আত্মহত্যা বা আত্মহনন (ইংরেজি: Suicide) হচ্ছে একজন নর কিংবা নারী কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়াবিশেষ। ল্যাটিন ভাষায় সুই সেইডেয়ার থেকে আত্মহত্যা শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে নিজেকে হত্যা করা। ক্লিওপেট্রার মতো ক্ষমতাবান সুন্দরী নারীও আত্মহত্যা করেছেন।
বিশ্বে প্রতি বছর ৪০ লক্ষ কিশোর কিশোরী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এর পেছনে অনেক কারণ জড়িত রয়েছে। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, বিষাক্ত দ্রব্যাদি ও অ্যালকোহলের সহজপ্রাপ্যতা।
কোনো কিশোরী নির্যাতিতা হলে, পাড়ার মাস্তান কিংবা সন্ত্রাসীদের হাত থেকে সম্ভ্রম বাঁচাতে কেউ কেউ গলায় ফাঁস দিচ্ছে, কেউ আবার কীটনাশক বা বিষ খেয়ে অপমান আর লজ্জা থেকে নিজেকে নিস্কৃতি দিচ্ছে।
অনেক টিন এজে প্রেমিক প্রেমিকা প্রেমে ব্যর্থতার কষ্ট সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে বসে। টিনএজ কিশোররা প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এক সময়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। ব্যাপকভাবে তাদের মনোজগতে ধস নামে বলে এক সময় আত্মহত্যা করে বসে।
অধিকাংশ কিশোর কিশোরী, যারা আত্মহত্যার চেষ্টা করে, এক পর্যায়ে তাদের মনোজগত এলোমেলো হয়ে পড়ে। মানসিকরোগ যেমন বিষাদে ডুবে যায় তারা। টিনএজারদের এই বিষন্নতা এবং আত্মহননের ইচ্ছে বা অনুভূতি প্রতিরোধ করা সম্ভব। জয় করা সম্ভব সমস্যাকে। মনোজগতের ঝড়, কষ্ট, রাগ, বিরক্তি, বিদ্রোহী মনোভাব কৌশলে সামাল দিতে হবে। প্রয়োজনে নিতে হবে প্রফেশনাল হেল্প।
মনোচিকিৎসায় এ ধরনের সমস্যাগুলোর যথাযথ বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা সম্ভব। টিনএজার নিজেকে হননের উদ্যোগ নিলে অবশ্যই বাবা-মাকে উদ্যোগ নিতে হবে। তাকে বুঝতে দিতে হবে যে একা নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে মনোচিকিৎসকের কাছে হাজির করা না যায়, ততক্ষণ তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। চিকিৎসার পরেও সতর্কতা কমানো যাবে না। পরিপূর্ণ চিকিৎসা না করা পর্যন্ত তার প্রতি নজর রাখতে হবে। বাবা-মার মনে রাখা জরুরি, আত্মহত্যার চিন্তা, পরিকল্পনা বা প্রচেষ্টা মানসিক চিকিৎসায় সর্বোচ্চ জরুরি অবস্থা।
যারা আত্মহত্যা করেন তারা হয়তো মনে করেন বেঁচে থাকার সব পথ রুদ্ধ। অথবা তাদের রক্তের ভেতর খেলা করে কোনো এক বিপন্ন বিস্ময়। সব সমস্যা, হতাশা, যন্ত্রণা থেকে তারা পালিয়ে যেতে চান মৃত্যুর খিড়কি দুয়ার দিয়ে। কিন্তু জীবন তো অপার সম্ভাবনাময়। যেখানে মনে হচ্ছে পথের শেষ সেখানেই হয়তো পথ বাঁক নিয়েছে নতুন দিকে। সমস্যা, সংকট, হতাশা, যন্ত্রণা জীবনে থাকবেই। এসবের মোকাবেলা করাই মানুষের কাজ। আর সমস্যা থেকে পালিয়ে যাওয়া চরমতম কাপুরুষতা। ছোটবেলা থেকেই শিশুকে এই শিক্ষা দিয়ে বড় করে তোলা প্রয়োজন যে, জীবনে যা-ই ঘটুক না কেন বেঁচে থাকতে হবে, বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে হবে। অভিমানে, অকারণে তুচ্ছ কারণে বা গুরুতর কারণে কখনোই, কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়। বরং পথ খুঁজতে হবে সমস্যা সমাধানের। আর তাহলেই হয়তো একদিন ‘ভুলে যাবে সর্বগ্লানি বিপুল গৌরবে।’
স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখুন, পোষ্টটি লাইক কমেন্ট অথবা শেয়ার করুন ।
---------------------------------------------------------------------------
সুস্থতার অভিজাত মুখপাত্র .::দেহ::. জীবনের ঠিকানা।
বাংলাভাষায় প্রথম ফেইসবুকভিত্তিক স্বাস্থ্যপত্রিকা।

