
সেদিন স্যারের বাসায় পরীক্ষা দেরিতে শুরু হয় তাহিয়া সামছুলের। পরীক্ষার সময় মুঠোফোন বন্ধ করে রাখতে ভুলে যায় সে। একমাত্র মেয়ের দেরি দেখে মা রেজিনা সুলতানা বারবার মুঠোফোনে কল করতে থাকেন। ফোনের রিং বাজায় মায়ের কল কেটে মুঠোফোন বন্ধ করে দেয়। তখন মা মুঠোফোন সংযোগদাতা প্রতিষ্ঠানের অটো ভয়েস টোন ‘দুঃখিত, এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না’ শুনে দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন—মেয়ের কিছু হলো না তো! এ ক্ষেত্রে তাহিয়া কেন দেরি হচ্ছে জানিয়ে মাকে আগেই একটা খুদে বার্তা পাঠিয়ে দিতে পারত।তাহলে মা তাকে পরীক্ষার সময় বারবার ফোন দিতেন না। এ তো গেল একধরনের কথা।
খুব জরুরি বা অনেকটা অকেজো কারণে অনেকেরই আরেক ধরনের অভ্যাস থাকে। তাঁরা যদি দেখেন, যাঁকে ফোন করছেন, তিনি কোনো কারণে ফোনটা ধরছেন না; তাহলে বারবার ফোন করতে থাকেন। অন্য প্রান্তের ব্যক্তিটি কোনো কাজে ব্যস্ত থাকতেই পারেন, সেটি তাঁরা বোঝেন না। আসলে আপনাকে বুঝতে হবে, কখন কাকে ফোন করবেন। দেখা যায়, অফিসের সময় শেষ করে হয়তো ব্যক্তি মাত্র ঘরে ফিরেছেন কিংবা বাসে চাপাচাপি করে বসে আছেন, সে অবস্থায় ফোন দিলে তিনি না-ও ধরতে পারেন। তখন খুদে বার্তা হতে পারে সহজ সমাধান। আপনার প্রয়োজন তাঁকে জানিয়ে রাখুন। তিনি ব্যস্ততা কমে গেলে নিশ্চয় ফোন দেবেন।
মুঠোফোন সেবা প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেডের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘কল গ্রহীতা দুবারের বেশি কল করার পরও যদি সাড়া না দেন, সে ক্ষেত্রে খুদে বার্তায় কল করার কারণ জানিয়ে রাখতে পারি। কল গ্রহীতা হয়তো সাময়িক ভাবে ব্যস্ত কিংবা মুঠোফোন থেকে দূরে থাকার কারণেই আমাদের কল ধরতে পারেন না। তাই এ ক্ষেত্রে বিচলিত না হয়ে বারবার ফোন দেওয়া উচিত নয়।’
আপনি হয়তো জানেন আপনার বস কিংবা সহকর্মী কোনো মিটিংয়ে, কিন্তু জরুরি প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে কারণ জানিয়ে খুদে বার্তা পাঠান যে তিনি ফোন ধরতে পারবেন কি না। আবার কলগ্রহীতা যদি কোনো কারণে ব্যস্ত থাকেন, সেটিও খুদে বার্তা দিয়েজানিয়ে দিতে পারেন, যাতে অন্য প্রান্তের ব্যক্তি বিচলিত না হন। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবারেই কল কেটে দিয়ে খুদে বার্তা পাঠানো উচিত। আর মুঠোফোন নীরব (সাইলেন্ট) বা বন্ধ করে রাখা উচিত। মাহমুদুর রহমান মনে করেন, ব্যস্ততার কারণে আমরা অনেক সময় মুঠোফোন থেকে দূরে থাকি, সে ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে যে নম্বর থেকে কল এসেছে, তাকে আবারও কল করা। কখনো গাড়ি চালাচ্ছেন আর ফোন ধরতে পারছেন না, সে ক্ষেত্রেও খুদে বার্তা পাঠিয়ে রাখুন।
খেয়াল রাখুন
মুঠোফোন থেকে অসাবধানতাবশত কোনো নম্বরে কল গেলে যখনই বিষয়টি টের পাবেন, তখনই দুঃখ প্রকাশ করে কল কিংবা খুদে বার্তা পাঠানো যেতে পারে।
ঘড়িরকাঁটার দিকে তাকিয়ে, অর্থাৎ সময় বুঝে কাউকে ফোন করা উচিত।
কেজো কোনো কথাবা পরে বলা যাবে—এমন বিষয়ে অফিসের সময়ের পর কাউকে ফোন করা ঠিক নয়। হয়তো জরুরি অবস্থায় ফোন দিতে হয়েছে আপনাকে, তাহলে শুরুতেই ফোনের অন্য প্রান্তের ব্যক্তি ব্যস্ত আছেন কি না, জেনে নিন।
এরপর তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি বলুন। অপরিচিত নম্বর থেকে পরিচিত কাউকে কল দিলে আপনি কলদাতাকে আগেই আপনার পরিচয় জানিয়ে খুদে বার্তা পাঠিয়ে দিন; নতুবা তিনি কল না-ওধরতে পারেন।
পরিচিত বয়স্ক কেউ কল করলে সে ক্ষেত্রে তিনি খুদে বার্তা না-ও বুঝতে পারেন। ব্যস্ততা শেষে তাঁকে জরুরি কল করুন। ফিক্সড ফোন থেকে কল দিলে কলগ্রহীতা যদি কল না ধরেন, তাহলে ব্যক্তিগত নম্বরথেকে একটি খুদে বার্তা পাঠিয়ে রাখুন; তা না হলে কলগ্রহীতা আপনার সঙ্গে আরযোগাযোগ করতে পারবেন না।
সূত্র - প্রথম আলো

