
ধারণা করা হয়, জেনেটিক্যাল কারণ আলঝেইমার রোগের জন্য দায়ী হতে পারে।যদিও বিজ্ঞানীরা এখনও জানেন না আলঝেইমার হওয়ার মুল কারণ কি! তবে ধারণা করা হয় জেনেটিক্যাল এবং অন্যান্য কিছু কারণ মিলিয়ে আলঝেইমার হতে পারে।তবে গবেষকরা বংশগত কারনের উপর গুরুত্তারোপ করছেন- কিভাবে এবং কি কারণে বংশগত ভাবে আলঝেইমার বাবা কিংবা মা থেকে সন্তানের হতে পারে, তা নিয়েই বিজ্ঞানীরা বিস্তর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিভাবে বংশগত এবং জেনেটিক্যাল কারণ আলঝেইমার হওয়ার পেছনে কাজ করে?
প্রতিটি মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোসোম থাকে।মানুষ সাধারণত প্রতি জোড়ার একটি ক্রোমোসোম বাবার থেকে এবং অপরটি মার থেকে গ্রহণ করে।প্রতিক্রোমোসোমেডি,এন,এডাবলহেলিক্সসর্পিলাকারে পেঁচানো অবস্থায় থাকে এবং ডি, এন,এতে জিন বিন্যস্ত থাকে।জিন বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করে।
প্রতিটি জিন কিছু কেমিক্যাল ইন্সট্রাকশান বহন করে যা শরীরের কোষকে কিভাবে প্রতিটি প্রোটিন সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে তৈরি করা যায় তার নির্দেশ দেয়।
আলঝেইমার কি একটি জেনেটিক ডিজিস?
জেনেটিক রিসার্চ থেকে প্রমান পাওয়া যায় যে, আলঝেইমার রোগের সাথে ৪ টি ক্রোমোসোম যথা ক্রমে ১,১৪,১৯ এবং ২১ এর সম্পর্ক রয়েছে।
১৯ নংক্রোমোসোমের "APOE" নামক জিনকে আলঝেইমার রোগের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।অনেক গবেষণা থেকে দেখা গেছে - "APOE" নামকজিনের "APOE4" নামক প্রকারের কারণে মানুষের জীবনে আলঝেইমার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
গবেষণার ফলাফলে মুল প্রশ্ন থেকে যায় কেন অনেক মানুষের "APOE" নামক জিনের "APOE4" প্রকার থাকার পরও আলঝেইমার হয় না? আবার অনেক ক্ষেত্রে কিছু মানুষের "APOE4" নামক জিনের প্রকার না থাকার পরও তাদের আলঝেইমার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।তাই বলা হয়, জেনেটিক্যাল এবং বংশগত কারণই আলঝেইমার হওয়ার পেছনে মুল কারণ নয়।
পারিবারিক ভাবে আলঝেইমারের সমস্যা থাকলে
অনেক সময় আলঝেইমার কোন কোন পরিবারের ক্ষেত্রে প্রবলভাবে দেখা যায়।পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই আলঝেইমার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।অনেক ক্ষেত্রে তাদের " early-onset familial Alzheimer's disease, or FAD" দেখা যায়।এসকল পরিবারের মানুষের ডি,এন,এর উপর গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান যে, এসকল পরিবারের সদস্যদের মাঝে একটি জিনে অ্যাবনরমালিটি দেখা যায় -২১ নং জিনে কিছু অ্যাবনরমালিটির কারণে একই পরিবারের মাঝে early-onset familial Alzheimer's disease, or FAD দেখা যায়।বর্তমানে গবেষণায় দেখা গেছে ১ এবং ১৪ নাম্বার জিনের কারনেও পারিবারিক ভাবে আলঝেইমারের সমস্যা দেখা যায়।
বিজ্ঞানীরা ২১ নং জিনের সাথেও আলঝেইমার রোগের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন।২১ নাম্বার জিনের একটি এক্সট্রা কপি থাকার ফলে শিশু ডাউনসিনড্রোম নিয়ে জন্মায়।ডাউনসিনড্রোমিক মানুষরা যখন বুড়ো হয়, তখন তাদের মস্তিষ্কে কিছু অ্যাবনরমালিটি দেখা যায়, যা আলঝেইমার হলে মস্তিষ্কের যে অবস্থা হয় তার সাথে মিলে যায়।
কিছু গবেষক মনে করেন আলঝেইমারের পেছনে জেনেটিক্যাল কারণ নিয়ে আর গবেষণা করার কিছু নেই।বেশির ভাগ গবেষকই বিশ্বাস করেন আলঝেইমারের পেছনে আরও অনেক জিন দায়ী থাকতে পারে।
সূত্র - webmd.com

