home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

ত্বক-কিডনি ও সন্তান বাঁচাতে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলিদের থেকে দূরে থাকুন
০৯ মে, ১৩
  Viewed#:   318

ভারত-বাংলাদেশের বাইরে ‘ত্বক আরো ফর্সা ও উজ্জ্বল’ করার নানা ক্রিম-লোশন ইত্যাদির প্রতি এতো বেশি মোহ আর দেখা যায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। ২০১২’র জুনের Mercury in skin lightening products (English) নামের ওই প্রতিবেদনে এমন ‘প্রসাধনী’ র ভয়াবহ ক্ষতির দিকের কথা তুলে ধরা হয়।

বলা হয়, ত্বক ফর্সা ও উজ্জ্বল করার (স্কিন লাইটেনিং) এসব ক্রিমে ক্ষতিকর সব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এই কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ নানা দেশে এগুলো নিষিদ্ধ। আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের এতে রাসায়নিক ব্যবহারের মাত্রা নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে।

ত্বক কিভাবে ‘উজ্জ্বল’ করা হয়? মানুষের শরীরে থাকা প্রাকৃতিক রঞ্জক ‘মেলানিন’র কমবেশির ফলে ত্বকের রংয়ের তফাত হয়। আর এসব ক্রিমের পারদ ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ ত্বকে প্রয়োগ করলে, এই মেলানিনের ওপর তা প্রভাব বিস্তার করে, অনেক ক্ষেত্রে মেলানিনকে অপেক্ষাকৃত বেশি জায়গায় ছড়িয়ে দিয়ে ত্বকে রঙহীন সাদাটে ভাব নিয়ে আসে।

অন্যদিকে ক্ষতি যা হবার তা হয়ে যায় এই কথিত ‘ফরসাকরণ’ প্রক্রিয়ার মধ্যেই। এতে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হয় বলে বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এসব ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার ছাড়া ত্বকের কথিত ফরসাকরণ সম্ভব নয়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হলো পারদ। স্কিন লাইটেনিং নানা পণ্যে এই পারদ ব্যবহার করা হয়। যেমন গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের বিসিএসআইআর গবেষণাগারের পরীক্ষার একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, এখানে চালু ‘ফেয়ার এন্ড লাভলি’র পঞ্চাশ গ্রাম ক্রিমে রয়েছে ০.০০৯৭ পিপিএম পারদ। পহেলা থেকে চৌদ্দ জানুয়ারির মধ্যে এ বিশ্লেষণটি করা হয়েছে।

যদিও ক্রিমের প্যাকেটের গায়ে লেখা রয়েছে ‘এই ক্রিমে ত্বকের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদান বা ব্লিচ নেই।’ কিন্তু পরীক্ষা বলছে ভিন্ন কথা।

১৯৭৫ সাল থেকে ফেয়ার এন্ড লাভলি নামের ত্বক ফরসা করার ক্রিমের ব্যবসা করে আসছে ইউনিলিভার কোম্পানি। তাদের এই ত্বক ফরসার ‘প্রযুক্তি’কে বিশ্বের এক নম্বর বলেও দাবি করে আসছে তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পারদ মানুষের শরীরে বিষের মতো কাজ করে। নারীর জরায়ুতে শিশুর বেড়ে ওঠার এবং জন্ম নেয়ার পর বিশেষ কিছু সমস্যা তৈরি করে এই পারদ। এছাড়া হজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, কিডনি, ত্বক, স্নায়ু এবং চোখে পারদের বিষক্রিয়া ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ত্বক ফর্সা করার সাবান ও ক্রিমে যে অজৈব পারদ ব্যবহার করা হয়, তাতে এসব সমস্যা তৈরি হয়।

ত্বক ফর্সা করার ক্রিম বা সাবানে যেই পারদ ব্যবহার করা হয়, তা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ত্বকে ছোট ছোট লাল ফোস্কা পড়ে, ত্বককে রঙহীন করে দেয়। ত্বকে ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়। অথচ ইউনিলিভার তার ওয়েবসাইটে জানায়, ফেয়ার এন্ড লাভলি ব্যবহার করে ত্বকের ফোস্কা দূর করা সম্ভব ।

স্বাস্থ্য সংস্থা আরও জানায়, ত্বকে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক সংক্রমন প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এই পরদ মিশ্রিত ক্রিম। এসব ক্রিম ব্যবহারকারীরা দুশ্চিন্তা, বিষন্নতা, মনোবৈকল্য এবং স্নায়ুবিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

বাস্তব ক্ষতির উদাহরণ দিতে গিয়ে সংস্থাটি জানায়, ত্বক ফর্সা করার ক্রিম ব্যবহারে চৌত্রিশ বছর বয়সী এক চীনা নারীর কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে এই ক্রিম ব্যবহার বন্ধের পর তার রক্তে পারদের পরিমাণ স্বাভাবিক হতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। তবে আফ্রিকায় এমন ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা ব্যাপক।

সাবান, ক্রিম এবং অন্যান্য প্রসাধনী পণ্যে ব্যবহৃত পারদ কার্যত পানির সাথে মিশে যায়। এতে করে এই ক্ষতিকর পদার্থ পরিবেশকে দূষিত করে। খাদ্যচক্রের ভেতরে ঢুকে পড়ে। সর্বোচ্চ বিষাক্ত এই মিথাইল পারদ মাছের শরীরেও ঢুকে মাছকে বিষাক্ত করে। গর্ভবতী মহিলার যখন মিথাইল পারদে বিষাক্ত হয়ে যাওয়া মাছ খায়, তখন পারদ তাদের ভ্রুণে চলে যায়। পরবর্তীতে তার গর্ভে যে সন্তানটি জন্ম নেয় সেটি স্নায়ুবিক দুর্বলতাজনিত সমস্যায় ভোগে।

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: বলিরেখা দূর করার উপায়:
Previous Health Tips: দইয়ের উপকারিতা

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')