বারান্দায় চেয়ারে বসে আছেন ছয়জন বন্ধু। বয়সের পার্থক্য থাকলেও দেখে বোঝার উপায় নেই। ফেলে আসা দিনের স্মৃতিচারণা করছিলেন তাঁরা। গত রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ নিবাসে ইফতারের কিছুক্ষণ আগের পরিবশেটা ছিল এমন। প্রতিদিনের মতো সেদিনও ইফতারিতে ছিল খেজুর, পেঁয়াজু, বেগুনি, ছোলা, কলা, আপেল ও শরবত।কারও কারও ইফতারিতে ভিন্নতাও ছিল। নিজের ঘরে নুডলস, হালিম আর কয়েক রকম ফল নিয়ে বসেছিলেন তাঁরা। কেউবা থালা নিয়ে গেছেন প্রতিবেশীর ঘরে। তবে পুরুষেরা সাধারণত খাবারঘরে বসে গল্পসল্প আর ইফতার করেন। নারী-পুরুষ মিলিয়ে মোট ৪২ জন আছেন এই প্রবীণ নিবাসে। পরিবার-পরিজন ছেড়ে জীবনসায়হ্নে এসে এই নিঃসঙ্গ মানুষেরা গড়ে তুলেছেন নিজেদের আলাদা জগৎ।হাঁটতে পারেন না বলে ষষ্ঠতলায় নিজ ঘরেই ইফতার করেন বজলুর রহমান। ইফতারে কয়েক রকম পদ তাঁর পছন্দ। রোজ এক খাবার ভালো লাগে না। কবিতা পড়তে তিনি ভালোবাসেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লেখিকা কিছুদিন আগে ছেলের বাসা থেকে এসেছেন এই নিবাসে। তিনি বললেন, ‘আমার লেখার অসুবিধা যাতে না হয়, সে জন্যই এখানে নিরিবিলি পরিবেশে থাকি।’ মীরা চৌধুরীর বসয় প্রায় সত্তর বছর। একসময় যে পরিবারকে আগলে রাখতেন, সেই পরিবার ছেড়ে এখন এসেছেন এই প্রবীণ নিবাসে। তাঁর শরীর খুব খারাপ। নিজে চলাফেরা করতে পারেন না। নিবাসের কাজের লোক এসে তাঁকে খাইয়ে দিয়ে যায়। কিন্তু অভিমান করে এসব কথা ছেলেমেয়েকে জানাননি। তাঁর ভাষায়, ‘মাকে দেখার সময় ওদের নেই। তাই অসুখের কথা জানানোরও আমার কোনো দরকার নেই।’ তিনি বই পড়তে ভালোবাসেন। প্রিয় লেখক তাঁর শরৎচন্দ্র। বছর পাঁচেক ধরে এই এই প্রবীণ নিবাসে আছেন তিনি। এটিই এখন তাঁর স্থায়ী ঠিকানা হয়ে উঠেছে।

