home top banner

খবর

স্বাচিপের কোন্দলে শিশু হাসপাতালের হাঁসফাঁস
০১ অগাস্ট, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   23

আওয়ামী লীগের সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঢাকা শিশু হাসপাতালে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা সময়মতো আসা-যাওয়া করেন না। হাসপাতালে সেবার মানও পড়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা বোর্ডের সভাপতির পদ পাঁচ মাস খালি। বোর্ডের সভা নিয়মিত হচ্ছে না বলে দৈনন্দিন কাজ আটকে আছে। ওই পদে লোক বসানো নিয়ে স্বাচিপের দুই উপদল সক্রিয়। বর্তমান পরিচালককে রাখা না-রাখা নিয়েও এরা বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক মনজুর হোসেন প্রায় এক মাস হাসপাতালে যান না। গত শনিবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে প্রথমআলোকে তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে ছুটি নিয়েছেন। গত রোববার হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেছেন। ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বিলকিস বানুকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। উপপরিচালক হোসেন শহীদ কামরুল আলমকেও হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বাইরে একটি সভায় আছেন।

অধ্যাপক সমীর কুমার সাহা ১৯৮৩ সাল থেকে এই হাসপাতালে কাজ করছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সেবার মান ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের হাসপাতালটির দিকে দ্রুত নজর দেওয়া উচিত।

যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্যসচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন বলেন, সভাপতির নাম প্রস্তাব করে নথি তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে ফিরলে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

দুটি পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব: ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সর্বশেষ সভা হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরে। প্রতি মাসে এই সভা হওয়ার কথা। রোগীদের খাবার ও ওষুধ বরাদ্দের জন্য বোর্ডের অনুমোদন দরকার হয়, সেই অনুমোদন বন্ধ আছে। জুলাইয়ের আগে হাসপাতালের বাজেট অনুমোদন হওয়া দরকার ছিল, তা হয়নি। বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারীর পদোন্নতিও আটকে আছে বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষায়।

স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সভাপতির পদ থেকে অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন গত ১০ মার্চ। এই পদের জন্য জাতীয় অধ্যাপক শাহলা খাতুনের নাম প্রস্তাব করে পরিচালক মনজুর হোসেন ২৭ জুন স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছেন।

পরিচালক স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ইকবাল আর্সলানের সতীর্থ ও বন্ধু। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইকবাল আর্সলান মনজুর হোসেনকে সমর্থন করছেন। এ ব্যাপারে ইকবাল আর্সলান বলেন, তিনি কাউকে সমর্থন করছেন না। মনোনয়ন দেওয়া বা কাউকে কোনো পদে রাখা না-রাখা মন্ত্রণালয়ের কাজ।

অন্যদিকে স্থানীয় স্বাচিপের একটি অংশ সভাপতি পদে বিএমএর সাবেক মহাসচিব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদকে চায়। এরাই পরিচালককে অপসারণ করে আবদুল আজিজকে হাসপাতালের পরিচালকের পদে বসাতে চায়।

শারফুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য। সভাপতির পদটি অনেক দিন ধরে খালি। সরকার যদি ওই পদে আমাকে মনোনীত করে, আমার কোনো আপত্তি নেই।’

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি বড় অংশের সঙ্গে পরিচালকের সম্পর্ক ভালো নয়। তিনি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সময় দেন না। এই অবস্থায় হাসপাতালের স্বার্থে নতুন পরিচালক দরকার। যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি আবদুল আজিজের নাম বলেন। আবদুল আজিজও এই পদের জন্য তাঁর আগ্রহের কথা প্রথম আলোকে বলেছেন।

আবদুল আজিজ ও তাঁর সমর্থকদের অভিযোগ, পরিচালক হাসপাতালে কম সময় থাকেন। চিকিৎসকদের পদোন্নতি আটকে রেখেছেন। নিজের অনুসারীদের নিয়ে একটি গোষ্ঠী তৈরি করেছেন, যারা নিয়মনীতি মানছে না।

বিদেশে যাওয়ার আগে পরিচালক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্যায় দাবি মানতে চাই না বলে অনেকে আমাকে পছন্দ করেন না।’ তিনি বলেন, অসুস্থ থাকার কারণে হাসপাতালে যাচ্ছেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, বোর্ডের চেয়ারম্যান না থাকার কারণে হাসপাতালের কাজে ব্যাঘাত হচ্ছে।

পরিচালকের অনুসারীরা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশে স্বাচিপের উপদলটি হাসপাতালের ক্যানটিনের ইজারাসহ অন্যান্য সরবরাহ কাজে ভাগ বসাতে চায়। অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল আজিজ বলেন, ৫৬০ শয্যার এই হাসপাতালে শিশুদের সঙ্গে মা ও বাবারা আসেন। অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের। তাঁদের সুবিধার্থে বারবার ক্যানটিন চালু করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা করছে না।

পরিচালক ও স্থানীয় স্বাচিপের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে। এর প্রভাব পড়েছে সেবার ক্ষেত্রে। গত রোববার বেলা ১১টার পর চারজন চিকিৎসকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে জানান, তাঁরা রাস্তায়। কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছাবেন। একাধিক কর্মচারী বলেছেন, অনেক চিকিৎসক দেরিতে আসেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই যান। প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের টয়লেট নোংরা, দেখেই বোঝা যায়, নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করে শিশু হূদেরাগ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রতি মাসে এই কেন্দ্রের পেছনে খরচ প্রায় ছয় লাখ টাকা। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে চালু হওয়ার পর ১৮ মাসে এখানে মাত্র ২৬টি শিশুর অস্ত্রোপচার হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক বলেন, ‘বিরোধ চলতে থাকলে শিশুদের চিকিৎসার সবচেয়ে বড় হাসপাতালটিতে সেবা বলে কিছু থাকবে না। সবচেয়ে বিপদে পড়বে দরিদ্র মানুষ।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: সাবান আর পানিতে শিশুর বৃদ্ধি!
Previous Health News: কৃত্রিম কান

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')