খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হূদেরাগ (কার্ডিওলজি) বিভাগের মূল প্রবেশপথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রবেশপথের পাশে নোটিশ আকারে লেখা আছে ‘কার্ডিওলজি বিভাগে কোনো ডিউটি ডাক্তার, ইন্টার্ন চিকিৎসক, সহকারী রেজিস্ট্রার বা রেজিস্ট্রারের পোস্টিং নেই।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে এ বিভাগটি চালু করা হয়। এখানে ১৬টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ছয়টি ও সাধারণ ওয়ার্ডে ১০টি শয্যা আছে। বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক এম এম হাসমি জানান, বিভাগটি চালু হলেও রেজিস্ট্রার ও চারজন সহকারী রেজিস্ট্রার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এত দিন সহকারী অধ্যাপক স ম দেলোয়ার, আবদুল ওহাব ও মোস্তফা কামাল এ বিভাগের রোগী দেখতেন। কিন্তু সম্প্রতি দেলোয়ার ও ওহাবকে অন্যত্র বদলি করায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তিনি ইতিমধ্যে সিসিইউ বন্ধ করার জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভাগের সিসিইউতে দুজন এবং ওয়ার্ডে ছয়জন রোগী আছেন। সিসিইউতে ভর্তি রোগীর আত্মীয়স্বজন মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে খাওয়া-দাওয়া করছেন।
এখানে ভর্তি হওয়া রোগীরা জানান, সকালে চিকিৎসক এলেও দুপুরের পর থেকে পুরো বিভাগ চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ে। গত শুক্রবার এখানে হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন আঞ্জুমানার বেগম (৪৮)। তিনি বলেন, ‘ভর্তি হওয়ার পর কোনো ডাক্তার আসেননি। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা মাঝেমধ্যে এসে দেখছেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। আজই (সোমবার) এখান থেকে অন্য হাসপাতালে চলে যাব। এই বিভাগে কেউ চিকিৎসা পাচ্ছে না।’
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ জানান, বিভাগের সিসিইউতে কমপক্ষে চারজন চিকিৎসা কর্মকর্তার পালা করে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করা উচিত। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে সেটি চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সমস্যার বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।
সূত্র - প্রথম আলো

