ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে অবস্থিত জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকাল মঙ্গলবারও কর্মবিরতি পালন করেছেন। তিন দফা দাবিতে গত সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ল্যাবের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে তাঁরা এ কর্মবিরতি শুরু করেন।
ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, তাঁদের সঙ্গে ঢাকার বাইরে থাকা কয়েকটি ল্যাবের কর্মীরাও একাত্মতা ঘোষণা করে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের দাবিগুলো হলো ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, পদোন্নতির নীতিমালা প্রণয়ন ও বিভিন্ন ধরনের
পরীক্ষা বাবদ ফির কিছু অংশ প্রদান (ইউজার ফি)। তাঁরা জানান, দাবিগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে ২০০৩ সালে মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’ নামে কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
ল্যাবের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশিস কুমার মজুমদার গতকাল বলেন, ল্যাবের প্রধান শরীফ আক্তারুজ্জামান তাঁদের মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, আজ বুধবার সকালে মন্ত্রণালয়ে ল্যাবের নির্বাহী বোর্ডের বৈঠক আছে। সেখানে দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, তবে মন্ত্রণালয় থেকে যে চিঠি ল্যাব-প্রধান বরাবর পাঠানো হয়েছে, সেখানে আলোচ্য বিষয় হিসেবে রানা প্লাজা ধসে নিহত ব্যক্তিদের ডিএনএ পরীক্ষার অগ্রগতি ও বিবিধ উল্লেখ আছে।
যোগাযোগ করা হলে প্রকল্প পরিচালক আবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হতেও পারে আবার না-ও পারে। ল্যাবে বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্পকাজ চলছে। ২০১৬ সালের জুনে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। তখনই ল্যাবকে রাজস্ব খাতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। রাজস্ব খাতে গেলে পদ সৃষ্টি হবে, দাবি অনুযায়ী পদোন্নতির প্রক্রিয়াও শুরু হবে।
কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ের শেষ দিকেই তো রাজস্ব খাতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল?—এ প্রশ্নে আবুল হোসেন বলেন, ওগুলো এখন পুরাতন ডকুমেন্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্প নিয়েই এগোতে হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

