home top banner

খবর

রেশমাকে উদ্ধার সাজানো নাটক!
০১ জুলাই, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   29

ঢাকার সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৭ দিন পর পোশাককর্মী রেশমা বেগমকে উদ্ধারের ঘটনাটি ছিল সাজানো নাটক। গতকাল রোববার প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের ট্যাবলয়েডমিরর-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
নয়তলা ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ে গত ২৪ এপ্রিল। এ ঘটনায় নিহত হন এক হাজার ১৩১ জন। এখনো নিখোঁজ আছেন কয়েক শ মানুষ। ভবনটি ধসে পড়ার ১৭ দিন পর ১০ মে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় রেশমাকে। এ ঘটনা সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
সম্প্রতি আমার দেশ পত্রিকার অনলাইনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রেশমাকে উদ্ধারের ঘটনা সরকারের সাজানো নাটক ছিল। 
সাইমন রাইটের লেখা মিরর-এর এই প্রতিবেদনে বলা হয়, রানা প্লাজার তৃতীয় তলায় রেশমার সঙ্গে কাজ করতেন এমন একজন পুরুষ কর্মী জানিয়েছেন ভবন ধসে পড়ার পর ওই দিনই তিনি এবং রেশমা একসঙ্গে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসেন। ওই সহকর্মী বলেন, ‘আমরা দুজন একসঙ্গেই হেঁটে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসি। এরপর দুদিন একই হাসপাতালে চিকৎসাধীন ছিলাম। এরপর তিনি (রেশমা) উধাও হয়ে যান। ১৭ দিন পর তাঁকে দেখলাম টেলিভিশনে। তারা এটাকে অলৌকিক ঘটনা বলে জানাল। কিন্তু এটা ছিল ধোঁকাবাজি।’
উদ্ধারের ঘটনাটি সাজানো নাটক। নানা দিক থেকে সমালোচনার শিকার হয়ে সরকার নিজেদের ভাবমূর্তি উদ্ধারে এই নাটক সাজিয়েছে—সরকারবিরোধীদের এমন প্রচারণার বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য মিরর-এর সাংবাদিক বাংলাদেশে আসেন বলে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, তাঁরা ঘটনার শিকার শ্রমিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য রেকর্ড করেছেন। রেশমার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ওই পুরুষ সহকর্মীর নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না, তিনি প্রতিহিংসার শিকার হতে পারেন। এই ভয়ে তিনি ইতিমধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রেশমা যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ওই বাড়ির কর্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর ওই দিনই রেশমাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর পাশের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নেন।
হতাহত ব্যক্তিদের যেসব স্বজন রানা প্লাজার আশপাশে অবস্থান নিয়ে দিনের পর দিন কাটিয়েছেন তাঁরা জানান, রেশমাকে উদ্ধার করার আগের দিন কোনো কারণ ছাড়াই রহস্যজনকভাবে তাঁদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়। আবার রেশমাকে উদ্ধারের পরদিন তাঁদের সেখানে যেতে দেওয়া হয়। এ ছাড়া রেশমাকে উদ্ধারের দিন ২৪ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযানের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
মিরর-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উদ্ধার হওয়ার সময় রেশমার শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর জামা-কাপড়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক শিশির আবদুল্লাহ বলেন, ‘তাঁকে (রেশমা) দেখে মনে হয়নি যে ১৭ দিন ধরে তিনি ওই বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিলেন। তা ছাড়া তিনি জানান, ইট ও ধ্বংসস্তূপ টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে তিনি আপশাশে নিহত ব্যক্তিদের পানি সংগ্রহ করে পান করেন। কিন্তু তাঁর হাত বা হাতের নখে এ ধরনের কোনো চিহ্ন ছিল না।’
ওই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে যখন বের করা হয় তখন রেশমার চোখ খোলা ছিল। এত দিন অন্ধকারে থাকার পর দিনের আলোতে চোখ মেলতে যে সমস্যা হওয়ার কথা তা তাঁর হয়নি। তাঁর পোশাকও কোঁচকানো বা অপরিচ্ছন্ন ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে মানুষের সন্দেহ ছিল। কিন্তু সরকার এটাকে ‘বিস্ময়কর’ বলে এত জোরেশোরে প্রচার করল যে মানুষ তা গ্রহণ করল। সবাই বোকা বনে গেল।’
মিরর-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরক্ষর রেশমাকে কয়েক দিন আগে ঢাকার একটি পাঁচতারা হোটেলে চাকরি দেওয়া হয়েছে বিশাল বেতনে। এ উপলক্ষে তাঁকে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয়। এ সময় সাংবাদিকেরা যখন প্রশ্ন করেন যে উদ্ধারের ঘটনাটি সাজানো ছিল কি না, তখন রেশমা রেগে যান। তিনি বলেন, ‘আমি যেখানে ছিলাম, সেখানে তো আপনারা ছিলেন না। কাজেই আপনাদের কোনো ধারণা নেই।’ এরপর কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের আর কোনো প্রশ্ন করতে দেননি। এমন কথাও শোনা যাচ্ছে যে সাজানো নাটকে রাজি হতে রেশমাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার লোভও দেখানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শুক্রবার মিরর-এর সাংবাদিক দিনাজপুরের রানীগঞ্জে রেশমার গ্রামের বাড়িতে যান। এ সময় তাঁর মা জোবেদার কাছে মেয়ের উদ্ধার অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, ‘তাঁর উদ্ধারের ঘটনাটি অলৌকিক, সবাই তাই মনে করে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখন অনেক টাকা। রেশমা নতুন চাকরি পেয়েছে।’
জোবেদা বলেন, ‘ভবনধসের ঘটনাটি জানার পর আমরা খুব চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি ও আমার স্বামী ঢাকায় চলে যাই। এরপর অন্যদের মতো আমরাও ধসে পড়া ভবনের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকি। আর দোয়া করতে থাকি, তাকে যে ভালোয় ভালোয় উদ্ধার করা যায়। কিন্তু আমাদের কোনো দোয়াই কাজে আসছিল না।’
রেশমার মা আরও বলেন, ‘১৭ দিন পর লাউডস্পিকারে ঘোষণা দেওয়া হলো, “জীবিত একজন নারীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তাঁর নাম রেশমা।” এ কথা শুনে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান ফেরার পর অন্যরা আমাকে হাসপাতালে রেশমার কাছে নিয়ে যায়। সে আমাদের সঙ্গে কথা বলল। তার হাতে একটু দাগ ছাড়া আর তেমন কিছুই হয়নি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, রেশমাকে উদ্ধারের ঘটনা সাজানো নাটক কি না, জানতে চাইলে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নূরে আলম সিদ্দিকী মিররকে বলন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।’

সূত্র - প্রথম আলো

 

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: Actress Mita Noor found dead
Previous Health News: ৩৩ হাজার ফুট উঁচুতে ব্যাকটেরিয়া!

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')