সিআরপি থেকে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ৪২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জনেরই হাত বা পা নেই। আরও ৮০ জন রোগী রয়েছেন, যাঁদের চিকিৎসা শেষে পুনর্বাসন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও দুজন।
কানাডার ‘ইয়ং কানাডিয়ান্স ফর গ্লোবাল হিউম্যানিটি’ নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গতকাল এসব আহত ব্যক্তির মধ্যে যাঁদের হাত বা পা নেই তাঁদের প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা, হাত ও পা আছে এমন রোগীদের প্রত্যেককে নয় হাজার টাকা এবং পুনর্বাসন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ৮০ জনের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে সহায়তা দিয়েছে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজনকে দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফারিয়া ইকরা রোগীদের হাতে এই সহায়তার টাকা তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কানাডার ব্যবসায়ী ও ফারিয়ার বাবা শামসুল ইসলাম।
ধসে পড়া ভবনের বিমের নিচে বাঁ হাত চাপা পড়ে আটকে ছিলেন তৃতীয় তলার নিউ ওয়েব স্টাইলের শ্রমিক রোজিনা আক্তার। উদ্ধারকর্মীদের সরবরাহ করা ব্লেড দিয়ে নিজেই নিজের হাত কেটে ঘটনার তৃতীয় দিনে বের হয়ে আসেন তিনি। সহায়তার ২৫ হাজার টাকা পেয়ে রোজিনা বলেন, ‘সিআরপি থেকে আমাদের আহার ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হলেও নগদ অর্থের অভাব ছিল। ঈদের আগে এই টাকা পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হলো।’
সংগঠনের সভাপতি বাংলাদেশের চাঁদপুরের বংশোদ্ভূত ফারিয়া ইকরা বলেন, ‘ইয়ং কানাডিয়ান্স ফর গ্লোবাল হিউম্যানিটি’ কানাডার তরুণ-তরুণীদের সংগঠন। এই সংগঠন কানাডা ও কানাডার বাইরে মানবতার উন্নয়নে কাজ করে থাকে। এরই অংশ হিসেবে রানা প্লাজা ধসের পর অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশে ছুটে আসেন তিনি। এরপর খোঁজখবর নিয়ে অধিক ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে অর্থ তুলে দেন। তিনি বলেন, রানা প্লাজায় নিহত ও নিখোঁজ শ্রমিকদের পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সী ১০ জন শিশুকে ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রেখে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের ব্যবস্থা করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লেখাপড়া শেষে তাদের কানাডা নিয়ে পুনর্বাসনও করা হবে সংগঠনের পক্ষ থেকে।
সূত্র - প্রথম আলো

