টেলিভিশন (টিভি) বিনোদনের চেয়ে বেশি কিছু দিতে যাচ্ছে শিগগিরই। হূদ্যন্ত্রের গতিবিধির খবরও এবার হয়তো দেখা সম্ভব হবে টিভিতে। মার্কিন গবেষকদের দাবি, মুখমণ্ডলের নড়াচড়ার সাধারণ ভিডিওচিত্র ব্যবহার করে হূৎস্পন্দন নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ল্যাবরেটরির গবেষকেরা তৈরি করেছেন নতুন এই প্রযুক্তি। বর্তমানে প্রচলিত ভিডিও গেম প্রযুক্তি অবশ্য আগেই হূৎপিণ্ডের গতি নির্ণয়ে সাফল্যের আভাস দিয়েছিল। বায়োমেট্রিক সংবেদী (সেনসর) ব্যবহার করে নির্ণয় করা যাবে গেমাররা ঠিক কখন ঘামতে শুরু করে এবং হূৎপিণ্ডের গতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের চেতনা বা মনঃসংযোগ ওঠানামা করতে থাকে। মাইক্রোসফট কিনেকট চলতি বছরই বাজারে আনবে এই প্রযুক্তি।
তবে এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে যে কেবল মাইক্রোসফট একা কাজ করছে, তা নয়। এমআইটির গবেষকেরা দেখিয়েছেন, মাথার ছোটখাটো নড়াচড়াও রক্তের গতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর হূৎপিণ্ডের বহির্মুখী চাপের ফলেই শরীরজুড়ে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে। হূৎপিণ্ডের এই নড়াচড়ার ধরন নির্ণয় করা যাবে সাধারণ ভিডিওচিত্রের সাহায্যে। পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রক্রিয়ায় হূৎপিণ্ডের যে গতি নির্ণয় করা হয়েছে, তা ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রামে নির্ণীত গতির সঙ্গে প্রায় মিলে গেছে। এই গবেষণার ফলাফল এমআইটির অভ্যন্তরীণ একটি সম্মেলনে শিগগিরই উপস্থাপন করা হবে।
আবার গবেষকেরা বলছেন, ভিডিওচিত্র ব্যবহার করে হূৎপিণ্ডের দুটি স্পন্দনের মধ্যকার সময় ব্যবধানও নির্ণয় করা যাবে। এতে কোনো ব্যক্তির হূদেরাগের ঝুঁকি শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ভিডিওচিত্র ধারণের জন্য এমআইটির গবেষকেরা কম্পিউটার প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। প্রথমে তাঁরা মুখমণ্ডল শনাক্তকারী প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন ব্যক্তির মাথা এবং নাক ও মুখের অন্তত ৫০০ থেকে এক হাজারটি সূক্ষ্ম অংশে।
সংশ্লিষ্ট শীর্ষ গবেষক গুহ বালাকৃষ্ণণ বলেন, চোখের পাতা ফেলতে হয় বলে মুখমণ্ডলের ওই স্থান এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। হূৎপিণ্ডের গতি নেমে যাওয়ার ব্যাপারটিও এই প্রক্রিয়ায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। আবার মুখমণ্ডলের নড়াচড়া ব্যবহার না করে মাথার পেছনের অংশের পাঠ নিয়েই ব্যক্তির হূৎস্পন্দন পরিমাপ করা সম্ভব হয়েছে। এখন এই পদ্ধতি ক্যামেরাযুক্ত গেমিং সিস্টেম কেবল বক্স বা স্মার্ট টেলিভিশনে সংযুক্ত করলেই পাওয়া যাবে হূৎস্পন্দনের নিখুঁত পাঠ।
সূত্র - প্রথম আলো

