উদ্বোধনের ছয় মাসের মাথায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল চিকিৎসক-সংকটে পড়েছে। এখানে ২৫ জন চিকিৎসকের স্থলে পাঁচজন কাজ করছেন। বাকি ২০ পদের মধ্যে ১৪টি শূন্য এবং ছয়জন ছুটিতে আছেন। সেবিকা, টেকনিশিয়ান-সংকটে কেবিন এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দীনেশ সূত্রধর বলেন, ‘চিকিৎসক, সেবিকা ও টেকনোলজিস্ট ছাড়া সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু কাজে লাগানো যাচ্ছে না। আরও যন্ত্রপাতি আসছে, কিন্তু পদ সৃষ্টি হয়নি। মূলত ৫০ শয্যার হাসপাতালের জনবল দিয়ে হাসপাতালটি চলছে। পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া অসম্ভব।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক গত ৩০ মে চিকিৎসক-স্বল্পতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
তত্ত্বাবধায়ক জানান, চিকিৎসা কর্মকর্তা, সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমানের ২৫টি পদের মধ্যে বর্তমানে পাঁচজন কর্মরত আছেন। এ পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের সেবা প্রদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে শূন্য পদ পূরণের জন্য লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার বা রেজিস্ট্রারের নয়টি পদের মধ্যে সাতটিই শূন্য। অবেদনবিদের তিনটি পদের সবগুলো শূন্য। চিকিৎসা কর্মকর্তার ছয়টির মধ্যে তিনটি এবং জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তার (ইএমও) তিনটি পদের একটি শূন্য। একজন চিকৎসা কর্মকর্তা অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত এবং একজন অ্যানেসথেসিয়ার প্রশিক্ষণে ছয় মাসের ছুটিতে আছেন। একজন সহকারী সার্জন অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত আছেন। একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা (প্যাথলজিস্ট) মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং একজন অসুস্থতার কারণে ছুটিতে আছেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসা নেন। এ ছাড়া প্রায় ২০০ রোগী ভর্তি থাকেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) কান্তি ভূষণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘জরুরি বিভাগে সব সময় অন্তত দুজন চিকিৎসক থাকা দরকার। বর্তমানে একজন দায়িত্ব পালন করেন। একজন রোগী দেখতে না দেখতে সাত-আটজন এসে দাঁড়িয়ে পড়েন। ভালো করে রোগী দেখা যায় না। চিৎকার শুরু হয়ে যায়।’ অপরদিকে সেবিকার ৮৬টি পদের ৪৬টি শূন্য। সেবিকা-সংকটে হাসপাতালের ১৬টি কেবিন চালু করা যাচ্ছে না। টেকনোলজিস্টের চারটি পদের মধ্যে আছেন একজন। হূদেরাগের চিকিৎসায় এবং ডায়ালাইসিসের বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি আছে। কিন্তু জনবল-সংকটে সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না।
সূত্র - প্রথম আলো

