জিনিসপত্র ছুড়ে মারার ক্ষমতাই মানুষকে পৃথিবীর অন্যান্য প্রজাতির চেয়ে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। কাঁধের এই বিশেষ ক্ষমতাকে মানুষের বিবর্তন-প্রক্রিয়ায় সফলতম অর্জনগুলোর একটি বলে বিবেচনা করা যেতে পারে। নেচার সাময়িকীতে গত বুধবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে মার্কিন গবেষকেরা এমনটি দাবি করেছেন।
আদি মানুষ পাথর বা বর্শাজাতীয় অস্ত্র নিক্ষেপ করে শিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি আত্মরক্ষা করেছে। আর এই ছুড়ে মারার ক্ষমতার কারণেই তারা খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য আনতে সমর্থ হয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের আবাস বিস্তৃত করতে পেরেছে।
গবেষকেরা বলেন, কোনো বস্তু নিক্ষেপের জন্য মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কাঁধ। ২০ লাখ বছর আগে কাঁধের গঠনের বিকাশের ফলেই আমাদের পূর্বসূরিদের পক্ষে শিকার ও আত্মরক্ষার মতো কাজগুলো সম্ভব হয়েছিল। আর আজকের যুগে ক্রিকেট খেলায় দ্রুতগতির বোলাররা যে ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে বল করতে পারেন, সেটির মূলেও রয়েছে যুগ যুগ ধরে কাঁধের ওই ধারাবাহিক পরিবর্তন-প্রক্রিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে বেসবল খেলোয়াড়দের বল নিক্ষেপের গতি ও কাঁধের অবস্থান পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেন। এতে দেখা যায়, কাঁধে শক্তি সঞ্চয় এবং বস্তু নিক্ষেপের প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়।
সংশ্লিষ্ট গবেষক নিল রোক বলেন, বস্তু নিক্ষেপকালে হাত প্রথমে পেছনে বা লক্ষ্যবস্তুর বিপরীত দিকে যায়। তখন কাঁধের সংযোগস্থলে (টেন্ডন ও লিগামেন্ট) প্রসারণ ঘটে এবং কাঁধে স্থিতিস্থাপক শক্তি সঞ্চিত হয়। সেই শক্তি বেরিয়ে যাওয়ার সময় হাত সামনের দিকে চলে যায় এবং মানবদেহের দ্রুততম গতিটির প্রকাশ ঘটে। ফলে নির্দিষ্ট বস্তুটি দ্রুতগতিতে সামনের দিকে ছুটে যায়। পুরো প্রক্রিয়াটিকে জৈবগতিবিদ্যার (বায়োমেকানিকস) সাহায্যে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
শিম্পাঞ্জির নিক্ষেপণক্ষমতা মানুষের তুলনায় অনেক দুর্বল। অন্যান্য শারীরিক দক্ষতায় প্রাণীটি তুলনামূলক শক্তিশালী হলেও বস্তু নিক্ষেপে এদের দক্ষতা মানবশিশুর সমতুল্য। গবেষকদের ধারণা, মাংসের মতো উচ্চ ক্যালরির খাবার গ্রহণের কারণে মানুষ কাঁধের ব্যবহারের দক্ষতায় এগিয়ে যায়।
সূত্র - প্রথম আলো

