home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

দেরিতে কথা বলা শিশুদের জন্য বাছাই করুন সঠিক খেলনা
০৫ অগাস্ট, ১৩
  Viewed#:   397

শিশুদের বেড়ে উঠার কিছুমাইলস্টোন থাকে। যেমন একটি নির্দিষ্ট বয়সে শিশুরা বসা শেখে, সেভাবেই একটি

নির্দিষ্ট বয়সে তারা কথা বলা শুরু করে। ঐ বয়সে বা তার কিছু পরে যদি শিশুরা কথা বলা শুরু না

করে তাহলে অবশ্যই বাবা মাকে এই ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। শিশুরা যা শিখে তা খেলার মাধ্যমেই

শিখে। তাই দেরিতে কথা শিখলেও শিশু খেলার মাধ্যমেই তা সবথেকে ভাল শিখবে। তাই সঠিক খেলনা

বাছাই করেও শিশুদের কথা বলা শেখান সম্ভব। নিম্নে দেরিতে কথা বলা শিশুদের জন্য সঠিক খেলনা

বাছাইয়ের কয়েকটি টিপস উল্লেখ করা হল-

১) ব্যাটারি চালিত খেলনা নয়

যেসব খেলনা ব্যাটারি চালিত সেসব খেলনা এখনই বাদ দিন। বেশির ভাগ ব্যাটারি চালিত খেলনাই নানা রকম শব্দ করে

অথবা শব্দের সাথে চলাচল করে। এই ধরণের খেলনা কেনা বাদ দিন অথবা খেলনা থেকে ব্যাটারি খুলে রাখুন। নিজে শিশুর

সাথে বিভিন্ন খেলনা দিয়ে খেলুন এবং আওয়াজ করুন। তাকেও উদ্বুদ্ধ করুন আপনাকে অনুকরণ করতে।

তবে অনেক খেলনা ব্যাটারিতে চললেও শিশুর সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। যেমন - ব্যাটারি চালিত খেলনা

ক্যামেরা, খেলনা মাইক্রোফোন ইত্যাদি। এই ধরণের খেলনা অবশ্য শিশুর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক।

২) সৃজনশীল খেলনা

বাজারে এখন অনেক খেলনা আছে যেগুলির কোন নির্দিষ্ট আকার দেয়া থাকে না। বাচ্চারা নিজেরা খেলনাগুলিকে দিয়ে

বিভিন্ন জিনিসের আকার দিতে পারে। এই ধরনের খেলনা শিশুদের সৃজনশীলতা বাড়ায়।

৩) কিছুসাধারণ খেলনাড় উদাহরণ

নিম্নে কিছুখেলনার উদাহরন দেয়া হল। এইধরণের খেলনাগুলি শিশুদের কথা বলার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত

করতে পারে।

কাঠের ব্লক

লেগো

ব্যাটারি বিহীন কার, ট্রাক জাতীয় খেলনা যেগুলি হাত দিয়ে চালানো যায়।

রেলগাড়ি

ফার্ম অথবা পশুপাখির সেট

কিচেন এবং খাবার তৈরির খেলনা সেট

পুতুলের বাড়ি

পুতুলকে সাজানোর খেলনা

টুল সেট

রাবারের মণ্ড যা দিয়ে বিভিন্ন জিনিসের আকার দেয়া যায় এমন খেলনা

চা বানানোর সেট

৪) মেয়ে শিশুর খেলনা বা ছেলে শিশুর খেলনা আলাদা নয়

শিশুর জন্য খেলনা কেনার সময় ছেলে শিশুর খেলনা বা মেয়ে শিশুর খেলনা এরকম করে পৃথক করা উচিৎ নয়। মেয়ে শিশুরা

সব সময়ই যে পুতুল দিয়ে খেলবে এমন কোন ভ্রান্ত ধারণা রাখা উচিৎ নয়। মেয়ে শিশুদেরও ট্রাক, বাস, কার ইত্যাদি

খেলনা দিয়ে খেলার সুযোগ দিন। একই ভাবে ছেলে শিশুদেরও পুতুল, কিচেন সেট ইত্যাদি খেলনা দিয়ে খেলার সুযোগ

দিন। এখানে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশান ফর দ্য এডুকেশান অফ ইয়ং চিলড্রেন এর কিছুকথা তুলে ধরা হল - 

" ছেলে শিশুমেয়ে শিশুউভয়েরই খেলার মান যাচাই করা উচিৎ তার প্রবলেম সলভিং স্কিল, সামাজিকতা এবং

সৃজনশীলতার মাধ্যমে। দেখা গেছে, যে খেলনাগুলিকে ছেলেদের খেলনা হিসেবে আলাদা করে রাখা হত তা দিয়েই অনেক

মেয়ে শিশুঅনেক দক্ষতার সাথে খেলছে। তাই খেলনাকে ছেলে মেয়ে দিয়ে আলাদা না করে লক্ষ্য করুন কোন ধরণের

খেলনা আপনার শিশুর বিকাশে বেশি সহায়ক।"

৫) "এবিসি" এবং "123" শেখান খেলনাকে না বলুন

শিশুদের কথা শেখাতে এই ধরণের খেলনার আসলে কোন প্রয়োজন নেই। এই ধরণের খেলনা দিয়ে তাদের 

অক্ষরজ্ঞান হলেও তা তাদের কথা বলা শিখতে সহায়তা করে না। তাই শিশুদের কথা শেখার সময়টায় এই ধরণের খেলনা

বিশেষ কোন তাৎপর্য বহন করে  না।

৬) খেলনা দিয়ে এক জায়গায় বসে বসে খেলা নয়

শিশুদের খেলার সাথে সাথে শরীর নড়াচড়া করা খুবই জরুরী। এমনকি বাসার ভেতরেও। খেলনার ব্লক

দিয়ে প্রাসাদ অথবা টানেল বানানো ইত্যাদি খেলনা এই ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। নিজেদের বাসার

ভেতরে শিশুরা চড়তে পারে এমন খেলনাও রাখতে পারেন।

৭) বাইরে খেলতে ভুলবেন না

শিশুদের নিয়ে ঘরের বাইরে খেলতে কোন খেলনার প্রয়োজন হয় না। মাঝে মাঝে সন্তানদের নিয়ে পার্কে

চলে যান। শিশুদের নিজের মত খেলার সুযোগ করে দিন। তবে অনেকেরই বাসার কাছে কোন পার্ক

নেয়। তাদের জন্য নিচে কিছু খেলার টিপস দেয়া হল -

প্লাস্টিকের ছোট পুল দিয়ে খেলা

বিভিন্ন বালতি, চামচ এবং কাপ দিয়ে খেলা

খেলনা কোদাল দিয়ে খেলা

চড়ে বসা যায় এমন খেলনা

শিশুদের প্লেহাউস

৮) কমই হল বেশি

যদিও আজকের নিবন্ধে আমরা শিশুদের কথা দ্রুত শেখাবার বিভিন্ন খেলনার ব্যাপারে উল্লেখ করেছি কিন্তু

একটা জিনিস মাথায় রাখুন শিশুদের শুধু খেলনার পর খেলনা কিনে দেয়াই যথেষ্ট নয়। অনেক খেলনা

কিন্তু শিশুর বিকাশে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। বেশি খেলনা সামনে থাকলে শিশু একটি নিয়ে বেশিক্ষন

না খেলে বার বার খেলনা পরিবর্তন করে। ফলে খেলাধুলার মাধ্যমে যা শেখার কথা তা বাধাপ্রাপ্ত হয়।

৯) পূর্বের খেলনার সাথে মিল রেখে নতুন খেলনা

খাপছাড়া নানা রকম খেলনা না কিনে শিশুদের সীমিত পরিমাণ খেলনা দিন। পূর্বের কোন খেলনা দিয়ে খেলে হয়ত

আপনার শিশুর কিছুটা উন্নতি হল। তাহলে পরবর্তীতে ঐ খেলনার সাথে মিল রেখে নতুন কোন খেলনা কিনুন যেন

সে তার দক্ষতা আরও বাড়াতে পারে।

১০) খেলনা দিয়েই খেলতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই

শিশুরা সব সময় নির্দিষ্ট খেলনা দিয়ে খেলবে এবং তা দিয়েই শিখবে এমন কোন ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করা উচিৎ

নয়। অনেক সময় বালতিতে পানি নিয়ে অথবা চামচ বাটি দিয়ে শিশুর সাথে খেললেও শিশুখেলনা থেকে অনেক বেশি আনন্দ

পেতে পারে।

অনেক সময় আপনি নিজেই হতে পারেন আপনার শিশুর প্রিয় খেলনা। তার সাথে বসে শিশুদের বিভিন্ন ছড়া শুনুন।

দুজনে একই সঙ্গে ছড়া বলার চেষ্টা করুন। ছড়া গুলিকে হাস্যকর আওয়াজে তার সামনে বলুন। কখনোবা শিশুর সাথে

লুকোচুরি খেলুন।

 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: রক্তচাপের ভিন্নতা নিয়ে চিন্তিত?
Previous Health Tips: Asthma: Myth and truth

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')