সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটিতে গতকাল বুধবার সরকারি বাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্রের হামলায় শত শত লোকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শকদের চলমান সফরের মধ্যেই এ অভিযোগ উঠল।
বাশারবিরোধীরা বলেছে, বিদ্রোহী বাহিনীর ওপর একটি বড় ধরনের বোমাবর্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে ঘুটা এলাকায় বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থভরা রকেট নিক্ষেপ করা হয়।
তবে সিরীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বিদ্রোহীরা রণাঙ্গনে তাদের পরাজয়কে ঢাকা দিতে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।
সিরিয়ার বাশারবিরোধীদের প্রধান জোট দাবি করেছে, রাসায়নিক অস্ত্রের হামলায় এক হাজারের বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছে।
বিভিন্ন সংগঠনও শত শত লোকের প্রাণহানির দাবি করেছে। তবে তা নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা যায়নি। তা ছাড়া বোমাবর্ষণে কতজন এবং রাসায়নিক অস্ত্রের শিকার হয়ে নিহত হয়েছে তা জানা যায়নি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে।
বিরোধীদের জোট সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশনের (সিএনসি) নেতা আহমেদ আল-জারবা এ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আল-আরাবিয়া টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে এ আহ্বান জানান তিনি।
রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসএএনএ জানিয়েছে, ঘুটা এলাকায় সেনাবাহিনী রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার করেছে বলে যেসব খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা ডাহা মিথ্যা।
রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সিরিয়ান অবজারভেটরি। সংগঠনটি বলেছে, ওই এলাকায় বোমা হামলা অব্যাহত আছে। নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার থেকেই জাতিসংঘের রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের একটি দল সিরিয়া সফর শুরু করেছে। গতকালের কথিত হামলাস্থল শিগগির পরিদর্শনের জন্য দলটির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে আরব লিগ।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পদত্যাগের দাবিতে ২০১১ সালের মার্চে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে সহিংসতায় রুপ নেয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, সহিংসতায় এ পর্যন্ত এক লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। বিবিসি ও এএফপি।
সূত্র - প্রথম আলো

