ভারতের মুম্বাইয়ে বেড়েই চলেছে ভ্রূণ হত্যার সংখ্যা। আগের তুলনায় গত তিন বছরে প্রায় ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ভ্রুণ হত্যার হার। যা চমকে দেয়ার মতো। (বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন) 'বিএমসি'-র করা সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা থেকে এই তথ্য জানতে পেরেছে মহারাষ্ট্র রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ওই তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, ২০১০-১১ সালে বাণিজ্য নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৬,৯৭৭টি ভ্রণ হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০১২-১৩ সালে এই পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২৭,২৫৬টি। কিন্তু এর মধ্যে সন্দেহজনক কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সরকারি কর্মকর্তারা। বরং তাদের মতে, কাজের পদ্ধতির উন্নতি হয়েছে, পাল্টেছে ধরণ। কারণ কেউই অবাঞ্ছিত সন্তান নিতে চান না। সেই কারণেই বাড়ছে গর্ভপাত। যাকে বেসরকারি সমীক্ষা বলছে ভ্রূণ হত্যার ঘটনা।
এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী সুরেশ শেট্টি জানিয়েছেন, "অত্যধিক গর্ভপাতের কারণ ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ নয়।" বরং তিনি এটিকে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সুফল বলেই মনে করেন। "জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিপুল সরকারি প্রচারের পর মুম্বইয়ের মত অতি আধুনিক শহুরে নাগরিক সমাজে মানুষ শিশুর জন্মকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন।" সার্বিকভাবে ভ্রূণ হত্যার বৃদ্ধির ঘটনাকে সরকারি নিয়মের সঠিক নজরদারি ও সফল প্রয়োগ বলেই মনে করছেন তিনি।
সাধারণভাবে ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ করার পর তা মেয়ে হলে ভ্রূণ হত্যার প্রবণতা দেখা যায়। ২০১১ সালের আদমসুমারি অনুযায়ী মুম্বাইয়ে প্রতি এক হাজার জন ছেলে পিছু ৮৭৪ জন কন্যা সন্তান জন্মানোর রেকর্ড নথিভুক্ত হয়েছে।গত সোমবার অবৈধ গর্ভপাত বিষয়ে বিধানসভায় লিখিত বিবৃতি দেন শেট্টি। তিনি জানিয়েছেন, "চলতি বছরের ১ জুন থেকে বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ৩৪ সদস্যের একটি দল তৈরি করেছে। যারা বিভিন্ন সোনোগ্রাফি সেন্টারে গিয়ে তদন্ত করে দেখবে ওই সেন্টার 'এমটিপি'-র নিয়ম মানছে কিনা। ইতিমধ্যেই 'এমটিপি'-র নিয়ম অমান্য করেছে এমন আটটি সোনোগ্রাফি সেন্টারকে 'শো-কজ' নোটিশ দিয়েছে তারা।"
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের স্ত্রী রোগ ও প্রসূতি বিভাগের প্রধান জে জে হাসপাতালের চিকিৎসক রেখা দাভের জানিয়েছেন, "এখনকার মহিলারা নিজেরদের সন্তান ও সন্তান ধারণের সময় সম্পর্কে খুবই সচেতন। গর্ভাবস্থায় অনেকেই অ্যানিমিয়া, হাইপারটেনশনে ভোগেন। যার প্রভাব গর্ভস্থ ভ্রূণের উপরও পড়ে। ফলে গর্ভপাত অনেক সময়ই সচেতন সিদ্ধান্তেও হয়।" কম্পিউটারের মাধ্যমে মায়ের শারীরিক সমস্যাকে সহজে চিহ্নিত করা যাচ্ছে। নানা জটিলতার আগাম খবর গর্ভপাতের পরিমাণ বৃদ্ধির কারণ হিসাবে মনে করেন রেখা। ফেডারেশন অফ অবস্ট্রাটিক্স অ্যান্ড গাইনোকলজিক্যাল সোসাইটিস অফ ইন্ডিয়ার চিকিৎসক নোজের শেরিয়ার জানিয়েছেন, "গর্ভপাতের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ, আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ গর্ভপাতের ঘটনা নথিভুক্ত হচ্ছে। আগে সংখ্যাটা এরকমই ছিল কিন্তু নথিভুক্তি না হওয়ায় নজরে আসত না।"
যদিও সমীক্ষক দলগুলোর মতে, জন্মনিয়ন্ত্রণের জন্য গর্ভপাত ও সচেতনভাবে কন্যা ভ্রূণ হত্যা করার মধ্যে ফারাক করা বা অপরাধ ধরাটা খুবই মুশকিলের ব্যাপার। কারণ কন্যা ভ্রূণ বা ভ্রূণের লিঙ্গ ধারণের পরই যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না, তাই বা কে নিশ্চিত করে বলতে পারে?
সূত্র - natunbarta.com

