home top banner
Please Login or Register

খবর

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মালিকদের দাবি পরীক্ষায় অংশ নিলেই এমবিবিএস-এ ভর্তি!
১৭ জানুয়ারী, ১৪
Tagged In:  private medical college of Bangladesh  medical college admission in Bangladesh  MBBS admission exam   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   32

ভর্তির ফি না কমিয়ে মেধা স্কোর কমানোর তদবিরে নেমেছেন বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোর মালিকেরা। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেই শিক্ষার্থীদের এমবিবিএস বা বিডিএসে ভর্তি করানোর সুযোগ চান তাঁরা। এই দাবি আমলে নিয়ে দুটি সভাও করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। 

বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন আবেদন করেছে, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যেকোনো শিক্ষার্থীকেই বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে। আর বাংলাদেশ বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন মালিকপক্ষ ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন নম্বর ১২০-এর পরিবর্তে ১০০ করার দাবি জানিয়েছে। এটা অনুমোদন করা হলে ভর্তি পরীক্ষায় শূন্য নম্বর পেয়েও পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হতে পারবে।

নিজেদের প্রস্তাবের ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক ও ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তা মো. ইকরাম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বেশি হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসিতে ১০০-এর মধ্যে প্রাপ্ত স্কোর ও ভর্তি পরীক্ষায় ১০০-এর মধ্যে প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে কমপক্ষে ১২০ হলেই কেউ ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। 

এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৪ পেলে মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তির আবেদন করা যায়। দুই পরীক্ষায় জিপিএ-৪ করে পেলে তাঁর স্কোর দাঁড়ায় ৮০ (এসএসসিতে প্রতি জিপিএর জন্য ৮ এবং এইচএসসিতে ১২ ধরে)। আর দুটি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলে তার স্কোর হবে ১০০। ভর্তির জন্য লিখিত পরীক্ষা হয় ১০০ নম্বরের। জিপিএ-৪ পাওয়া প্রার্থীকে এখন লিখিত পরীক্ষায় কমপক্ষে ৪০ পেতে হয়। জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় তাঁর ২০ নম্বর পেলেই ভর্তির জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হন। এখন ভর্তির সর্বনিম্ন নম্বর ১০০ করা হলে জিপিএ-৫ পাওয়া পরীক্ষার্থীকে ভর্তির লিখিত পরীক্ষায় ০ পেলেও চলবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমান শিক্ষাবর্ষে ১৬৬-এর ওপর যাঁরা স্কোর করেছেন, কেবল তাঁরাই সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পেরেছেন। ভর্তির সর্বনিম্ন স্কোর ১২০ হওয়ায় প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী পাস করেও সরকারি কলেজে ভর্তি হতে পারেননি। শিক্ষার্থীদের এই অংশ বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার কথা। কিন্তু বিপুল ভর্তি ফির কারণে অধিকাংশের পক্ষে তা সম্ভব হয় না। 

দেশে বর্তমানে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ৬২টি। এতে আসনসংখ্যা প্রায় ছয় হাজার। এবার ভর্তি হয়েছে মাত্র চার হাজার শিক্ষার্থী। বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ১৮টি এবং আসনসংখ্যা প্রায় এক হাজার ২০০।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সূত্রগুলো জানায়, মেডিকেল কলেজে গড়ে ভর্তি ফি ১৫ লাখ টাকা। আর ডেন্টাল কলেজে ছয় লাখ টাকা। 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মূলত ভর্তির যোগ্য হয়েও এই বিপুল অঙ্কের টাকার জন্যই শিক্ষার্থীরা বেসরকারি কলেজে শিক্ষা নিতে পারছেন না। বেসরকারি কলেজগুলোর উচিত ভর্তির টাকা কমিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ দেওয়া। কিন্তু তাঁরা নেমেছেন মেধা স্কোর কমানোর তদবিরে।

ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের মধ্যে মাত্র ১০ পাওয়া শিক্ষার্থীকেও ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। এ নিয়ে ‘ভর্তির তথ্যই ভীতিকর’ শিরোনামে প্রথম আলোতে গত বছর ২৮ আগস্ট প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

জানতে চাইলে বিএমডিসির সভাপতি অধ্যাপক আবু সফি মোহাম্মদ আমিন প্রথম আলোকে বলেন, ভালো কলেজগুলোতে আসন খালি নেই। বেসরকারি কলেজগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থ মেটাতে সরকার কেন মেধাহীন শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দেবে। নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে বিচক্ষণতার পরিচয় দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদ সূত্র জানিয়েছে, মেডিকেল কলেজগুলোর মালিকপক্ষ মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করছে। তাদের দাবি, অধিকাংশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে সিট খালি পড়ে আছে। ভর্তির প্রয়োজনীয় স্কোর কমালে আসন পূর্ণ করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যসচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের ভর্তিসংক্রান্ত কমিটির সভায় এমবিবিএস ও বিডিএসে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২০। এখন এ ব্যাপারে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা হতে হবে নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে কোনো সভায়।

বাংলাদেশ বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন ১৮ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) বরাবর আবেদন করে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে মেধা স্কোর ১০০ করার অনুরোধ জানায়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত ডিসেম্বর মাসের ২৬ ও ২৯ তারিখে দুটি সভা করেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। 

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের বিরোধিতার কারণে সেই সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এরপর ২ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এক চিঠিতে বলেছে, ভর্তির স্কোর ১২০ করায় ৫০টির বেশি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ আসন শূন্য পড়ে আছে। তারা ‘এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব ছাত্রছাত্রীকে’ বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ দিতে অনুরোধ জানায়। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) এ বি এম আবদুল হান্নান ৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠি দেন। তাতে সর্বনিম্ন মেধা স্কোর ১০৫ করার সুপারিশ করেন। এতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহরও সম্মতি আছে বলে বলা হয়। জানতে চাইলে আবদুল হান্নান বলেন, ‘আমরা প্রস্তাব করেছি মাত্র। সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।’

আর সিফায়েত উল্লাহ বলেন, মেধা স্কোর না কমালে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো শিক্ষার্থীর অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে বিশিষ্ট চিকিৎসক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক রশীদ-ই-মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, ভর্তির জন্য মেধা স্কোর ১২০ রাখার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা উচিত হবে না। এতে মেধাহীনেরা মেডিকেল ও ডেন্টালে ভর্তি হবে আর দুর্নীতিবাজেরা লাভবান হবে।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: বিএসএমএমইউতে ক্যানসারের নতুন যন্ত্র
Previous Health News: মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন ক্ষতিকর নয়

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')