গরমে মাঝে মধ্যে লিচুতেও তেষ্টা মেটান। কারণ, তেষ্টা মেটায় লিচু। খুসখুসে কাশি যাদের, দিনে ৬-৮ টা লিচু খান। স্বস্তি মিলবে। খাওয়ার পর, বিশেষ করে দুপুরে ভাত খাওয়ার পর পেট ব্যথা হয় যাদের, তাদের জন্য এ ফল উপকারী। অন্য সময়ও খাওয়ার পর পেটের ব্যথায় শুশ্রুষাকারী। তাজা গাছপাকা লিচু খান। লিচুর মাংসল অংশ, লিচুর রস খুব উপকার করে। টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করে লিচু। টিউমার হওয়াও আটকায়। তবে কখনওই এক গোছা বা আধা গোছা লিচু খেতে যাবেন না।
লিচুর বীজে নার্ভ তথা ¯œায়ুর ব্যথা, প্রদাহ কমানোর উপদান আছে। বীজ খেতে হবে চিবিয়ে। শুকিয়ে গুঁড়িয়েও খাওয়া যায়। অ-কোষ প্রদাহ হয় যাদের, শুক্রাণুর স্বল্পতায় সন্তানের জনক হতে অক্ষম যারা, চীন দেশে তাদের লিচুর বীজ খেতে দেয়া হয়।
লিচুর খোসা জ্বাল দিয়ে ছেঁকে নেয়া পানি খেলে আন্ত্রিক অসুখ কমে এবং স্মলপক্সের দাগ ছড়ায় না। দাগ মিলিয়েও যায় তাড়াতাড়ি। লিচুর বীজ গুঁড়ো করে আন্ত্রিক রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে খাওয়ালে রোগীর পায়খানায় দৌড়ানোর ধারাবাহিকতা অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়। গলার ব্যথা, কণ্ঠনালিতে প্রদাহ হলে লিচু গাছের মূল, বাকল আর ফুল এক সঙ্গে সেদ্ধ করে নিন। সে গরম পানি একটু ঠা-া হলে তা দিয়ে গার্গল করুন। আরাম পাবেন। দক্ষিণ চীনের কোয়াংটং এবং ফুকিয়েন প্রদেশে লিচুর জন্ম। ১০৫৯ সালের চীনা সাহিত্যে লিচু গাছের ছবিসহ বর্ণনা আছে। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দিকে লিচু যায় বার্মা তথা বর্তমানের মায়ানমারে। এর ১০০ বছর পর লিচু আসে বাংলাদেশে। চীনে লিচু বাগান বা লিচু গাছ থাকে যে বাড়িতে, তার প্রতিবেশীর সঙ্গে শত্রুতা হবেই। আমাদের সে বহুল প্রচারিত টিভির বিজ্ঞাপনের মতো, ‘মালিকের গর্ব, প্রতিবেশীর ঈর্ষা।’ অ্যানালস অব ফুকিয়েন বইয়ে চীনে ৪০ জাতের লিচুর বিবরণ আছে। আর আমাদের দেশে ৩৩ ধরনের লিচু পাওয়া যায়।
এবার দেখা যাক, লিচুতে কি থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুর মাংসল অংশে ফসফরাস থাকে ৪২ মিলিগ্রাম। লোহা থাকে ১৫ মিলিগ্রাম। পটাসিয়াম ১৭০ মিলিগ্রাম। প্রোটিন, ফ্যাটের পরিমাণ নগণ্য। যেমন প্রোটিন থাকে ০.৬৮ থেকে ১ গ্রাম। ফ্যাট ০.৩ থেকে ০.৫৮ গ্রাম। তাজা অর্থাৎ গাছ থেকে পেড়ে আনা লিচুর ভক্ষণযোগ্য ১০০ গ্রামের মধ্যে উপরে উল্লিখিত পরিমাণে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো থাকে। গাছ থেকে পেড়ে ফেলার পর লিচুর তাজাভাবটা যখন মিইয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে যায়, তখন লিচুর ভিতরকার খাদ্য গুণগুলোর পরিমাণে তারতম্য ঘটে। যেমন তাজা লিচুতে অ্যাসকরবিক অ্যাসিড থাকে ২৪ থেকে ৬০ মিলিগ্রাম। আবার রাইবোফ্ল্যাভিন শুকনো লিচু এবং সদ্য পেড়ে আনা লিচুতে সমান পরিমাণেই থাকে। পরিমাণটা ০.০৫ মিলিগ্রাম। শুকনো লিচুতে এ পরিমাণটা গিয়ে দাঁড়ায় ৪২ মিলিগ্রাম। তাজা লিচুর ১০০ গ্রামে শক্তি মেলে ৬৩-৬৪ ক্যালরি। শুকনো লিচুর ১০০ গ্রামে ২৭৭ ক্যালরি। তাজা লিচুতে থিয়ামিন থাকে ১০০ গ্রামে ২৮ মাইক্রোগ্রাম। নিকোটিনিক অ্যাসিড থাকে ০.৪ মিলিগ্রাম। তাজা লিচুর ১০০ গ্রামে খাদ্য আঁশ থাকে ০.২৩ থেকে ০.৪ গ্রাম। ১০০ গ্রাম চামড়া শুকিয়ে যাওয়া লিচুতে খাদ্য আঁশ থাকে ১.৪ গ্রাম। ১০০ গ্রাম খোসা ছাড়ানো লিচুর মাংসল অংশে ক্যালসিয়াম থাকে ৮ থেকে ১০ মিলিগ্রাম। ১০০ গ্রাম শুকনো লিচুর মাংসল অংশে থাকে ৩৩ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। চীনে খোসা ছাড়ানো মাংসল অংশ দিয়ে চা খাওয়ার চল আছে। এক্ষেত্রে শুকনো লিচু চিনির কাজ করে। চায়ের স্বাদও অন্যরকম হয়। শুকনো মাংসল লিচু অংশকে চীনারা কিশমিশের মতোই খায়।
সূত্র - দৈনিক ইনকিলাব

