home top banner

খবর

যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঞ্জানিয়ার সাফল্য
০৮ অগাস্ট, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   44

অস্বাস্থকর পরিবেশ, অপুষ্টি, সংকীর্ণ বাসস্থান – এসব কিছুই যক্ষ্মা রোগকে প্রভাবিত করে৷ আন্তর্জাতিক সাহায্য ছাড়া তাঞ্জানিয়ার পক্ষে বছরে হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব নয়৷

জন আন্দ্রেয়া মাশিম্বা এই রকমই একজন রোগী৷ টেমেকে অঞ্চলের একটি হাসপাতালের সামনে কয়েক ঘণ্টা ধরে একটি কাঠের বেঞ্চে বসে আছেন তিনি৷ ‘‘আমি এখানে যক্ষ্মার চিকিৎসার জন্য এসেছি৷ ছয় সপ্তাহ আগে জানতে পারি যে আমি অসুস্থ'', বলেন ৫৮ বছর বয়সি মানুষটি৷ তাঞ্জানিয়ার দার এস সালাম-এর একটি শিল্প়াঞ্চল টেমেকে৷ আট লক্ষ অধিবাসীর শহরটিতে বেশির ভাগ মানুষই শ্রমজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী৷ উপার্জনও তাদের অত্যন্ত কম৷ জন আন্দ্রেয়া মাশিম্বা অসুস্থ হওয়ার আগে কাঠ কয়লা বিক্রি করতেন৷ তিনি জানান, ‘‘আমার বুকে ব্যথা হতো৷ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিলাম আমি৷ তারপর হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারলাম যে আমার যক্ষ্মা হয়েছে৷ আরো পরীক্ষা করে জানা গেল যে, আমার এইচআইভি-র সংক্রমণও রয়েছে৷''

যক্ষ্মা কবলিত দেশগুলির অন্যতম তাঞ্জানিয়া
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ২০টি যক্ষ্মা কবলিত দেশগুলি মধ্যে তাঞ্জানিয়া অন্যতম৷ বছরে নতুন সংক্রমণ হয় প্রায় ৬০ হাজারের মতো৷ গত তিন দশকে টিবি রোগীর সংখ্যা পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে সেখানে৷ এইচআইভি-র সংক্রমণ থাকলে যক্ষ্মার কবলেও পড়েন রোগীরা৷ এছাড়া, এইডস রোগীদের মৃত্যুর প্রধান কারণও যক্ষ্মা৷

সঠিক সময়ে ধরা পড়লে ও চিকিৎসা করলে টিবি ভালোও হয়৷ রোগ শনাক্তকরণ ও থেরাপিতে তাঞ্জানিয়া অনেক উন্নতি করেছে৷ জানান, সংক্রামক রোগ দমনে সক্রিয় গ্লোবাল ফান্ডের প্রধান ক্রিশ্টোভ বেন৷ তাঞ্জানিয়ার একটি হাসপাতালের পরিচালক হিসাবে কাজ করেছেন তিনি বেশ কয়েক বছর৷

ইতোমধ্যে যক্ষ্মা দমনে সাফল্যের হার ৮৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে৷ বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বয়ে চিকিত্সা করতে সময় লাগে কমপক্ষে ছয় মাস৷ সব মিলিয়ে ১০০ ডলারের মতো খরচ হয়৷ তবে রোগী নিখরচায় চিকিৎসা পান৷ এক্ষেত্রে গ্লোবাল ফান্ড থেকে আর্থিক সহায়তা পায় তাঞ্জানিয়া৷ এই প্রতিষ্ঠানটি আবার বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া অর্থ এবং ব্যক্তিগত দান থেকে খরচ চালায়৷ জার্মানি এ পর্যন্ত ১.২ বিলিয়ন ডলার এই ফান্ডে দিয়েছে৷

ট্যাবলেট ও পুষ্টিকর খাদ্য প্রয়োজন
ট্যাবলেট ও পুষ্টিকর খাদ্যের ওপর এক গাদা পুস্তিকা নিয়ে উঠানে চাদর পেতে বসে আছেন ২৭ বছরের লোয়িক৷ পরনে হলুদ টি-শার্ট ঝকঝক করছে৷ লোয়িক এলাকার একজন স্বেচ্ছাসেবী এবং টিবি রোগীদের দেখাশোনা করেন৷ আজ তিনি ২১ বছর বয়সি এলিজাবেথকে বোঝাবেন, কীভাবে ট্যাবলেট নিতে হবে এবং দেড় বছরের মেয়েকে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে৷ চার মাস আগে টিবি ধরা পড়েছে এলিজাবেথের৷

লোয়িক টিবি রোগীদের গড়ে তোলা একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন৷ এটির লক্ষ্য ভুক্তভোগীদের রোগ সম্পর্কে বোঝানো এবং চিকিত্সার সময় তাঁদের দেখাশোনা করা৷ ‘‘আমি জানিনা কতজনের জীবন আমি রক্ষা করতে পেরেছি'', বলেন লোয়িক৷ কয়েক বছর আগে তাঁর নিজেরও টিবি হয়েছিল৷ এখন গড়ে প্রতিদিন তিন জন রোগী দেখেন তিনি৷ ‘‘আমার এলাকায় সবসময় ঘোরাঘুরি করতে হয় আমার৷ হলুদ টি-শার্ট দেখেই লোকে চেনে আমাকে৷ তখন তারা কাছে এসে রোগের লক্ষণগুলি বর্ণনা করেন আমাকে'', জানান লোয়িক৷

রোগীর বাড়িতে গিয়ে দেখাশোনা করা
রোগীর বাড়িতে গিয়ে দেখাশোনা করলে হাসপাতালগুলির ভার লাঘব হয় অনেকটা৷ এছাড়া রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসা পেতে পারেন তাঁরা৷ গ্লোবাল ফান্ড-এর ক্রিশ্টোফ বেন এটিকে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে মনে করেন৷ তার ভাষায়, ‘‘সাধারণত শনাক্ত না হওয়া অসুখই বেশি বিপজ্জনক৷ এ জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিত্সাখাতে আরো অর্থ বিনিয়োগ করা প্রয়োজন৷''

সাফল্যের হার বেশি হলেও কখনো কখনো ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে পড়ে টিবির ব্যাকটেরিয়ারা৷ সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজে লাগে না৷ এক্ষেত্রে রোগীদের শেষ ভরসা তাঞ্জানিয়ার উত্তরে মোশি এলাকার কিনবোংগোটো হাসপাতাল৷ এই অঞ্চলের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ৷ ৩২০ বেডের হাসপাতালে ৪০টি বেড সংরক্ষিত করা আছে ওষুধ প্রতিরোধী রোগীদের জন্য৷ কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের ৪৫ রোগীর চিকিত্সা করা হচ্ছে৷ গ্লোবালের ফান্ডের আর্থিক সহায়তায় এই বিভাগটি এখন বিস্তৃত করা হচ্ছে৷

এই রকমই এক রোগী মেরি৷ মশির হাসপাতালে চিকিৎসা হচ্ছে তাঁর৷ হাসপাতালের ডাক্তার কিসংগা জানান, ‘‘মেরির শরীর ওষুধ প্রতিরোধী৷ আট সপ্তাহ ধরে কাশছেন তিনি, সাথে জ্বর৷ শরীর ক্ষীণ হয়ে পড়েছে, বুকে ব্যথা৷'' আরও আট সপ্তাহ থাকতে হবে তাকে হাসপাতালে৷ কিন্তু মেরি আশাবাদী৷ ভালো হয়ে তার ছোট্ট ব্যবসাটি আবার চালাতে পারবেন বলে মনে করেন এই তরুণী৷

জন আন্দ্রেয়া মাশিম্বাও বিশ্বাস, ভালো হয়ে আবার কাঠ কয়লা বিক্রির কাজটা করতে পারবেন তিনি৷ তবে এর আগে পরিবারকে তাঁর এইচআইভি-তে সংক্রমণের বিষয়টা জানাতে হবে৷ কেমন করে এই সংক্রমণ হয়েছে, সেটা অবশ্য জানেন না মাশিম্বা৷সূত্র: ডিডব্লিউ

সূত্র - natunbarta.com

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: বুকের দুধ বিক্রির প্রস্তাব!
Previous Health News: এইচ৭এন৯ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়!

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')