একটি বাতি এবং পুরোনো একটি ফ্যান ছাড়া রুমে আর কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। মুঠোফোন চার্জের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে
রুমের বাইরে। বাথরুমে পানি নেই, বাতি নেই, পানির ট্যাপগুলোও নষ্ট। রয়েছে খাওয়ার পানির সংকট।
এসব অভিযোগ চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও সরকারি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের বাসিন্দাদের। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে কোনো সুরাহা
না পেয়ে এ বছরের ২৪ এপ্রিল এসব বিষয় জানিয়ে হোস্টেলের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের
কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এসব বিষয়
অবগত। আপাতত পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা নিচ্ছি। পরে অন্যান্য সমস্যার সমাধান করা হবে। কারণ, এগুলো
দ্রুত সমাধান সম্ভব নয়।’
জানা যায়, কর্মজীবী নারীদের জন্য ১৯৮৪ সালে এ হোস্টেলটি চালু করা হয়।
এখানে ‘এ’ ও ‘বি’ ব্লক নামে চারতলা দুটি ভবন রয়েছে। এ ব্লকের নিচতলায় রয়েছে অতিথিকক্ষ, অফিস ও রান্নাঘর।
আর বি ব্লকের নিচতলায় ডাইনিং রুম।
কর্মজীবী নারীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, হোস্টেলে খাওয়ার পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই পানি কিনে অথবা ফিল্টার করে
খেতে হয়।
হোস্টেলের বাথরুমের পানির ট্যাপগুলো বিকল। এখানে কোনো বৈদ্যুতিক বাতি নেই।
হোস্টেলের বাসিন্দা কর্মজীবী নারী রাবেয়া সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে পানি খেতে হয় কিনে, মুঠোফোন চার্জ
দিতে হয় রুমের বাইরে। বাধ্য হয়েই অদ্ভুত পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে আমাদের। আমরা প্রয়োজনে পানি পাই না। প্রতি মাসে
আমাকে চারটি খাওয়ার পানির জার (প্লাস্টিকের বড় বোতল) কিনতে হয়। একটি জারে খরচ পড়ে ৬৫ টাকা করে। জারের দাম
৫৫ টাকা। কিন্তু ওপরতলায় পানি তুলে দেওয়ার জন্য দারোয়ানকে দিতে হয় ১০ টাকা করে।’
অভিযোগ রয়েছে, বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো, সংযোগ মেরামতের জন্য ইলেকট্রেশিয়ান থাকলেও টাকা দিয়ে এসব কাজ করাতে হয়
হোস্টেলের কর্মচারীদের দিয়ে। যানজট ও অফিসের কাজের চাপে কর্মজীবী নারীদের হোস্টেলে ফিরতে দেরি হলে দারোয়ানেরা কখনো
কখনো এক-দেড় ঘণ্টা বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখেন।
এসব সমস্যার কথা হোস্টেল সুপারকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান ভুক্তভোগীরা। তিনি গত এক বছর ধরে
হোস্টেলের বাইরে থাকছেন। হোস্টেলের খালি জায়গায় কর্মচারীদের দিয়ে গরু পালন করান সুপার।
হোস্টেলের সুপার হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘অভিযোগ পেলেই আমি যেকোনো বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। হোস্টেলে থাকার
সমস্যার কারণে আমি বাইরে থাকছি।’
গরু পালার বিষয়ে বলেন, ‘হোস্টেলে প্রচুর মশা। ভেতরে ঘাসগুলো বড় হয়ে গেছে। গরু সেগুলো খেলে এসব আগাছা সাফ হয়ে
যাবে; এ উদ্দেশ্যেই রাখা হয়েছে। এতে আমার কোনো ব্যক্তিগত লাভ নেই।’
হোস্টেলে পানির কোনো সমস্যা নেই দাবি করে সুপার বলেন, ওয়াসা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে সপ্তাহে দুই দিন পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা
হচ্ছে। পানির ট্যাপসহ হোস্টেলের বিভিন্ন মেরামতকাজের জন্য গণপূর্ত বিভাগে তালিকা পাঠানো হয়েছে বলে জানান।
সূত্র - প্রথম আলো

