স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে আপনার চোখ। চোখের রেটিনা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মধ্যে স্ট্রোকের সম্ভাবনা কতটা তা আগেই নির্ণয় করা সম্ভব, অন্তত গবেষণা তো তাই বলছে।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর চক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটে গবেষক হিসেবে কর্মরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ কামরান ইকরামের মতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির পেছনে যে কারণগুলো কাজ করে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো উচ্চ রক্তচাপ। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মধ্যে ঠিক কারা বিশেষভাবে স্ট্রোকের ঝুঁকিতে আছেন তা উচ্চ রক্তচাপের মাধ্যমে নির্ণয় করা অসম্ভব।
কিন্তু এখন এই অসম্ভবও সম্ভব হতে পারে একটি সহজ চক্ষু পরীক্ষার মাধ্যমে কিছু তথ্য সংগ্রহ করে।
স্ট্রোক হয় যখন মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় বা রক্তজমাট বাঁধে। আর উচ্চ রক্তচাপের কারণে রক্ত প্রবাহে সমস্যা হয় বলে রেটিনার শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি হিসেবে পরিচিত। তাই রেটিনা পরীক্ষার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি সম্পর্কে জানা যেতে পারে।
ডা. ইকরামের গবেষণা দল প্রায় তিন হাজার উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন মানুষের উপর একটি নিরীক্ষা চালায় যাদের বয়স গড়ে ১৩ বছর। গবেষণার শুরুতেই প্রত্যেকের চোখের পেছনে রেটিনার স্পর্শকাতর অংশের উজ্জ্বল কোষের ছবি তোলা হয়। তারপরে প্রত্যেকের হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি নেই, মৃদু এবং তীব্র এই তিনভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
পর্যবেক্ষণ চলাকালীন সময়ে ১৬৫ জন অংশগ্রহণকারী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। এই রোগীদের তথ্য তুলনামূলক যাচাই করে দেখা যায় এদের মধ্যে যারা মৃদু হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথিতে আক্রান্ত ছিলেন তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩৫% বৃদ্ধি পেয়েছিলো এবং যারা তীব্র হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথিতে আক্রান্ত ছিলেন তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছিল ১৩৭%।
যারা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন ওষুধ সেবন করেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটা তাও রেটিনা পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব।
গবেষকদের মতে বয়স, লিঙ্গ, জাতি, কোলেস্টরলের মাত্রা, ধূমপানের অভ্যাস, উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা, বিএমআই পদ্ধতিতে ওজন কত ইত্যাদি বিবেচনায় রাখলেও স্ট্রোকের ঝুঁকি একইরকম থাকে।
কাজেই আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকি কতটা আছে তা জানতে চাইলে আপনিও চলে যেতে পারেন চোখের এই পরীক্ষাটি করতে।
সূত্র - natunbarta.com

