অশান্তি বা মানসিক চাপ আর ব্যাথা – এ দুটোগভীরভাবে একে অপরের সাথে জড়িত। মানসিক চাপের
কারনে ব্যাথা বা ব্যাথার কারনে মানসিক চাপ কমাতে কিছুকিছুসাইকোলজিকেল থেরাপি যেমন হিপনোসিস
বা সম্মোহন, মেডিটেশন, রিলাক্সেশন বা শিথিলায়ন খুবই কার্যকর।
আজ থাকছে রিলাক্সেশন বা শিথিলায়ন
শিথিলায়ন মানসিক চাপ আর ব্যাথা কমানোর একগুচ্ছ কৌশলমাত্র। যার মধ্যে রয়েছেঃ
প্রোগ্রেসিভ মাসল রিলাক্সেশন
এই পদ্ধতিটি সিসটেমেটিক মাসল রিলাক্সেশন বা জ্যাকবসন রিলাক্সেশন পদ্ধতি নামেও পরিচিত। এতে
আস্তে আস্তে একটি সিস্টেমেটিক ওয়েতে পায়ের আঙ্গুলের ডগা থেকে শুরুকরে উপরের দিকের মাংসপেশিকে
শিথিল করার চেষ্টা করা হয়। টানটানভাবে প্রসারিত করে ডীপ ব্রেদিং এর মাধ্যমে সমস্ত বডিতে
অক্সিজেন এর প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়া হয়। আস্তে আস্তে টেনশন কমতে থাকে। রোগী আরাম বোধ করেন।
অটোজেনিক ট্রেনিং
এই পদ্ধতিতে ভিস্যুয়াল ইমেজারি ও বডি এ্যাওয়ারনেস ব্যবহারের মাধ্যমে শিথিলায়ন করা হয়। শান্ত-
নিরিবিলি পরিবেশে শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীলতাকে কেন্দ্রিভূত করে দক্ষ গাইডের তত্বাবধানে
শিথিলায়ন প্রাকটিস করা হয়ে থাকে। এরপর থেকে রোগী নিজে নিজেই পদ্ধতিটি অনুসরন করতে পারেন।
অনেকটা মেডিটেশনের আদলে রোগী তার যন্ত্রনাসমূহকে দূরে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।
স্ট্রেস দূর করার অন্যতম কার্যকর পদ্ধতির একটি হল ব্রেদিং। এক হাত বুকের উপর রেখে অন্য হাত দিয়ে
পেটের উপর হালকা চেপে ধরে আস্তে আস্তে গভীর নিশ্বাস নিতে হয় যাতে যতদুর সম্ভব নাক দিয়ে বাতাস
গ্রহণ করা যায়। এরপর মুখ ফুলিয়ে বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড বাতাস আটকে রাখতে হয়। তারপর আস্তে
আস্তে বাতাস ছাড়তে হয়। এরপর মনে হবে সমস্ত শরীরের বিভিন্ন অংশে শিরশির করে রক্ত প্রবাহিত
হচ্ছে। ব্যাথায় তাৎক্ষনিক আরাম বোধ হবে।
শিথিলায়নের উপকারীতা
যারা ক্রোনিক ব্যাথায় ভুগছেন, শিথিলায়ন পদ্ধতিতে তাদের ব্যাথার উপশম হবে – অভিমত ন্যাশনাল
ইনস্টিটিউট অব হেলথ এর এক রিপোর্টের। অন্যান্য বেনিফিটের মধ্যে আছে মাংসপেশির টান কমে যাওয়া,
অনিদ্রা দূর হওয়া, শরীরের কর্মক্ষমতার উন্নতি হওয়া ইত্যাদি।
কিভাবে করবেন
অবশ্যই একজন দক্ষ প্রশিক্ষকের তত্বাবধানে গ্রুপে বা এককভাবে করবেন। এরপর ঘরে বসে একই
পদ্ধতি অনুসরন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে একজন লাইসেন্সধারী প্রশিক্ষকের শরনাপন্ন হলে ভাল হয়,
যদিও শিথিলায়ন থেরাপির জন্য তেমন কোন নির্দিষ্ট কাঠামোগত প্রক্রিয়া নেই।
সম্মোহন, মেডিটেশন কিংবা শিথিলায়নে সাবধানতা
যদিও এগুলোতে তেমন কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া নেই, তথাপি যাদের কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ আছে,
তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিগুলো অনুসরন না করাই ভাল। কারন এতে এ্যাবডোমিনাল টেনসিং এর কারনে
বক্ষ গহবরে প্রেসার বেড়ে যাতে পারে, নাড়ীর গতি কমে যেতে পারে, হৃদযন্ত্রে রক্তের ফিরে আসার প্রবাহ
কমে যেতে পারে ইত্যাদি।
এছাড়া আপনার যদি সাইকোসিস কিংবা এপিলেপসি’র ইতিহাস থাকে, সে ক্ষেত্রে মেডিশন করার পূর্বে
অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন। যারা পোস্ট-ট্রমা স্ট্রেস ডিজঅর্ডারে ভুগছেন বা ফলস
মেমরীতে ভুগছেন, তাদের জন্য সম্মোহন বা হিপনোসিস খুব বাজে সাইকোলজিক্যাল প্রবলেমের সৃষ্টি
করতে পারে।
আরো যারা বর্ডার লাইন পারসোনালিটি ডিজঅর্ডারে ভুগছেন, কিংবা ডিসএ্যাসোসিয়েটিভ
ডিজঅর্ডারে ভুগছেন, বার বার এ্যাবিউজের শিকার এমন রোগীদের জন্য হিপনোসিস না করানোই ভাল।
তবে যখনই করবেন, একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের গাইড নিয়ে করবেন।
ওয়েবএমডি অবলম্বনে হেলথ প্রায়র ২১।

