home top banner

খবর

মজ্জায় মারণরোগ
১৩ জুলাই, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   51

ব্লাড ক্যানসার-এর ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে অনেক ক্ষেত্রেই বলা হয় বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যানটেশন-এর কথা৷ কিন্তু অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনে মারণ রোগের মোকাবিলা কতটা সম্ভব?

ব্ল্যাড ক্যানসার৷ এই দানবটির প্রকোপ বাড়ছে৷ অস্থিমজ্জায় থাকে শ্বেত এবং লোহিত কণিকার পূর্বসুরীরা বা স্টেম সেল৷ কিন্তু জিন চরিত্রের রদবদলে এখানেই জন্ম নেয় ক্যানসার সেল৷ ফলে লাগামছাড়া হারে বাড়তে থাকে শ্বেত কণিকা৷ শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী কণা৷ ব্লাড ক্যানসারের নানা প্রকারভেদ৷ যার মধ্যে রয়েছে লিম্ফোমা এবং মায়ালোমা৷ কেমোথেরাপিতে একে রুখলেও এর বীজ থেকে যায় অস্থিমজ্জায়৷ তাই সর্ষের মধ্যে থাকা ভূতকে বধ করতে বোন ম্যারোকে কব্জা করা প্রয়োজন৷

বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যানটেশন কী?
লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত রুগীকে প্রথমেই দেয়া হয় কেমোথেরাপি৷ এর লক্ষ্য অবাধ্য কোষগুলোকে কেমোথেরাপির ঘায়ে নাকাল করা৷ ডাক্তারি ভাষায় বলে রেমিশন৷ ঘায়েল হওয়া এই কোষের উপর চলে আরও অনেক দফা কেমোথেরাপির বর্ষণ৷ যাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় ওরা৷ এর ফলে নষ্ট হয়ে যায় শরীরের বোন ম্যারো৷ এরপর নুতন অস্থিমজ্জা পাঠানো হয় শরীরে৷ নতুন বোন ম্যারোর সোর্সের ভিত্তিতে এই ট্রান্সপ্ল্যানটেশন হয় দু'রকমের৷

১. অটোলগাস-এখানে রোগীর দেহ থেকে বোন ম্যারো নিষ্কাশন করা হয়৷ মূলত লিম্ফোমা আর মায়ালোমার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়৷
২. অ্যালোজেনিক-এখানে দাতার কাছ থেকে বোন ম্যারো সংগৃহীত হয়৷ লিউকেমিয়া, অন্যান্য ধরনের ব্ল্যাড ক্যানসার এবং থ্যালাসেমিয়াতে এটি প্রয়োগ করা হয়৷

কী পদ্ধতি?
পুরনো পদ্ধতিতে কোমরের হাড় থেকে বোন ম্যারো নিষ্কাশন করে সেখান থেকে স্টেম সেল সংগ্রহ করা হত৷ আধুনিক উপায়ে রক্ত থেকে স্টেম সেল নেয়া হয়ে থাকে৷ স্টেম সেল পেতে রোগী বা দাতার শরীরে এক বিশেষ ওষুধ দেওয়া হয়৷ এর পোশাকি নাম Growth Factors৷ এর ফলে রক্তে স্টেম সেল বেড়ে যায়৷ এবার এক বিশেষ মেশিনের সাহায্যে স্টেম সেলস তুলে নিয়ে পাঠানো হয় রোগীর শিরায়৷

কখন?
ব্ল্যাড ক্যানসার চিকিত্সায় বোন ম্যারো স্থাপন কখনই প্রথম পছন্দ নয়৷ এক এক রোগীর অসুখের ধরন বিচার করে যথার্থ জায়গায় এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়৷ তাই সব ব্ল্যাড ক্যানসার নির্মূল করতে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যানটেশন ব্যবহার করা হয় না৷ একশ জন রোগীর মধ্যে শুধুমাত্র পনেরো থেকে কুড়িজনের এই প্রতিস্থাপন করা হয়৷ প্রতিস্থাপনের ফলে মৃত্যু হওয়ার প্রবণতাও ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ৷

সাধারণত যে অবস্থায় এই প্রতিস্থাপন করা যায়-
১. বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কেমোথেরাপি দেয়ার পরে রেমিশনে আনার পরেও যখন ক্যানসার বীজ বারবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে৷
২. লিম্ফোমা হলে ABVD-কেমোথেরাপি দিলে সাধারণত ক্যানসারকে দমন করা যায়৷ কিন্তু রিল্যাপ্স করলে ট্রান্সপ্ল্যান্টের কথা ভাবা যেতে পারে৷
৩. মায়ালোমা হলে যাদের ৬০-এর কম বয়স তাদের অটোলগাস ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে ক্যানসার প্রশমিত করা যেতে পারে দীর্ঘদিনের জন্য৷
৪. বাচ্চাদের যদি acute lymphoblastic leukemia হয় তাহলে প্রথমেই প্রতিস্থাপনের কথা ভাবা হয় না৷ এর কারণ ভালো কেমোথেরাপি দিয়ে একে রোধ করা যায়৷ ৮০-৯০ শতাংশ সময় কেমোথেরাপিতেই বাচ্চা সুস্থ হয়ে ওঠে৷
৫. ক্রনিক মায়ালয়েড লিউকেমিয়া হলে আগে ট্রান্সপ্ল্যান্টের কথা ভাবা হতো৷ কিন্তু এখন একে ঘায়েল করতে আছে কিছু অত্যাধুনিক ওষুধ৷ যার ফলে অনেক সময় রেমিশনে আনা যায় এই ধরণের ব্ল্যাড ক্যানসারকে৷
৬. থ্যালাসেমিয়া মেজর যেখানে ব্যাক্তিকে রক্ত নিতে হচ্ছে প্রতিমাসে সেখানে ট্রান্সপ্ল্যান্ট সুস্থ হওয়ার একমাত্র উপায়৷

যা মাথায় রাখা উচিত
কিন্তু বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না৷ কারণ-

১. হিউম্যান লিউকোসাইট অ্যান্টিজেন বা এইচ এল এ ম্যাচিং-হিউমান লিউকোসাইট অ্যান্টিজেন হল একপ্রকার ক্রোমোজোম সমষ্টি যা মানব দেহে রোগ প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ যেকোনো প্রতিস্থাপনে এই সমষ্টি ম্যাচ না হলে তা প্রাণঘাতী৷ রোগীর ভাই বা বোনের সঙ্গে এ মিলে যায়৷ তবে ভাই বা বোন না থাকলে এর জুড়ি খুঁজে পাওয়া মুশকিল৷ অনেক সময় এই কারণেই প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয় না৷ বা দাতার খোঁজ করতে গিয়ে রোগীর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়ে মৃত্যু হয়৷ ভারতে ডোনার রেজিস্ট্রি না থাকায় এটি এক জটিল সমস্যা৷ এখানে বেশিরভাগ সময় ডোনার স্টেম সেল আনা হয় জার্মানি থেকে৷ যা অত্যন্ত ব্যয় সাপেক্ষ৷

২. গ্রাফট ভার্সেস হোস্ট-র বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন করলে আমাদের শরীর তা মেনে নিতে পারে না৷ সে বিদ্রোহ প্রকাশ করে যা বিভিন্ন রূপে দেখা দিতে পারে৷ এতে তৈরি হয় না জটিলতা৷ বলে রাখা ভালো এর ফলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে৷ আবার সে সম্পূর্ণ ভালো হয়েও উঠতে পারে৷ তাই সব দিক বিচার করে তবেই প্রতিস্থাপন করানো উচিত৷ এইসব কারণেই বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন এক খরচাবহুল ব্যাপার৷ অটোলগাস পদ্ধতিতে খরচা পরে ছয় থেকে সাত লক্ষ টাকা৷ কিন্তু অ্যালোজেনিকে এই খরচা গিয়ে দাঁড়াতে পারে পনেরো থেকে ষাট লক্ষ টাকা অব্দি৷

অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন হলো এক বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি যার যৌক্তিকতা যথেচ্ছ বিচার করে তবেই করানো উচিত৷

 

সূত্র - নতুন বার্তা

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: নিম থেকেই মিলবে ক্যান্সারের ওষুধ
Previous Health News: রাজধানীতে ১৩ হারবাল ব্যবসায়ীর জেল জরিমানা: সাত প্রতিষ্ঠান বন্ধ

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')