home top banner

খবর

প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকারিতা হারাচ্ছে
১৭ ডিসেম্বর, ১৩
Tagged In:  medicine care  antibiotics losing effectivenes   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   130

antibiotics-losing-effectiveness
টাইফয়েড রোগের চিকিৎসায় প্রচলিত বেশির ভাগ অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে গেছে, কোনো কোনোটি কার্যকারিতা হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা বলেছেন, সঠিক মাত্রায় ও সঠিক মানের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করায় টাইফয়েড ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে ওঠে। ফলে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হয় না। ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে ওঠায় টাইফয়েডের চিকিৎসা ব্যয় ১০ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।

আইসিডিডিআর,বি ২০০৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০১০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার কমলাপুর স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকার টাইফয়েডে আক্রান্ত মানুষের ওপর গবেষণা চালায়। গবেষণার আওতায় আসা রোগীদের গড় বয়স ৩২ দশমিক ৯ মাস। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব রোগীর প্রায় ৫১ শতাংশের ক্ষেত্রে তিন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক— বিটাল্যাকটাম, ক্লোরামফেনিকল ও কোট্রাইমোক্সাজল কার্যকারিতা পুরোপুরি হারিয়েছে। ৪৯ শতাংশের ক্ষেত্রে চার ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক—বিটাল্যাকটাম, ক্লোরামফেনিকল, কোট্রাইমোক্সাজল ও ন্যালিডিক্সিক এসিড কাজ করছে না। এ ছাড়া সিপ্রোফ্লক্সাসিন ৪ শতাংশের দেহে কাজ করছে না বললেই চলে, ৮৮ শতাংশের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ছিল মাঝারি ধরনের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বে প্রতিবছর ২০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। এদের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার। প্রতি বছর এ রোগে মারা যায় দুই লাখ মানুষ। তবে বাংলাদেশে প্রতিবছর কত মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়, তার সঠিক হিসাব নেই।

বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহউদদীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে আগে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক ও স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে টাইফয়েড দেখা যেত। এখন এক বছরের কম বয়সী শিশুরাও এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে। দূষিত খাবার ও পানি, অস্বাস্থ্যকর বাসস্থান ও শৌচাগার, হাত ধোয়ার অভ্যাস না থাকা প্রভৃতি কারণে অনেকে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের ডিন এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, সময়মতো টাইফয়েড ধরা না পড়লে এবং চিকিৎসা শুরু না হলে রোগীর নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি রোগীর পেটের ভেতর রক্তক্ষরণ ও ছিদ্র হয়ে যেতে পারে।
আইসিডিডিআর,বির চিকিৎসকেরা গবেষণায় দেখেছেন, মাল্টিড্রাগ রেজিসট্যান্ট টাইফয়েডে (এমডিআর টাইফয়েড—একাধিক ওষুধ যেসব রোগীর দেহে কাজ করছে না) আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

আইসিডিডিআর,বির বিজ্ঞানীরা বলেছেন, দেশে এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রচুর। তবে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এক বছরের কম বয়সী শিশুরা। দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকা থাকলেও শিশুদের জন্য টিকা নেই। এ কারণে বিজ্ঞানীরা ওষুধের যুক্তিসংগত ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া যত দিন অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ না হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত নিত্যনতুন সমস্যা দেখা দিতে থাকবে।

আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ফিরদৌসী কাদরী বলেন, ওষুধপ্রতিরোধী হয়ে ওঠায় টাইফয়েডের চিকিৎসা ক্রমেই জটিল হচ্ছে। সেফট্রিএক্সন ধরনের ইনজেকশন ও মুখে খাওয়ার সেফিক্সিম ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া এ রোগের চিকিৎসায় আর বিকল্প নেই। তবে বাংলাদেশে যে কেউ যেকোনো ওষুধ কিনতে পারেন। তাই এ দুটিও যে কত দিন কার্যকর থাকবে, তার নিশ্চয়তা নেই।

আইসিডিডিআর,বি বলেছে, আগে টাইফয়েড রোগটির চিকিৎসায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হতো। এখন খরচ হচ্ছে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধপ্রযুক্তি অনুষদের ডিন আ ব ম ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেকেই অজ্ঞতা বা অসতর্কতাবশত অ্যান্টিবায়োটিক যে মাত্রায় যত দিন খাওয়া উচিত, তত দিন খান না। একটু সুস্থ বোধ করলেই ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেন। এতে জীবাণুগুলো সুপ্ত অবস্থায় থেকে যায় এবং পরে আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তখন আর একই অ্যান্টিবায়োটিকে রোগ সহজে সারে না। এ ছাড়া নিম্নমানের ওষুধের মোড়কে যে মাত্রা লেখা থাকছে, বাস্তবে থাকছে তার চেয়ে কম। ফলে রোগী নিয়ম করে ওষুধ খেলেও লাভ হয় না।

সূত্র - সাস্থ্য বাংলা 

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: অতিরিক্ত টিভি দেখা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
Previous Health News: হার্ট চেক করার জন্য এম.আর.আই স্ক্যান সবচেয়ে ভাল

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')