home top banner

খবর

হাসতে নেই মানা
২১ জুন, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   38

মুক্তঝরা হাসি,  মোনালিসার রহস্যময়ী হাসি, ভূবনভোলানো হাসি কিংবা অট্টহাসি- হাসির প্রকারভেদ মনে হয় বলে শেষ করা যাবে না।

 
প্রতিনিয়ত আমরা নানা ঘটনার আড়ালে-অন্তরালে অথবা মনের অজান্তেই হেসে থাকি। কিন্ত এই হাসির উপকারিতা নিয়ে আমরা কয়জনে জানি? আসুন হাসি নিয়ে জেনে নেই মজার কিছু তথ্য।
 
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত লোমালিন্ডা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ক্লিনিকাল ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ লোরেন্স বার্ক হাসি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং মজার তথ্য আবিষ্কার করেছেন।
 
বার্কের মতে, হাসি মানুষের উদ্বেগ বাড়ানো হরমোনের ‘ করটিসোল’ নিঃসরণ কমায় যা মানুষকে উদ্বেগমুক্ত করে।
 
রক্তে রোগ প্রতিরাধ বৃদ্ধি করতে নির্মল হাসির জুড়ি নাই। তিনি এ সম্পর্কে আরও বলেন, প্রতি ঘণ্টায় ১৫ সেকেন্ড অর্থাৎ দিনে ৬মিনিট করে হাসতে পারলে আমাদের বুক, কাঁধের মাংসপেশী সঙ্কুচিত-প্রসারিত হবে এবং থাকবে নিরুদ্বিগ্ন ও প্রফুল্ল।
 
অনাবিল হাসি আক্রমনাত্মক একগুঁয়ে ভাব আর ক্রোধান্বিত স্বভাবকে বদলে দিতে পারে, এছাড়া হার্টএটাকের ঝুকিঁও কমায় ।
 
বিজ্ঞানীরা নিয়মিত স্লোগান দিচ্ছেন “প্রাণ খুলে হাসুন, সুস্থ থাকুন”।
 
উইলিয়াম জেমসের মতে, যারা বেশি হাসে তারা আসলে দীর্ঘজীবী হয়। এ সম্পর্কে ডারউইন বলেন পশুরা কাঁদতে পারে, চিন্তিত হতে পারে কিন্তু হাসতে পারে না।
 
মানুষের হাসি শুধু সুস্বাস্থের জন্য ভাল তা নয় নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশেও হাসি এক ধরনের সহায়ক মাধ্যম । সুন্দর হাসিমাখা মুখ পরিবেশকে যেমন নমনীয় করে তোলে তেমনি হসিমাখা মুখের চাহনি অন্যকেও হাসতে আকৃষ্ট করে । এ জন্যই ইউরোপের মনস্তত্ববিদগণ ব্যাক্তিত্ব পরিমাপের জন্য রোগীর সাথে কৌতুক করে থাকেন । জোসেফ এডিসন বলেছেন, সব স্ষ্টৃ জীবের মধ্যে হাসির দিক দিয়েই কেবল মানূষ পৃথক । এখন কথা হচ্ছে মানুষ হাসে কেন ? উত্তর হচ্ছে বোধ শক্তি আছে বলেই অর্থাৎ নির্বোধ নয় বলেই মানুষ হাসে । বার্গসর্ন বলেন , মানুষের হাসি একটি সহজাত প্রবনতা । জীবনকে যে হালকা ভাবে নেয় সে হাসিকেও গ্রহন করে । জীবনকে যে মানুষ গভীর ভাবে দেখে সে কখনও হাসতে পারেনা । এই সংগা মেনে নিলে স্বীকার করতেই হবে, হাসি আসলে মানবিক একটা ব্যাপার ।
 
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জি. ভিলেজটাইন বাচ্চাদের হাসির ওপর জরিপ চালিয়ে দেখেছেন, শিশু জন্মের এক সপ্তাহ পরেই শিশু হাসে। তবে বেশির ভাগ শিশু তিন মাস পর হাসে । হাসি শারীরিক প্রবণতা ।
 
কারণ, হাসির সময়েই শরীরে এক ধরনের পুলক অনুভব হয় । মার্ক টোয়েলের মতে প্রাণ খুলে হাসির পরেই মানুষ তার সমগ্র অস্তিত্বে নতুন শিহরণ অনুভব করে । মনস্তাত্বিক হাইনজন বলেন, মানুষ একটা শূন্যতাকে অন্য শূন্যতা দিয়ে পূরণ করার সময় তার মধ্যে যে অনুভূতি সৃষ্টি হয় তার ফলেই মানুষ হাসে।
 
আনন্দ মানুষকে এমন এক স্তরে পৌঁছে দেয় যেখানে নিজের অজান্তেই মানুষ নিজেকে বড় মনে করে । এই কল্পনা সমন্বিত রূপই হাসি।
 
শুধু হাসির জন্যই বিশ্বের অনেক দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ছোট বড় নানা স্বুল। যেখানে রয়েছে ছেলে বুড়ো বিভিন্ন বয়সী মানুষের যাতায়াত।
 
সবারই  কম বেশি দুঃখ  থাকবে এটাই স্বাভাবিক । এটা মেনে নিয়েই তো আমাদের চলতে হচ্ছে । তাই ছোট এই জীবনটাতে দুঃখ-কষ্টকে কিছুটা  আড়ালে অন্তরালে রেখে সুস্থ থাকার সহায়ক হাসি নামক মহাষৌধ কে সবাই লুফে নেই। আসুন নিজে ভালো থাকার জন্য এবং সবাইকে ভালো রাখার জন্য মন-প্রাণ খুলে হাসি এবং মাঝে মধ্যে সুযোগ পেলে অন্যকেও হাসাই ।
 
সূত্র - বাংলা নিউজ ২৪

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: সন্তান জন্মদানে ডায়না ও কেটের একই হাসপাতাল
Previous Health News: বায়োনিক চোখে অন্ধের বিস্ময়

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')