২০১২ সালে বিশ্বে বায়ু দূষণে ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে ভয়াবহ এ তথ্য। ঘরে কিংবা বাইরে অর্থাৎ রান্নার কারণে সৃষ্ট ধোঁয়া থেকে শুরু করে যানবাহনের ধোঁয়া সর্বত্রই ঘটছে বায়ু দূষণ। আর তা মানুষ এবং জীব জগতের অন্যান্য প্রাণীকূলের অস্তিত্বকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ঘরে ও বাইরে বায়ু দূষণই পরিবেশগতভাবে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সমস্যা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ দূষণে সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী ২০১২ সালে প্রতি ৮ জনে ১ জন দূষণে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। দূষণ সম্পর্কিত মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণসমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল হার্টের অসুখ, স্ট্রোক, ফুসফুসের নানা অসুখ ও ফুসফুসের ক্যান্সার। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দূষণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত অঞ্চল ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, যার মধ্যে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এবং ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক অঞ্চল, যা চীন থেকে দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান থেকে ফিলিপাইন পর্যন্ত বিস্তৃত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্মিলিতভাবে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ৫৯ লাখ। এদিকে কয়লা, কাঠ ও অন্যান্য জৈবশক্তি চালিত চুলায় রান্না গৃহস্থালী বা অভ্যন্তরীণ বায়ু দূষণের প্রধান কারণ। অভ্যন্তরীণ বায়ু দূষণে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৩ লাখ মানুষ। অন্যদিকে, রাস্তাঘাটে বায়ু দূষণে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৭ লাখ মানুষ। এর প্রধান উৎসসমূহের মধ্যে কয়লার ইঞ্জিনের থেকে শুরু করে ডিজেল ইঞ্জিন সবই রয়েছে। বহু মানুষ ঘরের ভেতরে ও বাইরে দূষণের শিকার হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে, অচিরেই তা মানুষকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। অচিরেই বিশ্বের প্রতিটি দেশকে বায়ু দূষণ রোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্র - দৈনিক মানবজমিন

