home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

মৃগীরোগ
৩০ মার্চ, ১৩
  Viewed#:   151

মৃগী রোগ আমাদের দেশে একটি অতি পরিচিত রোগ৷ মৃগী রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে৷ এটা কোনো সংক্রামক রোগ নয়৷ মৃগী রোগ একটি গুরুতর স্নায়ু রোগ৷ মস্তিস্ক মানুষের শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে৷ মস্তিস্কের কোষগুলি যদি হঠাত্‌ করে অতিমাত্রায় উত্তেজিত হয়ে পড়ে তখন মৃগী রোগ দেখা যায়৷ মৃগী রোগের খিঁচুনি হয় এবং রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়৷ মৃগী রোগের একটি বৈশিষ্ট হলো রোগী বার বার আক্রান্ত হয় কিন্তু আক্রান্তের পর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়৷

কারণ:

মৃগী রোগের প্রাথমিক কারণ জানা যায়নি তবে নিম্নলিখিত কিছু কারণে মৃগী রোগ হতে পারে৷
► মাথায় আঘাত পেলে
► জটিল ও দেরিতে প্রসব হলে
► মস্তিস্কের প্রদাহ হলে যেমন-মেনিনজাইটিস
► মস্তিস্কের টিউমার হলে
► বেশি পরিমান মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে

মৃগী রোগের শ্রেণী বিভাগ

১. সাধারণ
ক) বড় ধরনের মৃগী রোগ
খ) মৃদু ধরনের মৃগী রোগ
২. শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশে

বড় ধরনের মৃগী রোগের লক্ষণ

► এই রোগ সাধারণত কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত থাকতে পারে৷ এসময় রোগীর আচরণে পরিবর্তন আসে৷
► ফিট বা খিঁচুনি হবার পূর্বে রোগী বুঝতে পারে৷
► রোগী জ্ঞান হারায় ও মাটিতে পড়ে যায়৷ সবগুলো মাংশ পেশী টান টান হয়ে যায় তখন কান্নার মত চিত্‌কার করে এবং রোগী নীল বর্ণ হতে পারে৷ সাধারণত ২০-৩০ সেকেন্ড রোগীর এ অবস্থা স্থায়ী হয়৷
► ঝঁাকুনির মত খিঁচুনি শুরু হয়৷ মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়৷ রোগী জিহ্বা কামড় দিয়ে রাখতে পারে৷ রোগীর অজান্তেই প্রস্রাব, পায়খানা বেরিয়ে আসতে পারে৷ রোগীর এ অবস্থা প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়৷
► রোগীর শরীর আস্তে আস্তে শীথিল হয়ে আসে৷ রোগী মুর্ছিত অবস্থায় থাকে ও আস্তে আস্তে গভীরঘুমে ঘুমিযে যায়৷ রোগী জেগে উঠার পর কিছু সময়ের জন্য সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারে না এবং কি ঘটেছে সে ব্যাপারে কিছুই মনে করতে পারে না৷ মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা করে৷

মৃদু ধরনের মৃগী রোগের লক্ষণ :

► হঠাত্‌ করে অজ্ঞান হয়ে যায়৷ এটা ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড স্থায়ী থাকে৷
► কখনও অজ্ঞান হওয়ার সাথে সাথে খিঁচুনি শুরু হয়৷
► খুব কম রোগী অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়৷ আবার সাথে সাথে জ্ঞান ফিরে দাঁড়িয়ে যায়৷

শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশে খিঁচুনি

এটা বিভন্ন রকমের হতে পারে৷ এখানে জ্ঞান হারানোর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই৷ শরীরের নির্দিষ্ট জায়গায় খিঁচুনি হতে পারে৷ বিভিন্ন রকমের মতিভ্রম হতে পারে৷ খিঁচুনি এক অঙ্গ থেকে বাড়তে বাড়তে পুরো শরীরে হতে পারে৷ রোগী অজ্ঞান হতে পারে আবার নাও হতে পারে৷ খিচুনি বন্ধ হওয়ার পর ঐ অঙ্গে প্যারালাইসিস হতে পারে৷

যে সকল কারণে মৃগী রোগীর খিঁচুনি হতে পারে

► ঠিকমতো ঘুমাতে না পারলে ৷
► মানসিক চাপের কারণে হতে পারে৷
► শারীরিক মানসিক অতিরিক্ত খঁাটুনী করলে হয়৷
► সংক্রমণ রোগ এবং জ্বরের কারণে হতে পারে৷
► কিছু ঔষুধ, মদ অথবা নেশা জাতীয় কিছু পান করলে হতে পারে৷
► আলোর ঝলকানি, টিভির খুব সামনা সামনি বসে টিভি দেখলে হতে পারে৷
► এছাড়াও উচ্চ শব্দ, গরম পানিতে গোসল করলে, জোরে গান বাজনা শুনলে হতে পারে৷

চিকিত্সা :

► ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে৷
► রোগীকে নিউরো মেডিসিন (স্নায়ু) বিশেষজ্ঞের সাথে যোগযোগ করতে হবে৷
► ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষুধ খেতে হবে৷

রোগী যখন ফিট হয়ে যাবে তখন করণীয়

► রোগীকে বিপদজনক জায়গা থেকে সরিয়ে আনতে হবে৷ যেমন-আগুন, পানি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি৷
► রোগী যাতে অন্য কোনো প্রকার আঘাত না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে৷
► মাথাটি পাশ ফিরিয়ে এবং সামান্য নিচের দিকে হেলান দিয়ে রাখতে হবে৷ যেন ভালোভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে ও মুখের ফেনা বা লালা গড়িয়ে পড়ে যেতে পারে৷
► রোগীর চারিদিকে মানুষের ভীড় করা যাবে না৷
► রোগীকে ঘুমাতে দিতে হবে৷ প্রয়োজনে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে৷

পরামর্শ

► যে সকল কাজ জীবনের প্রতি ঝঁুকিপূর্ণ সে সকল কাজ মৃগী রোগীদের করা উচিত নয়৷ যেমন-গাড়ী চালানো, আগুনের পাশে কাজ করা, যন্ত্রপাতি চালানো, উঁচুতে কাজ করা ইত্যাদি৷
► সঁাতার কাটা, গাড়ী চালানো, সাইকেল চালানো ইত্যাদি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে৷
► সাধারণ কাজ কর্ম যেমন- স্কুলে যাওয়া চালিয়ে যেতে হবে৷ রোগীদের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করতে হবে৷
► যে সমস্ত জিনিস মৃগী রোগের ঝঁুকি বাড়িয়ে দেয় সেগুলো বাদ দিতে হবে৷

ঔষুধ সেবন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রেজিষ্টার চিকিত্‌সকের পরামর্শ নিন৷ অন্যথায় কোন সমস্যার জন্য ডি.নেট দায়ী থাকবে না৷
????? ? ???????

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: শরীর সতেজ রাখতে সুইমিং
Previous Health Tips: Mainstream nutrition myth buster - Here are some of the biggest nutrition lies debunked

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')