home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

হাঁটু এবং কনুইয়ের কাল দাগ থেকে মুক্তির কার্যকর ১৫ টি টিপস
১০ অক্টোবর, ১৩
Tagged In:  skin care  
  Viewed#:   687

কনুই, হাঁটু বা গোড়ালিতে ঘষা বা চাপের কারণে যে ঘন মরা চামড়ার সৃষ্টি হয় তার জন্য সে জায়গা গুলির ত্বক কালো হয়ে যায়। ক্রমাগত টেবিলের উপর কনুইতে ভর দেয়া বা যখন আপনি হাঁটু গেড়ে বসে প্রার্থনা করেন তখন সেখানের ত্বক দেখতে কালো হয়ে যায়। কালো দাগ সহ হাঁটু বা কনুই নিয়ে শর্ট স্কার্ট  বা স্লিভলেস ড্রেস পরা মহিলাদের জন্য সত্যিই বিব্রতকর ব্যাপার। ত্বকের রং যাই হোক না কেন যে কারও কনুই বা হাঁটু কালো হয়ে যেতে পারে। বেশী মাত্রায় সূর্যের আলো এবং ত্বকের উপযুক্ত পরিচর্যা না করলে ত্বকে কালো দাগ যুক্ত হতে পারে। নানা রকম গৃহ চিকিৎসার মাধ্যমে আপনি সহজেই  কনুই এবং হাঁটুর এরকম কালো দাগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এরকমের গৃহ চিকিৎসা ত্বকের যথাযথ পরিচর্যা এবং পরিস্কারের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত।

এখানে কনুইয়ের এবং হাঁটুর কালো দাগ থেকে মুক্তির ১৫ টি গৃহ চিকিৎসা দেয়া হলঃ

১. বেকিং সোডা

ত্বক পরিস্কার করতে এবং এর কালো দাগ কমাতে বেকিং সোডা খুবই কার্যকর। দুধ ত্বকের দাগ দূর করে এবং পরিস্কার করে।

এক টেবিল চামচ বেকিং সোডা নিন এবং তা দুধের সাথে মেশান।

কনুই এবং হাঁটুতে এই মিশ্রণটি মাখুন এবং ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘষতে থাকুন।

প্রতি দুই দিনে একবার এই চিকিৎসাটি করতে থাকুন। রঙের পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এটি করতে থাকুন।

২. হলুদ, মধু এবং দুধ

হলুদের অ্যান্টিসেপ্টিক গুণাগুণ আছে এবং দুধ পরিস্কারক হিসাবে কাজ করে। মধু শুকনো ত্বকে আদ্রতা যোগ করে এবং এরও অ্যান্টিসেপ্টিক গুণাগুণ আছে। এসকল উপাদানের প্রাকৃতিক গুণাগুণ কনুই এবং হাঁটুর কালো দাগ থেকে মুক্তিতে সাহায্য করতে পারে।

দুধ এবং মধুর সাথে কিছু হলুদ মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন

কালো দাগের জায়গায় এটি প্রয়োগ করুন এবং অন্তত ২০ মিনিট রাখুন

হাত ভিজিয়ে নিন এবং ২ মিনিট ধরে ঘষতে থাকুন এবং এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৩. চিনি এবং জলপাই তেল

এ চিকিৎসাতে ব্যবহৃত চিনি ছিলে ফেলে এবং জলপাই তেল ত্বকে আদ্রতা যোগ করে।

সমপরিমাণে চিনি এবং জলপাই তেল মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন

এই মিশ্রণটি কালো কনুই এবং হাঁটুতে প্রয়োগ করুন

অন্তত ৫ মিনিট ধরে ঐ মিশ্রণটি দিয়ে ত্বক ঘষতে থাকুন

হালকা সাবান মেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৪. লেবু এবং মধু

লেবুর রসের প্রাকৃতিক পরিস্কারক গুণ আছে এবং মধু ত্বক আদ্র রাখে এবং উভয়ে মিলে ত্বককে কালো হতে বাধা দেয়। ভাল ফল পেতে এ চিকিৎসাটি সপ্তাহে অন্তত ৩ বার করুন।

একটি লেবুর রস বের করে নিন এবং এক টেবিল চামচ মধুর সাথে তা মিশিয়ে নিন

আক্রান্ত স্থানে এই লেবু এবং মধুর মিশ্রণটি মাখুন এবং কার্যকরী হওয়ার জন্য অন্তত ২০ মিনিট রেখে দিন

উজ্জ্বল ত্বক পেতে মিশ্রণটি পানি দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করে ফেলুন

৫. আটা এবং লেবু

আটা পরিস্কার করতে পারে এবং হালকা ভাবে ছিলে ফেলতে পারে। লেবু একটি প্রাকৃতিক পরিস্কার কারক এবং উভয়ে মিলে কালো দাগ কমাতে সাহায্য করে।

আটাতে কিছু লেবুর রস দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন।

মিশ্রণটি কনুই এবং হাঁটুতে মেখে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘষতে থাকুন। এটি শুকাতে দিন এবং উজ্জ্বল রঙের ত্বক পেতে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৬. জলপাই তেল

এই তেলের প্রাকৃতিক পরিস্কারক গুণ আছে এবং এটা হাঁটু এবং কনুইয়ের রুক্ষ চামড়া নরম করে সজীব এবং উজ্জ্বল করে দেয়। ঘষা খাওয়ার কারণে এবং শুকিয়ে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট কালো চামড়ার চিকিৎসার জন্য এটি সবচেয়ে সহজ চিকিৎসা।

উষ্ণ অলিভ অয়েল অন্তত দশ মিনিট ধরে হাঁটু এবং কনুইতে প্রতিদিন মালিশ করুন।

৭. ঘষে তোলার জন্য ব্রাশ

হাঁটু এবং কনুইয়ের মরা চামড়া দূর করতে যে কোন ধরণের ব্রাস বা মাজুনি ব্যবহার করতে পারেন।

গোসল করার সময় যখন ত্বক ভিজে থাকে তখন ব্রাস বা মাজুনি দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ত্বক মেজে নিতে পারেন।

৮. Cocoa Butter এবং Shea Butter

এই প্রাকৃতিক ফ্যাট গুলি ভাল আদ্রতাকারক হিসাবে কাজ করে এবং ত্বক কোমল রাখতে সাহায্য করে। শুকনা এবং খসখসে চামড়ার কারণে কালো দাগ দূর করতে এটি সাহায্য করে।

প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে কালো হয়ে যাওয়া ত্বকের জায়গায় cocoa butter বা Shea butter প্রয়োগ করুন।

৯. অ্যালোভেরা জেল

অ্যালোভেরা হাঁটু এবং কনুইতে অতিরিক্ত সূর্য রশ্মির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চামড়ার প্রভাব কমাতে পারে। এটা ত্বকের আদ্রতাও বাড়াতে পারে এবং শুস্কভাব---যা ত্বককে ক্রমে কালো করে দেয়—তা থেকে রক্ষা করে।

অ্যালোভেরার সজীব পাতা নিন এবং এর মাংসল পাতা ভেঙ্গে তা থেকে জেল বের করে নিন

আপনার কনুই এবং হাঁটুর সজীব চামড়া পেতে হাঁটু এবং কনুইতে জেল মেখে অন্তত আধা ঘণ্টা রেখে দিন।

১০. সান স্ক্রিন লোশন ব্যবহার করুন

দেহের উন্মুক্ত স্থানে সূর্য রশ্মির কারণে রঙ কালো হয়ে যাওয়া ঠেকাতে বাইরে যাওয়ার সময় সান স্ক্রিন প্রয়োগ করুন।

গ্রীষ্ম কালে রোদে বাইরে যাওয়ার সময় সান স্ক্রিন মেখে নিন

কনুই এবং হাঁটুর চামড়ার রঙ উজ্জ্বল রাখতে আপনি গোসলের পরেও এটি ময়েশ্চারাইজার হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।

১১. ভিনেগার এবং দই

এ দুটি একত্রে কালো রঙের দাগ কমাতে গৃহ চিকিৎসাতে ব্যবহার করা হয়। এগুলি ত্বক পরিস্কার করে এবং ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখে।

আক্রান্ত স্থানে ভিনেগার এবং দইয়ের মিশ্রণ মেখে শুকাতে দিন

মিশ্রণটি শুকিয়ে গেলে দুই মিনিট ধরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে জায়গাটি ঘষে তার পর ধুয়ে ফেলুন।

১২. পরিস্কারক ফল

লেবু, টমেটো এবং আঙ্গুরের মত ফলের পরিস্কারক গুণ আছে এবং এগুলি নিয়মিত ব্যবহার করে ত্বককে কালো হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।

যে কোন একটি পরিস্কারক ফলের রস নিয়মিত ত্বকে মাখুন

একেক দিন একেক রকমের ফলের রস ব্যবহার করতে পারেন।

১৩. ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন

ময়েশ্চারাইজার ত্বককে আদ্র করে এবং ত্বককে শুকিয়ে যেতে দেয় না। এটি ত্বককে কালো হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের উপর ঘর্ষণের প্রভাবও কমায়।

ত্বক সজীব এবং নমনীয় রাখতে গোসলের পর ভাল জাতের ময়েশ্চারাইজার মাখুন।

১৪. প্রাকৃতিক তেল

প্রাকৃতিক তেল ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখে এবং কালো ভাব কমায়

ত্বকের শুষ্কতা এবং কালো আভা কমাতে জলপাই তেল, সরিষার তেল বা নারিকেল তেলের মত প্রাকৃতিক তেল মাখুন।

১৫. ঝামা পাথর

ঝামা পাথর ব্যবহার করে ত্বকের কালো দাগ ঘষুন। এটা সহজে ত্বকের মৃত কোষ সমূহ দূর করতে সাহায্য করে।

গোসলের সময় মড়া চামরা দূর করতে ঝামা পাথর ব্যবহার করুন।

আপনি কি কালো কনুই এবং হাঁটু নিয়ে বিব্রত? এ সমস্যা দূরীকরণের সহজ এবং সস্তা সমাধান খুঁজছেন? তবে হাঁটু এবং কনুইয়ের কালো দাগ থেকে মুক্তি পেতে উপরের চিকিৎসাগুলি গ্রহণ করে দেখতে পারেন।

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: চুল গজানোর ৫ টি গৃহ চিকিৎসা
Previous Health Tips: রক্তের গ্রুপ ও প্রাসঙ্গিক কিছু তথ্য

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')