home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

বিশেষ শিশুদের সামাজিকতা শেখানোর ১২ টি উপায়
০৩ অগাস্ট, ১৩
  Viewed#:   293

বিশেষ শিশুদের বেড়ে উঠা নিয়ে খুব একটা আলোচনা সচরাচর হয় না। অন্যান্য অনেক স্বাস্থ্য সম্বন্ধীয় বিষয় নিয়ে আমরা সচেতন হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অনেক ক্ষেত্রেই এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাড়তি জনসংখ্যার সাথে সাথে সারা বিশ্বে বিশেষ শিশুদের সংখ্যায়ও বাড়ছে। বাংলাদেশেও আজ অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা কম নয়। এই বিশেষ শিশুদের আর ১০ জন শিশুর মত বেড়ে উঠার জন্য হেলথপ্রায়র২১ গত কয়েকদিন ধরে প্রকাশ করছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় টিপস। বিশেষ শিশুদের প্রয়োজন বিশেষ যত্নের। আর সমাজের সবাই যদি তাদের প্রতি একটু একটু করে যত্ন ও ভালবাসা দেখায় তাহলে তারাও আর ১০ টি শিশুর মত সমাজে বড় হতে পারবে। 

আজকে আমাদের নিবন্ধে আমরা উল্লেখ করছি বিশেষ শিশুদের সামাজিকতা শেখানোর ১২ টি উপায়। বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে আপনি আপনার শিশুকে আরও সামাজিক করে গড়ে তুলতে পারেন।

১) চোখের পলক না ফেলে তাকিয়ে থাকার খেলা

আপনার শিশুকে বলুন আজ একটি মজার খেলা খেলবেন। তার সাথে চোখের পলক না ফেলে তাকিয়ে থাকার খেলা খেলুন। এই খেলার মাধ্যমে তার অন্যের চোখের দিকে তাকানোর অভ্যাস হবে।

২) কপালের দিকে তাকিয়ে থাকার খেলা

আপনার শিশুর সাথে যখন সময় পার করবেন তার সাথে বিভিন্ন গঠনমূলক খেলায় মেতে উঠুন। কোন একটি খেলনা বা স্টিকার নিয়ে আপনার কপালে বসিয়ে দিন। আপনার সন্তানকে বলুন আপনার কপালের দিকে তাকিয়ে থাকতে। এতে তার কোন একটি নির্দিষ্ট জিনিসের দিকে সঠিকভাবে তাকানোর অভ্যাস হবে।

৩) দোলনায় চড়া

যখন আপনার শিশু দোলনায় চড়ে তখন যতটুকু সম্ভব তার চোখের দিকে তাকানোর চেষ্টা করুন। কখনো কখনো খেলার নতুন নতুন নিয়ম করুন, যেমন প্রতি দোলায় আপনার শিশুর পা আপনার পায়ের সাথে লাগবে। এতে তার কোন নির্দিষ্ট কাজের প্রতি মনোযোগিতা বাড়বে।

৪) মজার মজার ভাষা শিখার বই

আমরা প্রতিনিয়ত ভাষায় অনেক বাগধারা উপমা ব্যবহার করি। আপনার শিশুকে পূর্ণ ভাষার ব্যবহার শিখাতে বাগধারার ব্যবহারও শেখাতে হবে। মজার ভাষার কোন বই নিয়ে আসুন। তাকে পড়ে শোনান। বিভিন্ন আনন্দদায়ক কথায় এই বাগধারা বা উপমাগুলি ব্যবহার করুন। যেমন - তার সাথে কোন কাজ করার সময় তাকে বলুন "এই কাজটি পানির মত সোজা"। পড়ার সাথে সাথে  বিভিন্ন কাজে কর্মের মাধ্যমে তাকে ভাষা শিক্ষায় আরও দক্ষ করে তুলুন।

৫) ইন্টারনেটের ব্যবহার

ইন্টারনেট ঘেঁটে বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার ওয়েবসাইট বের করুন। এই সব ওয়েবসাইটে বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে মজাদার শব্দ কথা শেখান হয়। আপনার শিশুকে সাথে নিয়ে এই ধরণের গেমসগুলি খেলার চেষ্টা করুন।

৬) বুদ্ধি খাটানোর খেলা

বিভিন্ন শব্দ অথবা বাগধারার প্রশ্ন এবং অর্থ আলাদা আলাদা কার্ডে লিখুন। এরপর আপনার শিশুর সাথে বসে এই কার্ডগুলি মেলানোর খেলা খেলুন।

৭) খেলার মাধ্যমে অনুভূতি শেখা

কার্ড মেলানোর খেলায় সবসময় বাগধারা, উপমা বা শব্দ ব্যবহার না করে মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুভূতির শব্দ লিখুন। এরপর সেই অনুভূতি অভিনয় করে দেখান। তাকে আপনার দেখানো অনুভূতির সাথে কার্ডে লেখা অনুভূতির শব্দ মেলাতে বলুন। মাঝে মাঝে তাকেও অভিনয় করে দেখাতে বলুন। এই ধরণের খেলায় শিশু যখন কোন অপরিচিত মানুষের সাথে পরিচিত হবে তখন সে অন্য মানুষের বিভিন্ন আচার আচরনও দ্রুত বুঝতে পারবে।

৮) অনুকরণ করার খেলা

মাঝে মাঝে শিশুর সাথে খেলতে পারেন একজন একজনকে অনুকরণ করার খেলা। কখনো নিজের নাক চেপে ধরে, মজার মজার হাস্যকর চেহারা বানিয়ে আপনার শিশুকে দেখান। তাকে বলুন আপনাকে পারলে নকল করে দেখাতে। কখনও আপনি তাকে বিভিন্ন হাস্যকর উপায়ে নকল করুন। এতে শিশুর সামাজিকতা অনেকটাই বেড়ে যায়। সে মানুষের সাথে আরও দ্রুত মিশতে শেখে।

৯) কার্ড মেলানোর খেলা

বিভিন্ন মজাদার প্রশ্ন যেমন - সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন, দেশ বিদেশের নানা প্রশ্ন এবং উত্তর বিভিন্ন কার্ডে লিখে তা মেলানোর খেলা খেলতে পারেন। এটি আপনার শিশুর বুদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

১০) কোন একটি নির্দিষ্ট টপিকের উপর খেলা

আপনার শিশুকে একটি নির্দিষ্ট প্রসঙ্গের উপর ফোকাস রাখতে একধরণের বিশেষ খেলা খেলতে পারেন। যেমন - ইংরেজি প্রতিটি অক্ষরের সাথে সাথে একটি করে ফলের নাম বলা।

১১) শিশুর সাথে আলোচনা করা

কোন একটি প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করা বিশেষ শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সাথে তাদের মত করে আলোচনা করতে হবে যেন তারা বিরক্ত না হয়, ঘাবড়ে না যায়। তার সাথে উপরোক্ত বর্ণিত পদ্ধতিগুলিতে খেলার সময় আলোচনাও ধরে রাখুন। কোন কার্ড মেলানোর পর বা কার্ড ভুল মেলালে তার সাথে মজাদার শিক্ষণীয় আলোচনা করুন। বিভিন্ন কথা এবং তার জবাবে তাকে ব্যস্ত রাখুন। এতে তার কথা বলার জড়তা দূর হতে পারে।

১২) গল্প বলার খেলা

বিভিন্ন ছবি সম্বলিত কার্ড, খেলনা সামনে রাখুন। তারপর প্রতিটি জিনিস ব্যবহার করে একটি গল্প বলার চেষ্টা করুন। প্রথমে আপনি গল্প বলার পর আপনার শিশুকে বলতে বলুন। গল্পকে মজার করে তুলতে বিভিন্ন মজার মজার ছবি খেলনা ইত্যাদি সামনে রাখুন।

  

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: শরীর সতেজ রাখতে সুইমিং
Previous Health Tips: টেনশন তোমায় দিলাম ছুটি

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')