স্টেম সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষণাগারেই তৈরি হচ্ছে মানুষের নাক, কান ও রক্ত সংবহনতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ। উত্তর লন্ডনের একটি গবেষণাগারসহ বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারই এ কাজে নিয়োজিত আছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
এ ধরনের গবেষণাগারগুলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাজে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নির্মাণের কাজে নিয়োজিত আছে। তবে বাস্তবে খুব কম রোগীই এখন পর্যন্ত গবেষণাগারে তৈরি অঙ্গ পেয়েছেন। এসব অঙ্গের মধ্যে রয়েছে রক্ত ও বায়ু পরিবহনে ব্যবহৃত নালী এবং চোখের পানি পরিবহনের নালী। তবে গবেষকরা আশা করছেন, তারা শীঘ্রই আরো বহু ধরনের অঙ্গ তৈরি করতে সক্ষম হবেন। এসব নতুন অঙ্গের মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ নাক। অবশ্য এর আগেও ক্যান্সারে নাক নষ্ট হয়ে যাওয়া এক ব্যক্তির দেহে কৃত্রিমভাবে তৈরি নাক স্থাপন করে সাফল্য পাওয়া গেছে।। তারা কৃত্রিমভাবে মানুষের কান তৈরিরও চেষ্টা করছেন। তবে কান তৈরি অনেক অঙ্গের তুলনায় জটিল বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা।
গবেষণাগারে মানব অঙ্গ তৈরিতে সাফল্য, তৈরি হচ্ছে নাক ও কান
এ গবেষণায় গবেষকদের দলনেতা, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের আলেক্সান্ডার সেইফালিয়ান বলেন, ‘এটা অনেকটা কেক তৈরির মতো।’
তিনি আরো বলেন, ‘তবে আমরা ভিন্ন ধরনের ওভেন ব্যবহার করছি।’
সেইফালিয়ান আরও বলেন, তিনি ও তার দল নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে গবেষণাগারে তৈরি সম্পূর্ণ নাক রোগীর দেহে স্থাপনের জন্য অনুমতি চেয়েছেন।
তবে কৃত্রিমভাবে তৈরি এ সব অঙ্গ শীঘ্রই বাজারে পাওয়া যাবে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রসঙ্গে সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অফ গোটেনবার্গের প্রফেসর সুচিত্রা সুমিত্রান-হলগারসন বলেন, ‘আমি ধারণা করছি কৃত্রিমভাবে তৈরি অঙ্গগুলো শীঘ্রই বাজারে যাবে।’
তিনি ইতোমধ্যেই কৃত্রিমভাবে তৈরি রক্ত সংবহনতন্ত্রের অংশ বহু রোগীর দেহে স্থাপন করেছেন। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
কৃত্রিম অঙ্গ স্থাপনের ঝুঁকি এখনো ডাক্তাররা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যার মধ্যে আছে কৃত্রিম অঙ্গ স্থাপনের পর ক্যান্সার বেড়ে যায় কি না, সে বিষয়ে অনুসন্ধান। -
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

