্যে ওই মহিলাকে ঘেরাও করে। লাইবেরিয়ার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মহিলাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়। এরপর তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সাহায্য কামনা করে। খবর পেয়ে এস এম ফারুক একই মিশনে কর্মরত সুইডিশ মহিলা পুলিশ ক্যাটারিনা জনসনকে সঙ্গে নিয়ে নিরস্ত্র অবস্থায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উত্তেজিত জনতা তাঁদের সরে যেতে বলে। তাঁরা দুজন জনতার বাধা উপেক্ষা করে জাতিসংঘের গাড়ি নিয়ে দ্রুত মহিলার কাছে যান এবং তাকে গাড়িতে তোলেন। উত্তেজিত জনতা তখন তাঁদের গাড়িতে পাথর ও ঢিল ছোড়ে। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। জনতার প্রবল বাধা এবং পাথর ও ঢিল উপেক্ষা করে তাঁরা ওই মহিলাকে নিয়ে ক্যাম্পে ফিরে আসেন।
তাঁদের অভিযান ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। লাইবেরিয়ায় প্রায়শই ওই ধরনের মহিলারা ডাইনি হিসেবে অভিহিত হয়। সন্দিগ্ধ উত্তেজিত জনগণ তাদের হত্যা করে। স্থানীয় পুলিশ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের উত্তেজিত জনতার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে না। এস এম ফারুক হোসেন ও ক্যাটারিনা জনসন সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ওই মহিলাকে উদ্ধার করায় মেরিল্যান্ডের স্থানীয় পুলিশপ্রধান তাঁদের চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানান। তাঁদের সাহসিকতাপূর্ণ এ কাজের কথা শুনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের উপপ্রধান জন নিলসেন লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভি থেকে মেরিল্যান্ডের প্লেবোতে আসেন। তিনি মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এস এম ফারুক হোসেনকে লেটার অব অ্যাপ্রেসিয়েশন দিয়ে সম্মানিত করেছেন। ২০০৫ সাল থেকে লাইবেরিয়া মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা কর্মরত। এর আগে বালাদেশ পুলিশের কোনো সদস্য সাহসিকতার জন্য পুরস্কৃত হননি। এস এস ফারুকের সাহসিকতায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।
দূর পরবাসে প্রতিবেদক
সূত্র - প্রথম আলো

