কোনো ধরনের গুণাগুণ বিচার করে নয়, বরং অনেকটা অভ্যাসবশতই হররোজ চা-কফির দ্বারস্থ হন বিশ্বের বহু লোক। এসব ক্ষেত্রে কেউ কেউ চাঙ্গা থাকার জন্য চা-কফির প্রশংসা করলেও এর বাইরে চা-কফি নিয়ে তেমন একটা উচ্চকিত হতে দেখা যায় না কাউকেই। যদিও হাতে গোনা দু'একটা অসুবিধার কথা বাদ দিলে নানা সময়ে চা বা কফির মতো পানীয়ের অসংখ্য গুণাগুণের কথাই উঠে এসেছে পুষ্টিবিদ আর বিজ্ঞানীদের গবেষণায়। আর এ ধারায় সর্বশেষ সংযোজন হলো উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চা-কফির ভূমিকা। প্রায় দশ বছর সময় ধরে দেড় লাখেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবীর ওপর গবেষণা চালিয়ে প্যারিসের দ্য প্রিভেনটিভ অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইনভেস্টিগেশন সেন্টারের গবেষকরা সম্প্রতি রক্তচাপ কমাতে চায়ের এই ভূমিকার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছেন। আলোচিত এই গবেষণার অংশ হিসেবে গবেষণা চলাকালীন সময়ে সবমিলিয়ে এক লক্ষ ৭৭ হাজার অংশগ্রহণকারীকে তাদের চা-কফি খাবার ধরনের উপর নির্ভর করে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম দলে ছিলেন যারা চা বা কফি পান করেন না, দ্বিতীয় দলে ছিলেন যারা দিনে এক থেকে চার কাপ পর্যন্ত চা-কফি পান করেন এবং তৃতীয় দলে ছিলেন এর চাইতেও বেশি চা-কফি খাওয়া লোকেরা। এই তিন দলের ব্যক্তিদের রক্তচাপের তথ্য দশ বছর ধরে বিশে¬ষণ করে দেখা যায় যারা দিনে অন্তত তিন থেকে চার কাপ চা বা কফি পান করতেন তাদের রক্তচাপ যারা একেবারেই চা-কফি পান করেন না তাদের চাইতে তুলনামূলক কম থাকে। গবেষকরা আরও জানান যে, যারা বেশি করে চা পান করেন তাদের সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ কম থাকে। এর ফলে হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও চা-কফি না খাওয়া ব্যক্তিদের চাইতে কম হয়। যদিও কফির ক্ষেত্রে যারা অতিরিক্ত কফি পান করেন তাদের রক্তচাপ, স্বাভাবিক পানকারীদের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। তবে মজার বিষয় হলো অতিরিক্ত কফিপ্রেমীদের এই বাড়তি রক্তচাপও কফি না খাওয়া ব্যক্তিদের গড় রক্তচাপের চাইতে কম। এদিকে গবেষণার এ ধরনের ফলাফলের পেছনে মেডিকেল সায়েন্সের সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা যোগ করতে না পারলেও গবেষকদের ধারণা, সম্ভবত চা বা কফির উপাদানের মাঝে এমন কিছু আছে যা রক্তবাহী ধমনীগুলোকে শান্ত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক

