অভয়নগরের মাগুরা গ্রামের পল্লী চিকিৎসক, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার চৈতন্য মণ্ডলকে (৪৫) হত্যায় স্থানীয় কুখ্যাত ডাকাত সর্দর মেজবাউর জড়িত বলে পুলিশ অনেকটা নিশ্চিত হয়েছে। চাঁদা চেয়ে না পেয়েই এ হত্যাকাণ্ড- পুলিশ এ বিষয়েও তথ্য পেয়েছে। গত রবিবার রাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চৈতন্যকে হত্যার পর সন্ত্রাসীরা মৃতদেহ তাঁর চেম্বার ও ফার্মেসি 'সবুজ মেডিক্যাল হল'-এ তালা মেরে পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে তার দেহ পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। সোমবার বিকেলে এ ঘটনায় অভয়নগর থানায় ডাকাত সর্দার মেজবাউরকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত ৮টার দিকে মেজবাউরের নেতৃত্বে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী পেট্রলের পাত্র আর ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে মাগুরা বাজারে ঢোকে। তারা সবুজ মেডিক্যাল হলে হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চৈতন্যকে হত্যা করে। এরপর ফার্মেসিতে আগুন ধরিয়ে চলে যায়। ঘটনার এক ঘণ্টা পর ফায়ার ব্রিগেড এসে সেই আগুন নেভায়। সরেজমিনে গিয়ে গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, সবুজ মেডিক্যাল হলের সব ওষুধ আর আসবাব পুড়ে গেছে। শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে এসে বর্বরতার চিহ্ন দেখছে। চৈতন্যের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর স্ত্রী কল্পনা মণ্ডল স্বামীর জন্য মাতম করছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'যারা চাঁদা দাবি করেছিল তারাই আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। আমি খুনিদের বিচার চাই।' চৈতন্যের একটিই ছেলে সবুজ মণ্ডল। তিনি ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন। জানা যায়, চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ছয় মাস আগে মেজবাউর গং চৈতন্যকে পিটিয়ে জখম করে। তাঁর বড় ভাই কার্তিক মণ্ডলকে বোমা মেরে গুরুতর আহত করে। কার্তিক মণ্ডল এখনো অসুস্থ। এরপর থেকে চৈতন্যর কাছে চাঁদা দাবি অব্যাহত ছিল বলেই জানা গেছে।
গতকাল সোমবার পুলিশ চৈতন্যের লাশ উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, হাত-পাবিহীন লাশটি একটি বড় কয়লার দলা হয়ে পড়ে রয়েছে। লাশের সঙ্গে কোনো স্বজন নেই। এখানে কথা হয় লাশ দেখতে আসা অভয়নগর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের সঙ্গে। তিনি বলেন, যারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিচার হওয়া উচিত। তিনি অবিলম্বে খুনিদের আটকের দাবি জানান। এদিকে সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান ও সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা প্রশাসক চৈতন্যের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, 'ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের আটকের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে খুনিদের আটকের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে।' সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ মোস্তফা কামাল বলেন, 'এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি।'
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

