home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

শসার যত গুণ
১০ নভেম্বর, ১৩
Tagged In:  cucumber quality  
  Viewed#:   413

শসা, আমাদের সবার পরিচিত একটি সবজি। পৃথিবীর সর্বাধিক চাষকৃত চারটি সবজির মধ্যে এটি একটি। শসা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যে খুবই উপকারী। অনেক সময় এটিকে ‘সুপার ফুড’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

খাবারের মেন্যু সব সাজানো, আর হাতে যদি থাকে একটি সবুজ শসা কেমন হবে? নিশ্চিত খাবারের মানটি ভালো হয়ে যাবে। কেন খাবেন শসা? এ নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন। চলুন জেনে নেয়া যাক শসা খাওয়ার গুরুত্ব।
 
১. পানি খাওয়ার সময় নেই? নো প্রবলেম, একটি তাজা, ঠান্ডা শসা খেয়ে ফেলতে পারেন। পানির কাজ হয়ে যাবে ৯০ ভাগ পর্যন্ত।  

২. আপনার শরীরের ভেতরটা হঠাৎ গরম হয়ে গেলে ঠান্ডা করার জন্যে একটি শসাই যথেষ্ট। শসা আপনার চামড়াকে সূর্যের তাপদাহ থেকে রক্ষা করে।

৩. শসা শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থগুলো অপসারণে সহায়তা করে। নিয়মিত শসা খেলে কিডনির পাথরও অপসারণ হয়ে যায়।

৪. শসা শরীরের প্রতিদিনকার ভিটামিনের চাহিদার এক বিশাল অংশ পূরণ করে থাকে।ভিটামিন এ, বি এবং সি কোনটি নেই এই সবজিটিতে। শসা শরীরেরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। শরীরের শক্তি বাড়াতেও এর কোন জুরি নেই।পালং শাক আর গাজরের সঙ্গে শসার রস মিশ্রিত করে সব্জি তৈরি করলে তা শরীরেরশক্তি বৃদ্ধিতে ব্যাপক অবদান রাখে। শসার বাকলকে অবহেলা করে ফেলে দিবেন না।কেননা, শরীরের ভিটামিন সি-এর প্রতিদিনকার চাহিদার ১২ শতাংশ কেবল এই বাকলেইরয়েছে।   

৫. স্পা করতে শসার কোন জুরি নেই। কেননা, শসাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণপটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও সিলিকন। এ কারণেই বিউটি পার্লারগুলোতে শসারব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে।

৬. খাবার হজম করতে শসার ব্যাপক অবদান রয়েছে। এছাড়া, শরীরের ওজন কমানো নিয়েযারা উদ্বিগ্ন তারা নিয়মিত শসা খেতে পারেন। শসাকে স্যুপ ও সালাদ হিসেবেগ্রহণ করতে পারেন। শসা আপনার চোয়ালের শক্তি বাড়াবে। শসায় প্রচুর পরিমাণেফাইবার বা আঁশ থাকায় তা কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করে।

৭. শসা চোখের জ্বালাপোড়া দূর করতেও কাজে লাগে। ধূমপানের ফলে ধোঁয়াটে চোখ ওচোখের নিচে কালি পড়া দূর করে। কেননা, শসাতে রয়েছে এন্টি ইনফ্লেটরিপ্রপার্টিজ (এক ধরনের জ্বালা-পোড়া দূরকারী উপাদান)।

৮. আরো আছে চমক। আপাত দৃষ্টিতে সস্তা শসা ভয়াবহ ক্যান্সার প্রতিরোধেও কাজকরে। শসাতে রয়েছে সিকোইসুলারিসিরেজিনল, লারিসিরেজিনল ও পিনোরেজিনল নামকতিনটি উপাদান। এই উপাদানগুলো কয়েক ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্যাপক কাজকরে। এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার, স্তনক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার ও জরায়ুর ক্যান্সার।      

৯. ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ কমাতে শসার অবদান ব্যাপক। শসা খেলে শরীরে ইনসুলিনতৈরি হয়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া, শরীরেরকোলেস্টেরল দূর করতে শসা কাজে দেয়। শসাতে রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়াম ওম্যাগনেশিয়াম। এই তিনটি উপাদান উচ্চরক্তচাপ ও নিম্নরক্তচাপ উভয়টিইনিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

১০. মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও শসা কাজে লাগতে পারে। রোগাক্রান্ত মাড়িরজন্যে শসা খুবই উপকারী। যাদের এ ধরনের সমস্যা রয়েছে, তারা একটি শসা টুকরাআধা মিনিট ধরে মুখে গুজে রাখতে পারেন এবং জিহ্বা দিয়ে তা চাপ দিতে থাকুন, মুখ একদম ফ্রেশ হয়ে যাবে। শসা মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সহায়তা করে থাকে।

১১. চুল ও নখের সৌন্দর্য বাড়াতেও শসা সহায়তা করে থাকে। শসার রস চুলকে করে সিল্কি আর শক্ত; নখ হয় সতেজ আর উজ্জ্বল।

১২. শসাতে বিদ্যমান সিলিকা শরীরের সংযোগ স্থাপনকারী কোষগুলোকে কাজে লাগিয়েবিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শসার সাথে যদি একটু গাজরের রসমিশিয়ে খেতে পারেন, তাহলে তার আপনার গ্যেটে বাত দূর করবে।

১৩. মাথা ব্যথা দূর করতে শসা খেলে উপকারিতা পাবেন। তাছাড়া, মদ যদি একটুবেশি খেয়ে ফেলেন তাহলে একটা শসা খেতে পারেন, মাথা ধরা থেমে যাবে।

১৪. কিডনিকে সচল রাখতে শসার অবদান ব্যাপক। কিডনি যারা সচল রাখতে চান, তারা নিয়মিত শসা খেতে পারেন।

সূত্র: ওয়েবসাইট


সূত্র - natunbarta.com

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: শীতে শরীরের যত্ন
Previous Health Tips: শিশুর ডায়াপার ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')