home top banner

খবর

ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু বাড়ছে
০৬ অগাস্ট, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   16

‘তাড়াতাড়ি আপদ (রোগী) বিদায় করো। অন্য কোনো হাসপাতালে রেফার করে দায়িত্ব শেষ করো।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ মনির হোসেনের তত্ত্বাবধানে শহরের দ্য ল্যাব এইড শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে লুৎফুল কবির মিয়া (১০) নামের এক শিশু ভর্তির পর তার অবস্থার অবনতি হলে তিনি এসব কথা বলেন। পরে ওই শিশু মারা যায়।

শহরের বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকের অবহেলায় গত এক বছরে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, এসব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে সেবার নামে রোগীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

এলাকার অনেকে জানান, ২০১২ সালের ২৯ এপ্রিল হাঁটুর ব্যথা ও জ্বর নিয়ে লুৎফুল কবির ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে চিকিৎসক মনিরের অবহেলায় ৩০ এপ্রিল সে মারা যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হুমায়ুন কবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনার পর ওই চিকিৎসকের বিচারের দাবিতে শহরে সভা-সমাবেশ ও মানববন্ধন হয়। কিন্তু আজও এ ঘটনার কোনো বিচার হয়নি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, শহরের ৫৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ১৬টি ক্লিনিক ও আটটি ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৫০টির কোনো লাইসেন্স নেই। ১৬টির লাইসেন্স নবায়নের আবেদন তারা (সিভিল সার্জন কার্যালয়) স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। ১২টির লাইসেন্স নবায়নের আবেদন তাদের কাছে জমা আছে। এরই মধ্যে তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দুটি ক্লিনিক বন্ধ হয়ে গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালের ২ আগস্ট শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ায় অবস্থিত সেবা ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর শরিফা বেগম (৩৬) নামের এক গৃহবধূ মারা যান। শরিফার বাড়ি কসবার ডাবিরঘর গ্রামে। তাঁর স্বজনেরা জানান, টনসিলের অস্ত্রোপচার করাতে চিকিৎসক আশিকুর রহমানের পরামর্শে ১ আগস্ট তাঁকে সেবা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। পরদিন রাতে ওই ক্লিনিকের মালিক চিকিৎসক বজলুর রহমানের উপস্থিতিতে আশিকুর ও অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) আবদুল মান্নান তাঁর অস্ত্রোপচার করেন। এতে সঙ্গে সঙ্গেই শরিফার মৃত্যু হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার আমিনপুরের বাবুল মিয়ার স্ত্রী হেলেনা বেগম প্রসব ব্যথা নিয়ে ২০১২ সালের ২৪ আগস্ট শহরের মৌলভীপাড়া শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ২৮ আগস্ট হেলেনার অস্ত্রোপচার করেন ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক জাকিয়া সুলতানা। হেলেনা একটি ছেলেসন্তান প্রসব করেন। নবজাতকটি অপরিণত হওয়ায় চিকিৎসক তাকে ইনকিউবেটরে রাখার পরামর্শ দেন। ইনকিউবেটরে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই দিন রাতেই শিশুটি মারা যায়। সে সময় এ ঘটনা তদন্ত করতে সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও ওই কমিটি এখনো কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। ওই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর শহরের মুন্সেফপাড়ার হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও সেখানকার এক চিকিৎসকের অবহেলার কারণে তাছলিমা আক্তার (২৫) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। তাছলিমা কসবার গোপীনাথপুর গ্রামের আলম মিয়ার স্ত্রী। এ বছরের ১৬ জুলাই দ্য ল্যাব এইড শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় সদর উপজেলার বেহাইর গ্রামের রুহুল আমিনের স্ত্রী শারমিন আক্তার নামের এক প্রসূতি মারা যান। জেলা সদর হাসপাতালের গাইনী, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন শরীফ মাসুমা ইসমতের ভুল চিকিৎসায় ওই প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন ও রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালের নিচতলার অভ্যর্থনাকক্ষ, সেবিকা, অস্ত্রোপচার ও অফিসকক্ষের জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

গত ১৯ জুলাই শহরের দ্য ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও স্পেশালাইজড হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নবীনগরের বিদ্যাকূট গ্রামের কৃষক হান্নান মিয়ার স্ত্রী হাজেরা বেগমের (৩০) কিডনি কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কিডনি থেকে পাথর অপসারণের সময় রোগীর অনুমতি ছাড়াই চিকিৎসক তা কেটে ফেলেন। ওই হাসপাতালে কর্মরত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ফোরকান আহমদের তত্ত্বাবধানে ওই অস্ত্রোপচার হয়। এ ঘটনায় জেলা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ আমানউল্লাহ আমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অনেকে অভিযোগ করেন, ক্লিনিকগুলোতে ভুল চিকিৎসায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও সিভিল সার্জন কার্যালয় ও স্বাস্থ্য বিভাগ লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করা ছাড়া কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে আসত, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিতাম।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন আবু সাঈদ বলেন, ‘লাইসেন্সবিহীন ও লাইসেন্সের মেয়াদোত্তীর্ণ ক্লিনিকগুলোকে আমরা ইতিমধ্যে লিখিতভাবে চিঠি দিয়েছি।’

 

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসা সেবা
Previous Health News: হাসপাতালে ৪৫ বছর

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')