কুড়িগ্রামের উলিপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলের অভাবে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এখানে বিশেষজ্ঞসহ ২০ চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র ৩ জন কর্মরত রয়েছে। বিশেষ করে গাইনি, মেডিসিন এবং সার্জারি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়াও সেবিকা, স্টোর কিপার এবং ফার্মাসিস্টসহ অন্যান্য পদেও প্রয়োজনের চেয়ে কম জনবল রয়েছে।
৫ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। এখানে সেবিকার ১৫টি পদ থাকলেও ৯ জন কর্মরত রয়েছে। এ ছাড়া স্টোরকিপার, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব.) মেডিকেল টেক (ফিজিও), নার্সিং সুপারভাইজার, কার্ডিওগ্রাফার এবং কম্পাউন্ডারের একটি করে পদ শূন্য রয়েছে। চিকিৎসক না থাকায় জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে স্বাস্থ্য সহকারীরা চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম সরদার জানান, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৪ শতাধিক রোগী আসে। জরুরি বিভাগেও আসে অনেক রোগী। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে ৮০-৯০ জন রোগী ভর্তি থাকে। এ ছাড়াও সাধারণ অস্ত্রোপচার ও প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার করা হয়। মাত্র ৩ জন চিকিৎসকের পক্ষে এত রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে একমাত্র উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই জরুরি প্রসূতি সেবাকেন্দ্র (ইওসি) রয়েছে। গাইনি চিকিৎসক না থাকায় বর্তমানে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, জরুরি প্রয়োজনে জেলা সদর থেকে চিকিৎসক এনে অস্ত্রোপচার করা হয়ে থাকে। হাতিয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের জমির উদ্দিন জানান, তিনি কয়েকদিন আগে প্রসূতি স্ত্রীকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন। জরুরি ভিত্তিতে সিজারের প্রয়োজন দেখা দিলেও ডাক্তার না থাকায় বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে নিয়ে জেলা সদরে যান। অভিযোগ রয়েছে, কর্মরত ৩ চিকিৎসক হাসপাতালের চেয়ে বাইরে রোগী দেখতে বেশি পছন্দ করেন। এতে তাদের আর্থিক লাভ হয়। এ ছাড়া হাসপাতাল চলাকালে প্রায় সময় বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি প্র্রতিনিধিদের নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ফলে দূর-দূরান্তের রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।
উলিপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অজয় কুমার রায় জানান, চিকিৎসকের অভাবে এত বড় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ২০০৮ সাল থেকে গাইনি চিকিৎসক ও এ্যানেসথেসিয়া না থাকায় এই বিভাগ সুনাম হারাচ্ছে। এক্স-রে যন্ত্র মেরামতসহ জনবল বাড়ানোর জন্য সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
সূত্র - যায়যায়দিন

