ফুসফুসের জটিল সংক্রমণজনিত অসুস্থতার কারণে নেলসন ম্যান্ডেলা তিন সপ্তাহে ধরে হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তিনি প্রিটোরিয়ার মেডিক্লিনিক হার্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ম্যান্ডেলার হাসপাতালে ভর্তির দিন থেকে এ পর্যন্ত তাঁর অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য খবর হলো:
৮ জুন: দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার তরফে বলা হয়, ফুসফুসের নতুন সংক্রমণজনিত কারণে নেলসন ম্যান্ডেলা এদিন আবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা ‘গুরুতর হলেও স্থিতিশীল’।
১২ জুন: প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা বলেন, ম্যান্ডেলার চিকিৎসায় আজ সকাল থেকে আরও ভালো সাড়া মিলছে। এর আগের দিন ম্যান্ডেলার স্ত্রী গ্রাসা ম্যাশেলসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান।
১৭ জুন: ম্যান্ডেলা ‘খুব ভালোভাবে সেরে উঠছেন’ বলে জানান তাঁর মেয়েদের একজন জেনানি ম্যান্ডেলা-দামিনি। শুভকামনা জানিয়ে ম্যান্ডেলার উদ্দেশে পাঠানো অজস্র বার্তার জন্য এদিন স্ত্রী গ্রাসা বিশ্ববাসীকে ধন্যবাদ দেন।
২২ জুন: প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার কার্যালয় থেকে বলা হয়, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ নেতা হাসপাতালে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন স্থিতিশীল। তবে মার্কিন সংবাদ চ্যানেল সিবিএসের খবরে বলা হয়, ম্যান্ডেলা সাড়া দিচ্ছেন না এবং কয়েক দিন ধরে তিনি চোখ খুলছেন না।
২৩ জুন: প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টা ধরে ম্যান্ডেলার অবস্থা সংকটজনক।
২৫ জুন: সংকটজনক অবস্থার খবরে ম্যান্ডেলার গ্রামের বাড়ি কুনুতে তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা জড়ো হন।
২৬ জুন: ম্যান্ডেলার নিজ গোত্রের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি নাপিলিসি ম্যান্ডেলা বলেন, ম্যান্ডেলাকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দিয়ে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।
একই দিন প্রেসিডেন্ট জুমা তাঁর মোজাম্বিক সফর বাতিল করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ‘২০ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিভা’ ম্যান্ডেলার জন্য গোটা বিশ্ব প্রার্থনা করছে।
২৭ জুন: জ্যাকব জুমা বলেন, রাতে ম্যান্ডেলার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাঁর অবস্থা এখনো গুরুতর, কিন্তু স্থিতিশীল।
তবে এদিন ম্যান্ডেলার মেয়ে মাকাজিউই ম্যান্ডেলা বলেন, তাঁর বাবার অবস্থা খুবই গুরতর এবং যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি অত্যাসন্ন।
আফ্রিকা সফরে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এদিন সেনেগালের রাজধানী ডাকারে ম্যান্ডেলাকে ‘বিশ্ববাসীর জন্য একজন নায়ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
সূত্র - প্রথম আলো

