home top banner

খবর

বায়োনিক চোখে অন্ধের বিস্ময়
২১ জুন, ১৩
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   45

ড্যানি অ্যাশওয়ার্থ। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। অন্ধ ড্যানিকে ঘিরে বসে আছে ডাক্তার ও গবেষক দল। তার চোখে বসানো হবে বায়োনিক চোখের প্রটোটাইপ। প্রথমবার আবিষ্কৃত এ যন্ত্রটি তার চোখেই বাসানো হবে।

 
সময় কাটছে উদ্বেগ উৎকন্ঠায়। ড্যানি বিস্ময় নিয়ে অপেক্ষা করছেন। কি হতে যাচ্ছে তার সঙ্গে। চোখ খুলেই তিনি কি দেখবেন? এটাও সবার কাছেই অজানা।
 
ড্যানি ধীরে ধীরে চোখ খুললেন। প্রথম চোখ খোলা মাত্রই সামনে একটা আলোর ঝলক দেখতে পেলেন। তারপর কিছু সাদা কালো লাইন ও ধোঁয়াশার মতো ছবি চোখের সামনে ভাসতে থাকল। আস্তে আস্তে চারপাশের সব কিছু উজ্জ্বল ও স্পষ্ট হয়ে উঠতে লাগল। প্রথমবার জীবনের ছবি দেখে তিনি আনন্দ ধরে রাখতে পারছিলেন না।
 
প্রসঙ্গত, এ ঘটনা ২০১১ সালের। প্রথমবারেই পরীক্ষা করে সফল হওয়া অস্ট্রেলিয়ার বায়োনিক ভিশনের গবেষক দলেরও আনন্দের অন্ত ছিল না। তারপর পথচলা শুরু। পুরো দমে কাজ। তাদের সঙ্গে যোগ দিল ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি।
 
তবে এমন গবেষণা একার পক্ষে অসম্ভব। সময়ে সময়ে বহু মানুষকে কাজ করতে হয়েছে এ গবেষণার বিভিন্ন ধাপে। তেমনই দুজন গবেষককে নিয়েই স্বপ্নযাত্রার এবারের প্রতিবেদন।
 
ওয়েনতাই লিউ:
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলসের বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ওয়েনতাই লিউ। প্রায় দুদশক ধরে বায়োনিক চোখ নিয়ে গবেষণা করছেন। বলা হয়, লিউ প্রথম গবেষক যিনি বায়োনিক চোখ নিয়ে প্রথম পর্যায়ের সফলতা পেয়েছেন।
 
লিউয়ের বায়োনিক চোখের নাম ‘আরগুস টু রেটিনাল প্রোসথিসিস’ সিস্টেম। যাদের বিভিন্ন রোগের কারণে চোখের রেটিনার লাইট সেনসিটিভ রিসিপ্টর ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায়। লিউ ও তার দল এ ধরনের অন্ধদের জন্যই কাজ শুরু করেন।
 
এ বায়োনিক চোখের জন্য রোগীর চোখে বসানো হয় মাইক্রো চিপ ও ওয়্যারলেস অ্যান্টেনার সার্কিট। যা চোখের অপটিক্যাল নার্ভকে সিগনাল অনুযায়ী ইলেকট্রিকাল ইমপাল্স পাঠায়। আর বাইরে একটা চশমাতে বসানো ক্যামেরা ও ওয়্যারলেস অ্যান্টেনার সাহায্যে ভিতরে সিগনাল পাঠানো হয়।
 
বর্তমানে এটি ৬০টি মাইক্রো চিপের সাহায্যে ৬০টি পিক্সেল নিয়ে কাজ করতে পারে। যদিও এটি আসল চোখের রেজ্যুলিউশনের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু যারা অন্ধ তাদের জন্য এটি স্বর্গ পাওয়া। তবে গবেষক দল ২৫৬ এবং ১০২৬ পিক্সেল নিয়ে এরই মধ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তারা ৭০ বছর বয়সের একজন অন্ধ মানুষের ওপর এটি পরীক্ষা করেছেন যিনি ২০ বছর বয়সে চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেন।
 
ওয়েনতাই লিও তার বায়োনিক চোখ নিয়ে বেশ আশাবাদি। তিনি বলেন, একদিন প্রতিটি মানুষ এ সুন্দর পৃথিবী দেখতে পাবে। এ পৃথিবী যে কত সুন্দর তা দেখে তাদের বিস্ময়ের অন্ত থাকবে না।
 
লিউ আরও বলেন, আমি এটি নিয়ে যত কাজ করব, তত মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে কাজ করতে পারব। হিউম্যান ব্রেইন হলো সবচেয়ে ক্ষমতাধর। তাকে একবার বুঝতে পারলেই সব কিছু সম্ভব।
 
গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিল আমি যেন ডাক্তার হই। কিন্তু আমার আগ্রহ ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। এ জন্যই এ বিষয়ে পড়াশোনা করেছি। আমি বাবাকে প্রমাণ করলাম, শুধু ডাক্তার হয়েই রোগীর সেবা করা সম্ভব না। এ জন্য প্রয়োজন উদ্ভাবক হওয়া। যা আমি হতে পেরেছি।  
 
গ্রেগ সুয়ানিং
গ্রেগ মূলত কাজ করেছেন ককলিয়ার নিয়ে। ককলিয়ার হলো কানের বিশেষ অংশ। বাইরে যে শব্দ আমাদের কানে প্রবেশ করে। সেটিকে মস্তিষ্কে পৌঁছে দেয় ককলিয়ার। মস্তিষ্ক তখন সেই অনুযায়ী আমাদের দিকনির্দেশনা দেয়। গ্রেগ ককলিয়ারের এ আইডিয়া নিয়েই কাজ শুরু করেন।
 
তার প্রধান কাজ হয় শব্দ শুনে মানুষ যেন পড়তে পারে। গ্রেগ এটিকে ককলিয়ারের বর্ধিত কাজ বলেই শুরুতে উল্লেখ করেন।
 
গ্রেগ ইউনিভার্সিটি অব নিউক্যাসেলের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার। তার দলের সবাই ককলিয়ার নিয়ে কাজ করে মূলত রাতকানাদের (রাতে যারা চোখে দেখতে পায় না) জন্যই । প্রথমে তারা একটি চিপ তৈরি করেন।
 
এটি রেটিনার সঙ্গে লাগানো থাকবে। চোখের ওপর একটি লেন্সও লাগানো হবে। যেখানে ক্যামেরা বাসানো হবে। ওই চিপটি বাইরে থেকে ছবি নেবে। তারপর চোখের লেন্সে সেই ছবি ভাসিয়ে তুলবে।
 
গ্রেগ বলেন, চিপটি যেহেতু সাধারণ আলো ব্লক করে দেবে। সেহেতু এটি অন্ধদের কাজে দেবে। প্রথম লক্ষ্য হলো অন্ধ মানুষটিকে রাত-দিন বোঝার ক্ষমতা তৈরি করে দেওয়া। ধীরে ধীরে তারা বস্তুর নড়াচড়া দেখতে পাবে। বিশেষ করে পড়তেও পারবে।
 
বায়োনিক চোখ একজনের প্রচেষ্টায় তৈরি হচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত চেষ্টায় তৈরি হচ্ছে বায়োনিক চোখ। যদিও এখনও ব্যবসায়ীক পণ্য হিসেবে বাজারে এটি আসেনি।
 
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক আরও আধুনিক বায়োনিক চোখ তৈরি করে বিষয়টি আবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এ উদ্ভাবনও দলগত প্রচেষ্টা। এভাবেই একদিন অন্ধদের জন্য আলোর পথ খুলে দেবে বিশ্বের উদ্ভাবনী গবেষকেরা।
 
সূত্র - বাংলা নিউজ ২৪

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: হাসতে নেই মানা
Previous Health News: দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ঝুঁকি

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')