home top banner

খবর

যক্ষ্মা কর্মসূচিতে প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার জরুরি
৩০ জুন, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   53

বাংলাদেশে যক্ষ্মা পরিস্থিতির সঠিক পরিসংখ্যান তুলে ধরতে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সঙ্গে প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার ডাক্তারদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব যক্ষ্মা রোগী জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন, আমরা কেবল তাদেরই পরিসংখ্যান জানতে পারি। কিন্তু যেসব যক্ষ্মা রোগী প্রাইভেট প্র্যাকটিশনারদের থেকে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন তাদের পরিসংখ্যান জানা সম্ভব হয় না। 

যক্ষ্মা বিশেজ্ঞদের বক্তব্য হচ্ছে, যেখানেই যক্ষ্মা শনাক্ত হোক না কেন সারা দেশে যে কোনো জায়গায় এই রোগের চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়। তাই প্রাইভেট প্র্যাকটিশনারদের শনাক্ত করা রোগীদের নিকটস্থ জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতাভুক্ত ডটস সেন্টারগুলোতে রেফার করার প্রক্রিয়া জোরদার করা করলে আরও বেশি রোগীকে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এর ফলে বাংলাদেশে যক্ষ্মা পরিস্থিতির একটি সঠিক চিত্রও পাওয়া যাবে। 

নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার ব্র্যাক অফিসে যক্ষ্মার চিকিৎসা নিতে আসা সনিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্র্যাকে চিকিৎসা নেওয়ার আগে সনিয়া প্রাইভেট ডাক্তারদর থেকে চিকিৎসা নেন। কিন্তু প্রাইভেটলি চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব নয় বলে সেই ব্র্যাকের স্বাস্থ্য সেবিকার মাধ্যমে চিকিৎসা নিতে সদর অফিসে আসেন।    

এ বিষয়ে ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক মো: আকরামুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে ব্র্যাকসহ ৪৩টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে প্রাইভেট প্র্যাকটিশনারদের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন ধরনের ওরিয়েন্টেশন সভার আয়োজন করছে ব্র্যাক।

পাশাপাশি প্রাইভেট প্র্যাকটিশনারদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে যোগযোগ ও রেফারেল ব্যবস্থা জোরদার করার কথা উল্লেখ করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ জলিল চৌধুরী বলেন, “চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতায় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাংলাদেশ সফলতার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। তবে প্রাইভেট প্যাকটিশনারদের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সাথে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। যাতে করে প্রাইভেট প্যাকটিশনারদের শনাক্ত করা রোগীদের সরাসরি ডটস-এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনটিপি) সূত্র জানায়, বর্তমান বাংলাদেশে ডাইরেক্টলি অবজার্ভড ট্রিটমেন্ট শর্টকোর্স (ডটস) পদ্ধতির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের সেবা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মায় মৃতের সংখ্যা ১৯৯০ সালের তুলনায় অর্ধেকে নামিয়ে আনতে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে ডটস পদ্ধতির মাধ্যমে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বছরে যক্ষ্মা রোগে প্রতি লাখে ২২৫ জন আক্রান্ত হয়। বছরে প্রতি লাখে পুরাতন ও নতুনভাবে আক্রান্ত হয় ৪১১ জন। বছরে যক্ষ্মার কারণে প্রতি লাখে ৪৫ জন লোক মারা যায়। 
সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে যক্ষ্মারোগী শনাক্তকরণের হার ছিল ৪১ শতাংশ এবং রোগ নির্ণয়ের হার ছিল শতকরা ৮৪ ভাগ। বর্তমানে যক্ষ্মারোগী শনাক্তকরণের হার শতকরা ৭০ ভাগ।

২০১২ সালে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় এক লাখ ৬৪ হাজার সাতশ’ ৬২ জন রোগী শনাক্ত হয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছে। আর চিকিৎসার সফলতার হার শতকরা ৯২ ভাগ। তবে ৩০ শতাংশ রোগী এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। 

 

সূত্র - বাংলা নিউজ ২৪

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: Too-early solid food could lead to problems for babies
Previous Health News: অবহেলা আর বৈষম্যের শিকার এইচআইভি আক্রান্তরা

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')