স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতি দিয়েও ওষুধনীতি ও স্বাস্থ্য ট্রাস্ট আইন চূড়ান্ত করেনি। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আইনসহ আরও কিছু কাজ অসমাপ্ত রেখেছে। সরকারের শেষ সময়ে এসে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী এই কাউন্সিলের কোনো সভা মন্ত্রণালয় এখনো ডাকতে পারেনি।
জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, প্রতিটি কাজই করা সম্ভব ছিল। তাতে জবাবদিহি বাড়ত। মন্ত্রণালয়ের কিছু ব্যক্তি জবাবদিহি বাড়ুক, তা চান না। দুই মাস আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেছিলেন, এসব কাজ না হলেও স্বাস্থ্যসেবা পেতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য কাউন্সিল: জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে বলা হয়েছে, ‘সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল গঠন করা হবে।’ এই কাউন্সিলের কাজ মন্ত্রণালয়কে দিকনির্দেশনা দেওয়া ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা, নজরদারি করা, দেশের পুষ্টি পরিস্থিতি দেখা। গত ২ মে প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে ৪৪ সদস্যের এই কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।
একাধিক সদস্য বলেছেন, মতামত না নিয়েই তাঁদের নাম কাউন্সিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিয়ম রক্ষার জন্য সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে এই কাউন্সিল করেছে মন্ত্রণালয়।
ওষুধনীতি: আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, ‘মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওষুধনীতি যুগোপযোগী করা হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছর দুই আগে ওষুধনীতি যুগোপযোগী করার জন্য কমিটি হয়েছিল। ওই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত একজন ওষুধ বিশেষজ্ঞ বলেন, নয় মাস আগেই ওষুধনীতি চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞাত কারণে মন্ত্রণালয় খসড়াটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠাচ্ছে না।
ট্রাস্ট: অসচ্ছল রোগীদের জন্য দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় তহবিল গঠন এবং তা পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্ট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কয়েক মাস আগে খসড়া ‘স্বাস্থ্যসেবা ট্রাস্ট আইন, ২০১২’ তৈরি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ট্রাস্ট হবে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। ট্রাস্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক থাকবেন প্রধানমন্ত্রী।
আইনের খসড়া প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, যে গতিতে কাজ হচ্ছে, তাতে এই সরকারের আমলে এই আইন চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ আইন: বেশ কিছু বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের নিজস্ব জায়গা ও হাসপাতাল নেই। পর্যাপ্তসংখ্যক নিয়মিত শিক্ষকও নেই। হাতে-কলমে শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তির সময় ইচ্ছামতো ফি ও নানা অজুহাতে টাকা নেয় কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ আছে, এদের ওপর সরকারের কার্যত নিয়ন্ত্রণ নেই। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, আইন না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ‘বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা আইন, ২০১৩’-এর প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি নেই।
সূত্র - প্রথম আলো

