৪০ বছরের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলোচনা:
চিকিৎসাসেবার অবনতির কারণ জবাবদিহির অভাব
জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশে চিকিৎসাসেবার মানে অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জবাবদিহি প্রায় অনুপস্থিত। এ ক্ষেত্রে আইনও খুব দুর্বল। মানসম্পন্ন সেবা পেতে নাগরিক সমাজের পক্ষেও জোরদার কোনো আহ্বান নেই।
গতকাল শনিবার ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ভবনে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ৪০ বছর: অর্জন ও চ্যালেঞ্জসমূহ’ শীর্ষক আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। ডেইলি স্টার ও হেলথ প্রাইয়র-২১ যৌথভাবে এই আলোচনার আয়োজন করে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু অস্ত্রোপচার বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের সেরা চিকিৎসকেরা দিনের একটি সময় সরকারি হাসপাতালে সেবা দেন, যেখানে বিনা মূল্যে মানুষ সেবা পায়। ওই চিকিৎসকেরা বিকেলে ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্লিনিক ও হাসপাতালে রোগী দেখেন। এখানে স্বার্থের দ্বন্দ্বটি স্পষ্ট। এর সঙ্গে আছে পেশাচর্চার ক্ষেত্রে দলীয় রাজনীতির প্রভাব।
মূল উপস্থাপনায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বেসরকারি সংস্থা ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পরিচালক খায়রুল ইসলাম মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, গড় আয়ু বৃদ্ধি, টিকা কর্মসূচি, খাওয়ার স্যালাইনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৪০ বছরের অর্জনগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ ফিল্ড হসপিটাল পরবর্তী সময়ে গণস্বাস্থ্য নাম ধারণ করে। গণস্বাস্থ্যের মাঠপর্যায়ের সেবা ও ব্র্যাকের স্বাস্থ্যসেবিকারা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পথপ্রদর্শক হিসেবে স্বীকৃত।
স্বাগত বক্তব্যে ডেইলি স্টার-এর প্রতিরক্ষা ও কৌশলবিষয়ক সম্পাদক সাহেদুল আনাম খান বলেন, গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ স্বাস্থ্য খাতে নানা অর্জন আছে। সেসব অর্জন ধরে রাখার পাশাপাশি সমস্যা দূর করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দিতে হবে।
জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, পেশার প্রতি কিছু চিকিৎসকের দৃষ্টিভঙ্গি অন্য রকম। তাঁরা শুধু অর্থের জন্যই এ কাজ করেন। তাঁরা রোগ পরীক্ষার নামে কমিশন নেন, অন্যায্য ব্যবস্থাপত্র দেন। তাঁদের জবাবদিহি করার ব্যবস্থা দুর্বল।
হেলথ প্রাইয়রের চেয়ারম্যান রুবায়ুল মোর্শেদ বলেন, স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা একটি গোলমেলে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্পদে দরিদ্র নয়, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় দরিদ্র।
ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য ওমর রহমান বলেন, রোগের প্রাদুর্ভাবের বিচারে বাংলাদেশ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সংক্রামক ব্যাধি থেকে বাংলাদেশে দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসক টিমোথি লি, ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক অপর্ণা ঘোষ, বেসরকারি সমরিতা হাসপাতালের কর্মকর্তা এ বি এম হারুন, হূদেরাগ বিশেষজ্ঞ সি এম হাসান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনজেন্ডার হেলথের এ দেশীয় পরিচালক আবু জামিল ফয়সাল।

